Homeপার্বণীজানেন কি ভূত চতুর্দশীতে কেন জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ? চোদ্দো শাক খাওয়ার...

জানেন কি ভূত চতুর্দশীতে কেন জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ? চোদ্দো শাক খাওয়ার নেপথ্যে কী বিশ্বাস

ভূত চতুর্দশীকে ঘিরে বাঙালির কৌতূহল নতুন নয়। নামের মধ্যেই রয়েছে রহস্যের ইঙ্গিত। তার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ভূত-প্রেতের লোককথা, মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার বিশ্বাস। আবার চোদ্দো শাকের রীতিতে ধরা পড়ে বাংলার মাটি, ঋতু ও খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক।

তবে এই প্রথার নেপথ্যে একটি মাত্র কাহিনি রয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে নানা ব্যাখ্যা। ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য ও লোকাচার মিলেমিশে তৈরি করেছে ভূত চতুর্দশীর পরিচিত রূপ। চোদ্দো প্রদীপের আলো আর চোদ্দো শাকের স্বাদ—এই দুইয়ের মধ্যেই যেন ধরা রয়েছে বাঙালির অতীতকে মনে রাখা, অজানাকে ঘিরে কৌতূহল এবং প্রকৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকার এক দীর্ঘ গল্প।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

চোদ্দো প্রদীপের আলোয় চোদ্দো পুরুষের স্মরণ

ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যা নামতেই প্রদীপ জ্বালানোর প্রস্তুতি শুরু হয় বহু বাঙালি পরিবারে। মাটির প্রদীপে তেল ঢেলে সলতে বসানো হয়। তারপর বাড়ির বিভিন্ন কোণে, উঠোনে, তুলসীতলায় কিংবা প্রবেশপথে জ্বলে ওঠে একের পর এক আলো। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই আলোয় পথ খুঁজে পান পরিবারের মৃত পূর্বপুরুষেরা।

প্রচলিত ধারণা, কালীপুজোর আগের এই বিশেষ রাতে পিতৃকুল ও মাতৃকুলের পূর্ববর্তী চোদ্দো পুরুষের আত্মা আপনজনদের কাছে ফিরে আসেন। তাঁদের স্বাগত জানানো এবং শ্রদ্ধা জানানোর প্রতীক হিসেবেই জ্বালানো হয় চোদ্দো প্রদীপ। প্রদীপের আলো যেন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে তৈরি করে এক অদৃশ্য সেতু। 

অবশ্য এই বিশ্বাসের আক্ষরিক সত্যতা প্রমাণিত নয়। এর গুরুত্ব মূলত লোকাচার ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্যে। যে পূর্বপুরুষদের অনেকেই কোনও দিন দেখেননি, তাঁদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অনুভব করেন।

চোদ্দো প্রদীপকে ঘিরে আরও একটি লোকবিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। মনে করা হয়, দেবী চামুণ্ডা এই রাতে অশুভ শক্তিকে দূর করতে আবির্ভূত হন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অতিপ্রাকৃত সত্তাদের পথ দেখানোর জন্যও প্রদীপ জ্বালানোর কথা বলা হয় কোনও কোনও কাহিনিতে। তবে এই ব্যাখ্যাগুলির সব কটিরই যে একই শাস্ত্রীয় ভিত্তি রয়েছে, তা বলা যায় না। 

অর্থাৎ, চোদ্দো প্রদীপের আলোকে শুধু ভূত-প্রেতের ভয় দূর করার আচার হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে মৃতদের স্মরণ, পরিবারের অতীতকে সম্মান জানানো এবং অন্ধকারের মধ্যে আলোর প্রতীকী উপস্থিতি।

কেন ঠিক চোদ্দো? সংখ্যার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে উত্তর?

