শারদোৎসবের শহর বলতে কলকাতার কথাই প্রথমে মনে আসে। কিন্তু দুর্গাপুরও পুজোর কয়েকটা দিনে বদলে যায় একেবারে অন্য শহরে। দিনের ব্যস্ত শিল্পনগরী তখন আলোয়, থিমের মণ্ডপে, প্রতিমার সাজে আর মানুষের ভিড়ে উৎসবের শহর। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন পরিবার, বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের মানুষও।
আর পুজোয় ঠাকুর দেখা মানেই কি শুধু ঠাকুর দেখা? মণ্ডপে মণ্ডপে হাঁটতে হাঁটতে কখনও পেটের ডাক, কখনও আবার সন্ধ্যার আড্ডায় চটপটা কিছু খাওয়ার ইচ্ছে—পুজোর আনন্দের সঙ্গে খাবারের সম্পর্কটাও যেন অবিচ্ছেদ্য। তাই দুর্গাপুরে এ বার ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে যদি ঠিক করে নেন কোন এলাকার পুজো দেখবেন আর তার পর কোথায় বসে খাওয়া হবে, তা হলে ঘোরার আনন্দ আরও বাড়তে পারে।

দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য পুজো। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে শহরটাকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নিলে এক দিনে অনেকগুলি মণ্ডপ দেখা সম্ভব। আর সেই পথেই পড়ে যায় বেশ কিছু পরিচিত রেস্তরাঁ। ফলে মণ্ডপ থেকে খুব বেশি দূরে না গিয়েই দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার জলখাবার কিংবা রাতের জমাটি খাওয়া সেরে নেওয়া যায়।
সিটি সেন্টার—ঠাকুর দেখা, তার পর বাঙালি খাবারের আসর
দুর্গাপুরের পুজো ভ্রমণের অন্যতম পরিচিত এলাকা সিটি সেন্টার। এখানে একাধিক পুজো রয়েছে। নন-কম্পানি হাউজিং এস্টেটের চতুরঙ্গ দুর্গাপুজোও এই এলাকার অন্যতম মণ্ডপ। ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা হিসেবে সেখানে বৃন্দাবনের প্রেমমন্দিরের আদল তুলে ধরা হয়েছে।
সিটি সেন্টার ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে দুপুর বা রাতের খাওয়ার জন্য যেতে পারেন Bhooter Raja Dilo Bor – Durgapur-এ। সিটি সেন্টারের সত্যজিৎ রায় সরণিতে রাজকুটিরে এই বাঙালি খাবারের রেস্তরাঁ। ফলে সিটি সেন্টারের পুজো ঘুরে বাঙালি রান্নার স্বাদ নেওয়ার জন্য জায়গাটি রাখা যেতে পারে।
বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বেরোলে বাঙালি খাবারের এই ঠিকানা বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। ভাত, ডাল, মাছ, মাংস—পুজোর দিন দুপুরে একটু জমিয়ে খাওয়ার ইচ্ছে হলে বেছে নিতে পারেন এই ধরনের খাবার।
একই এলাকায় রয়েছে Bawarchi Family Restaurant – Durgapur। রাজকুটির, সত্যজিৎ রায় সরণির এই রেস্তরাঁটি পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য একটি বিকল্প।
আর একটু অন্য ধরনের খাবার চাইলে যেতে পারেন Margarita Durgapur-এ। সিটি সেন্টারের আয়কর বিথির কাছে এই রেস্তরাঁটি রয়েছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার দিকে পুজো ঘোরার মাঝে খাবারের বিরতি দেওয়ার জন্য এই এলাকা ধরে পরিকল্পনা করা যায়।
কীভাবে যাবেন?
দুর্গাপুর স্টেশন থেকে সিটি সেন্টারের দিকে যেতে হলে বাস, অটো বা টোটো ব্যবহার করা যায়। নিজস্ব গাড়িতে গেলে সিটি সেন্টার এলাকার দিকে এগিয়ে নির্দিষ্ট মণ্ডপের কাছাকাছি পৌঁছতে হবে। পুজোর সময়ে যানজট ও রাস্তা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা থাকায় শেষ অংশটি হেঁটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকাই ভালো।

সিটি সেন্টার-কালীগঞ্জ—মণ্ডপ দেখে সন্ধ্যার খাওয়া
সিটি সেন্টার-কালীগঞ্জ এলাকাতেও রয়েছে পুজোর মণ্ডপ। যেমন উর্বশী সর্বজনীন দুর্গাপুজোর ২০২৬ সালের ভাবনায় রয়েছে মঙ্গলঘট।
এই এলাকার পুজো দেখার পরে খাবারের জন্য আবার সিটি সেন্টারের মূল অংশের রেস্তরাঁগুলিতে চলে আসা যায়। কাছাকাছি বিকল্প হিসেবে রয়েছে The Calcutta Canteen। শহরের ডাক্তার্স কলোনি এলাকায় সরোজিনী নাইডু পথে এই রেস্তরাঁ।
আর যদি একটু বড় পরিসরে বসে খাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, সিটি সেন্টারের শহিদ ক্ষুদিরাম সরণিতে রয়েছে Barbeque Nation – Durgapur। পুজোর দিন বন্ধুদের দল নিয়ে বেরোলে দীর্ঘ সময় বসে খাওয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ধরনের রেস্তরাঁকে তালিকায় রাখা যায়।
তবে পুজোর সন্ধ্যায় অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে। তাই খুব বেশি দেরিতে খাবার পরিকল্পনা না করাই ভালো।
রুট
উর্বশী পুজো → সিটি সেন্টার → সরোজিনী নাইডু পথ/ডাক্তার্স কলোনি → রাতের খাবার।
নিজস্ব গাড়ি থাকলে পার্কিংয়ের জায়গা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। পুজোর রাতে মণ্ডপের আশপাশে গাড়ি নিয়ে ঢোকার বদলে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি রেখে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে।
বেনাচিতি—একসঙ্গে একাধিক পুজো মন্ডপ
দুর্গাপুরে পুজোর সময়ে বেনাচিতি আলাদা আকর্ষণ। ৫৪ ফুট রোড, অগ্রণী লেন, ভিড়িঙ্গি—এই বিস্তৃত এলাকায় একাধিক পুজো রয়েছে। দুর্গাপুরের পুজো তালিকাতেও ৫৪ ফুট বেনাচিতি, অগ্রণী সাংস্কৃতিক পরিষদ এবং ভিড়িঙ্গি নবারুণের মতো পুজোর উল্লেখ রয়েছে।
বেনাচিতি অঞ্চলে ঠাকুর দেখার সঙ্গে খাবারের পরিকল্পনা করলে প্রথমেই মাথায় আসতে পারে বিরিয়ানি। ৫৪ ফুট রোডের কাছে রয়েছে Dada Haji Biryani। ৫৪ ফুট রোডের তপোবন আবাসনের কাছে এই খাবারের জায়গাটি। ফলে ৫৪ ফুট রোডের পুজো ঘোরার পর বিরিয়ানি খেতে চাইলে এই দিকটি ধরে এগোনো যায়।
আরও একটি পরিচিত বিকল্প Haji Biryani – Benachity। বেনাচিতিতে চয়নিকার বিপরীত গলির দিকে এই রেস্তরাঁ। বেনাচিতি বাজারমুখী পুজো ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে খাবারের তালিকায় রাখা যায়।
যাঁরা বিরিয়ানি নয়, বসে অন্য ধরনের খাবার খেতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে The One। ভিড়িঙ্গির রাজ সম্মিলনী মলের চতুর্থ তলায় এই রেস্তরাঁ। অর্থাৎ ভিড়িঙ্গি এলাকার পুজো দেখার সঙ্গে খাবারের বিরতিও একই অঞ্চলে রাখা সম্ভব।
কীভাবে যাবেন?
দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেনাচিতির দিকে বাস, অটো, টোটো বা নিজস্ব গাড়িতে যাওয়া যায়। ভিড়িঙ্গি মোড়, বেনাচিতি বাজার বা ৫৪ ফুট রোড—যে পুজো দেখতে যাবেন, তার ভিত্তিতে নামার জায়গা ঠিক করুন।

রুট
৫৪ ফুট রোড → অগ্রণী লেন → ভিড়িঙ্গি → বেনাচিতি বাজার → খাবার।
এক দিনে সব জায়গা দেখতে গেলে হাঁটার পরিমাণ বাড়বে। তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্য বা ছোটদের সঙ্গে গেলে মাঝখানে খাবারের বিরতি রাখুন।
ভিড়িঙ্গি মোড়—ঠাকুর দেখে রাতের খাবার
বেনাচিতির ভিড়িঙ্গি অংশে পুজো ঘুরতে বেরোলে Red Chillies Restaurant Cum Bar-কে খাবারের তালিকায় রাখা যায়। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের ভিড়িঙ্গি মোড়ের কাছে এই রেস্তরাঁ রয়েছে।
পুজোর ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় হাঁটার পর একটু বসে খাওয়ার প্রয়োজন হলে এই ধরনের মূল রাস্তার কাছাকাছি জায়গা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে পুজোর সময় দোকান বা রেস্তরাঁর সময়সূচি ও ভিড় বদলাতে পারে—যাওয়ার আগে দেখে নেওয়া ভালো।
সি-জোন—বুদ্ধবিহার দেখে খাওয়ার পরিকল্পনা
দুর্গাপুরের সি-জোনও পুজোপ্রেমীদের তালিকায় রাখা যায়। ভগৎ সিং মোড়ের কাছে বুদ্ধবিহার সর্বজনীন দুর্গোৎসব রয়েছে।
এই এলাকার পুজো ঘুরতে গেলে খাবারের জন্য যেতে পারেন D16-এ। সি-জোনের ভগৎ সিং মার্গে রেস্তরাঁটি রয়েছে। ফলে বুদ্ধবিহার এলাকার পুজো দেখার পর একই অঞ্চলে খাবারের বিরতি নেওয়া যায়।
এই রুটটি বিশেষ করে তাঁদের জন্য সুবিধাজনক, যাঁরা শহরের পশ্চিম দিকের পুজো ঘুরছেন এবং সিটি সেন্টারের দিকে ফিরে না গিয়ে কাছাকাছি খেতে চান।
রুট
বুদ্ধবিহার পুজো → ভগৎ সিং মোড় → ভগৎ সিং মার্গ → খাবার।
নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে পুজোর মণ্ডপের সামনে গাড়ি না রেখে একটু দূরে নামিয়ে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে।
বিধাননগর—পুজোর সঙ্গে বাঙালি খাবারের বিরতি
দুর্গাপুরের বিধাননগরেও রয়েছে একাধিক পুজো। পুজো তালিকায় বিধাননগর সর্বজনীন এবং সেক্টর ২সি দুর্গামণ্ডপের উল্লেখ রয়েছে।
এই এলাকায় খাবারের জন্য রয়েছে The Calcutta Canteen। অরণ্যক পশ্চিম, বিধাননগরে এসবিআই ব্যাঙ্কের পাশে রেস্তরাঁটি রয়েছে। বাঙালি স্বাদের খাবার খুঁজলে এই জায়গাটি পুজোর রুটে রাখা যেতে পারে।
যাঁরা সি-জোন এবং বিধাননগর—দুই এলাকার পুজো একসঙ্গে দেখতে চান, তাঁদের জন্য দুপুরের খাবার বা সন্ধ্যার জলখাবার এই দিকটায় রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।
শহরের বাইরে একটু দূরে—সাগরভাঙা অঞ্চলের জন্য
দুর্গাপুরের পুজো মানেই শুধু সিটি সেন্টার বা বেনাচিতি নয়। সাগরভাঙা, গোপীনাথপুরের দিকেও খাবারের একাধিক জায়গা রয়েছে।
সাগরভাঙার মাঝের মোড়ে রয়েছে Dhanilanka Multi Cuisine Restaurant। দিনের বেলায় এই অঞ্চলে পুজো দেখতে বেরোলে দুপুরের খাবারের জন্য জায়গাটি তালিকায় রাখা যায়।
আর গোপীনাথপুরের দিকে রয়েছে Honey Bunny Restaurant। অর্থাৎ সিটি সেন্টার-বান্ধা রুটের বাইরে যাঁরা দুর্গাপুরের অন্য পাড়ার পুজো ঘুরবেন, তাঁরাও খাবারের জায়গা আগে থেকে ঠিক করে নিতে পারেন।
এক দিনে দুর্গাপুরের পুজো ও খাওয়ার পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?
এক দিনে অনেকগুলি পুজো দেখতে গেলে এলাকা ধরে পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে সহজ। যেমন সকাল বা দুপুরে বেনাচিতি দিয়ে শুরু করা যায়। প্রথমে ৫৪ ফুট রোডের পুজো, তার পর অগ্রণী লেন, ভিড়িঙ্গি এলাকার পুজো দেখে দুপুরের খাবারের জন্য বেনাচিতির কোনও রেস্তরাঁয় যাওয়া যায়।
দ্বিতীয় পর্বে সিটি সেন্টারের দিকে যাওয়া যায়। চতুরঙ্গ পুজো বা সিটি সেন্টার-কালীগঞ্জের উর্বশী সর্বজনীন দেখে সন্ধ্যার খাবার সেরে নেওয়া যেতে পারে।
আর যদি সি-জোনের পুজো দেখতে চান, তা হলে সিটি সেন্টারের সঙ্গে সেটি একই দিনে জুড়ে দেওয়ার বদলে আলাদা রুট করলে সময় বাঁচতে পারে।
সম্ভাব্য প্রথম দিনের রুট
৫৪ ফুট বেনাচিতি → অগ্রণী সাংস্কৃতিক পরিষদ → ভিড়িঙ্গি → বেনাচিতিতে বিরিয়ানি → সন্ধ্যায় সিটি সেন্টার → রাতের খাবার।
দ্বিতীয় দিনের রুট
বিধাননগর → সি-জ়োন → বুদ্ধবিহার → স্থানীয় রেস্তরাঁ → সিটি সেন্টার।
পরিবারের সঙ্গে গেলে
পরিবার নিয়ে গেলে খুব বেশি পুজো একসঙ্গে দেখার চেষ্টা না করে দু-তিনটি এলাকা বেছে নিন। দুপুরে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে আবার বেরোনো যায়। ছোটদের সঙ্গে গেলে মাঝখানে খাবার ও বিশ্রামের সময় রাখলে পুজো দেখা অনেক বেশি আরামদায়ক হয়।
বন্ধুদের সঙ্গে গেলে
বন্ধুদের দল হলে বেনাচিতি ও সিটি সেন্টারকে একই দিনের রুটে রাখা যায়। সন্ধ্যায় পুজো দেখা, তার পর রেস্তরাঁয় বসে খাওয়া—এই পরিকল্পনাই হতে পারে সবচেয়ে জমজমাট।
শুধু রেস্তরাঁ নয়, রাস্তার খাবারও পুজোর অংশ
দুর্গাপুরের পুজো ঘোরার সময় শুধু রেস্তরাঁ খুঁজলে চলবে না। মণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান, ফুচকা, চাউমিন, রোল, কাবাব, মিষ্টি—নানা ধরনের খাবারের আয়োজন থাকে। তবে ভিড়ের মধ্যে রাস্তার খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে এক মণ্ডপ থেকে আর এক মণ্ডপে যাওয়ার পথে হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া যায়। পরে নির্দিষ্ট রেস্তরাঁয় বসে রাতের খাবার সেরে নেওয়া যেতে পারে।Raise Your Concern About this Content
পুজোর দিন কোন সময়ে কোথায় যাবেন?
সপ্তমী: বিকেল থেকে বেনাচিতি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। ৫৪ ফুট রোড, অগ্রণী লেন, ভিড়িঙ্গি ঘুরে রাতের খাবার।
অষ্টমী: ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দুপুরের পর বেরিয়ে সি-জ়োন বা বিধাননগরের পুজো দেখে সন্ধ্যায় সিটি সেন্টারের দিকে যাওয়া যেতে পারে। রাতের খাবারের জন্য সিটি সেন্টার এলাকার রেস্তরাঁ বেছে নেওয়া সুবিধাজনক।
নবমী: পুজোর শেষ বড় সন্ধ্যাগুলির একটি। তাই একদিনে অনেক পুজো না দেখে সিটি সেন্টার ও আশপাশের মণ্ডপে সময় দেওয়া যায়। তার পর বাঙালি খাবারের জন্য রাজকুটির এলাকার রেস্তরাঁ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
দশমী: ঠাকুর দেখা এবং বিসর্জনের আবহ আলাদা। এ দিন দীর্ঘ পুজো-পরিক্রমার বদলে কাছাকাছি কয়েকটি মণ্ডপ দেখে দুপুরের খাবার সেরে নেওয়া যায়।
২০২৬ সালের বঙ্গীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমী ১৮ অক্টোবর, অষ্টমী ১৯ অক্টোবর, নবমী ২০ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর।
দুর্গাপুরে পুজো দেখতে যাওয়ার আনন্দটা আসলে একটা সম্পূর্ণ দিনের গল্প। সকালে বেরিয়ে পড়া, আলোর সাজে বদলে যাওয়া রাস্তা দেখা, মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমার দিকে তাকিয়ে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পছন্দের খাবারের গন্ধ পাওয়া—তার পর একটা রেস্তরাঁয় বসে দিনের সেরা গল্পগুলো নিয়ে আড্ডা।
তাই এ বার দুর্গাপুরে ঠাকুর