ভূত চতুর্দশীর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে চতুর্দশী তিথি। হিন্দু চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী, অমাবস্যার আগের তিথিই কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী। সেই তিথির সঙ্গে মিল রেখেই চোদ্দো প্রদীপ ও চোদ্দো শাকের রীতি প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।

অন্য দিকে, চোদ্দো পুরুষকে স্মরণ করার লোকবিশ্বাস সংখ্যাটিকে আরও একটি অর্থ দিয়েছে। ফলে তিথি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পারিবারিক স্মৃতির মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের যোগসূত্র।

তবে সংখ্যাটির উৎপত্তি নিয়ে একটি মাত্র ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো যথেষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এই আচার পালনের ধরন ও ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।

এখানেই লোকাচারের বিশেষত্ব। কোনও প্রথা শুধু তার সূচনাকালের অর্থেই বেঁচে থাকে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার সঙ্গে নতুন ব্যাখ্যা, পারিবারিক অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিক বিশ্বাস যুক্ত হয়। ভূত চতুর্দশীর চোদ্দো প্রদীপও তেমনই এক বহুমাত্রিক ঐতিহ্য।

 কেন খাওয়া হয় চোদ্দো শাক?

চোদ্দো শাক খাওয়ার কারণ নিয়ে মূলত তিনটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। প্রথমত, ধর্মীয় বিশ্বাস। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দো শাক খেলে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই বিশ্বাসের সঙ্গে মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং চোদ্দো প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও যুক্ত। তবে অশুভ শক্তি দূর করার এই ধারণা ধর্মীয় লোকবিশ্বাস, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিষয় নয়। 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

দ্বিতীয়ত, ঋতু পরিবর্তন ও খাদ্যাভ্যাস। কার্তিক মাসে শরৎ থেকে হেমন্তের দিকে এগোয় প্রকৃতি। বিভিন্ন ধরনের শাক খেলে শরীর নানা পুষ্টি উপাদান পায়। তবে এই রীতির সূচনা যে রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই হয়েছিল, তার নিশ্চিত প্রমাণ নেই। 

তৃতীয়ত, বাংলার কৃষি ও লোকসংস্কৃতি। চোদ্দো শাকের ঐতিহ্য শুধু চাষ করা শাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একসময় বাড়ির আশপাশ, জমির আল, পুকুরপাড় ও জলাভূমি থেকে নানা ধরনের ভোজ্য উদ্ভিদ সংগ্রহ করা হত। এই প্রথা স্থানীয় উদ্ভিদ ও খাদ্যবৈচিত্র্যের গুরুত্বও তুলে ধরে। 

কবে থেকে শুরু হয় এই প্রথা?

এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য।উদ্ভিদবিদ্যা ও লোকঔষধসংক্রান্ত গবেষণাপত্র Bhoot Choturdoshi – An Ancient Shaak Eating Ritual with Ethnomedicinal Importance-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ষোড়শ শতকে রঘুনন্দন ভট্টাচার্য রচিত কৃত্যতত্ত্ব গ্রন্থে ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দো শাক খাওয়ার বিধানের উল্লেখ পাওয়া যায়। গবেষণাটিতে এই প্রথার সঙ্গে বাস্কল বা শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণদের ঐতিহ্যের সম্পর্ক থাকার মতও তুলে ধরা হয়েছে। ceibatrust.org

এর অর্থ, চোদ্দো শাক খাওয়ার রীতির লিখিত উল্লেখ অন্তত ষোড়শ শতক পর্যন্ত পৌঁছয়। কিন্তু এই সময়েই প্রথাটির সূচনা হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। লিখিত উল্লেখের আগেও কোনও লোকাচার প্রচলিত থাকতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শাক খাওয়ার প্রথার সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও শাকদ্বীপের ঐতিহ্যের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে ভূত চতুর্দশীর নির্দিষ্ট দিনে এই আচার ঠিক কোন শতকে প্রথম শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ।

চোদ্দো শাক: ধর্মীয় রীতির সঙ্গে বাংলার মাটির সম্পর্ক

প্রদীপের আলোয় সন্ধ্যা সাজানোর আগে দুপুরের পাতে থাকে আর এক বিশেষ আয়োজন—চোদ্দো শাক। বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে এই পদটির গুরুত্ব শুধু তার স্বাদের জন্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঋতু, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক অভ্যাস।

চোদ্দো রকমের শাক সংগ্রহ করে পরিষ্কার করা, কেটে নেওয়া এবং রান্না করা—সব মিলিয়ে বাড়িতে তৈরি হয় উৎসবের নিজস্ব ব্যস্ততা। কোথাও শাকগুলি একসঙ্গে ভেজে নেওয়া হয়, কোথাও আবার স্থানীয় রীতি অনুযায়ী রান্নার ধরন বদলে যায়।

এই শাকের তালিকাও সর্বত্র এক নয়। বিভিন্ন অঞ্চলে এবং পরিবারের নিজস্ব প্রথায় শাকের নাম ও ধরন বদলাতে দেখা যায়। তবে প্রাচীন তালিকায় কয়েকটি বিশেষ শাকের উল্লেখ রয়েছে।

কোন কোন শাক নিয়ে তৈরি হয় চোদ্দো শাক?

প্রচলিত একটি তালিকায় রয়েছে— ওল শাক বা ওলপাতা, কেঁউ শাক, বেথুয়া শাক, সর্ষে শাক, কালকাসুন্দে, নিমপাতা, জয়ন্তী, শাঞ্চে বা শালিঞ্চা, গুলঞ্চ, পলতা, শেলুক,  হিঞ্চে, ভাঁটপাতা, শুষণী শাক। 

 চোদ্দো শাক খাওয়ার পিছনে কি রয়েছে স্বাস্থ্যরক্ষার ভাবনা?

চোদ্দো শাকের সঙ্গে স্বাস্থ্যরক্ষার একটি যোগসূত্রের কথা প্রায়ই বলা হয়। শরৎ থেকে হেমন্তে প্রবেশের সময় আবহাওয়া বদলায়। সেই সঙ্গে বদলে যায় প্রকৃতিতে জন্মানো উদ্ভিদের ধরন এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসও।

বাংলার গ্রামীণ জীবনে মাঠ, জলাভূমি, পুকুরপাড় কিংবা চাষের জমির আশপাশে জন্মানো নানা ধরনের ভোজ্য শাক বহুদিন ধরে খাদ্যতালিকার অংশ। আধুনিক খাদ্যবাজারের মতো সব ধরনের সবজি সারা বছর সহজে পাওয়ার সুযোগ যখন ছিল না, তখন ঋতু অনুযায়ী পাওয়া খাবারের উপর নির্ভরতা ছিল অনেক বেশি।

বিভিন্ন শাকে থাকে আঁশ, ভিটামিন ও খনিজের মতো পুষ্টি উপাদান। একাধিক ধরনের নিরাপদ শাক খেলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়তে পারে। সেই দিক থেকে চোদ্দো শাক খাওয়ার রীতির একটি ব্যবহারিক তাৎপর্য রয়েছে।

তবে এই প্রথা শুধুমাত্র রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল, এমন নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। একই ভাবে, চোদ্দো শাক খেলে নির্দিষ্ট রোগ হবে না বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে—এমন দাবিরও যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বরং বলা যায়, বাংলার ঋতুভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতি ও লোকাচারের মধ্যে চোদ্দো শাক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে। এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃতিতে পাওয়া খাবারকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা।Raise Your Concern About this Content

ভূত চতুর্দশী নামের মধ্যে কতটা ভূত, কতটা ইতিহাস?

নাম শুনে এই দিনটিকে শুধুই ভূত-প্রেতের উৎসব বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলার লোকসংস্কৃতিতে ‘ভূত’ শব্দের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত। ভূত-প্রেতকে ঘিরে গ্রামবাংলার গল্প, সাহিত্য, লোককথা এবং মানুষের কল্পনায় তৈরি হয়েছে এক বিশাল জগৎ।

ভূত চতুর্দশীর ক্ষেত্রেও অজানা জগতের প্রতি মানুষের কৌতূহল এবং মৃত্যুকে ঘিরে থাকা বিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। তবে এই দিনের আচারকে শুধুমাত্র ভয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে তার সাংস্কৃতিক অর্থ সম্পূর্ণ বোঝা যায় না।

মৃত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা মানুষের বহু পুরনো সামাজিক ও ধর্মীয় অভ্যাস। একই ভাবে, অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালানোও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শুভ, আশা এবং আলোর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ভূত চতুর্দশীতে এই দুই ভাবনার মিলন ঘটেছে বলে ব্যাখ্যা করা যায়।

আবার চোদ্দো শাকের রীতি মনে করিয়ে দেয়, বাংলার উৎসব শুধু পুজো বা মন্দিরকেন্দ্রিক নয়। রান্নাঘর, কৃষিজীবন, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং ঋতুভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসও উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই কারণেই ভূত চতুর্দশীকে বাঙালির লোকসংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বলা যায়। এর মধ্যে যেমন রয়েছে অজানাকে ঘিরে রহস্য, তেমনই রয়েছে পরিবার, প্রকৃতি এবং স্মৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক।

 বদলে যাওয়া সময়েও কেন টিকে রয়েছে এই রীতি?

সময় বদলেছে। শহরের ছোট ফ্ল্যাটে আর আগের মতো উঠোন নেই, অনেক শাক সারা বছর বাজারে মেলে না, আর কর্মব্যস্ত জীবনে সব আচার পালন করাও সহজ নয়। তবু বহু পরিবারে ভূত চতুর্দশীর চোদ্দো প্রদীপ ও চোদ্দো শাকের রীতি আজও বজায় রয়েছে।

কেউ ছোটবেলার স্মৃতি থেকে প্রদীপ জ্বালান, কেউ পরিবারের বয়স্কদের শেখানো নিয়ম মেনে চোদ্দো শাক রান্না করেন। আবার কেউ এই দিনটিকে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপলক্ষ হিসেবে দেখেন।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

এই রীতির স্থায়িত্বের পিছনে তাই শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, পারিবারিক অনুভূতিও কাজ করে। উৎসবের দিনগুলি মানুষকে নিজের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। যাঁরা আজ নেই, তাঁদের স্মৃতি ফিরে আসে পরিবারের গল্পে, পুরনো ছবিতে, পরিচিত রান্নার স্বাদে কিংবা সন্ধ্যার প্রদীপের আলোয়।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ ভাবেই কোনও প্রথা টিকে থাকে। তার সব ব্যাখ্যা যে একই রকম থাকে, তা নয়। কিন্তু প্রথাটিকে ঘিরে মানুষের অনুভূতি এবং পরিবারের অংশ হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে বাঁচিয়ে রাখে।

পরিশেষে বলা যায়, ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠা চোদ্দো প্রদীপ আর দুপুরের পাতে সাজানো চোদ্দো শাক—দুটি আলাদা আচার হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যের গভীর যোগসূত্র। এক দিকে পূর্বপুরুষদের স্মরণ, অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার লোকবিশ্বাস এবং অন্ধকারে আলোর প্রতীকী উপস্থিতি। অন্য দিকে, ঋতুভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, স্থানীয় উদ্ভিদের ব্যবহার এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্ক।

এই রীতিগুলির উৎপত্তি নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর আজও স্পষ্ট নয়। কোনও ব্যাখ্যা লোককথানির্ভর, কোনওটি ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ, আবার কোনওটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলার দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা। তাই একটিমাত্র ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে এই প্রথার বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে দেখা জরুরি। শেষ পর্যন্ত ভূত চতুর্দশীর সৌন্দর্য শুধু চোদ্দোটি প্রদীপের সংখ্যায় কিংবা চোদ্দো রকমের শাকের স্বাদে সীমাবদ্ধ নয়। এর আসল আকর্ষণ সেই স্মৃতিতে, যা অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগ তৈরি করে; সেই বিশ্বাসে, যা অন্ধকারের মধ্যে আলোর প্রতীক খুঁজে পায়; আর সেই ঐতিহ্যে, যা প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া উপাদানকে উৎসবের অংশ করে তোলে।

তথ্যসূত্র :

১. ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে চোদ্দো শাকের সম্পর্ক
২. ১৪  প্রদীপ কেন জ্বালানো হয়
৩. ১৪ শাক কেন খাওয়া হয়
৪. ভূত  চতুর্দশী সম্পর্কে নানা তথ্য

Author

- বিজ্ঞাপন -
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments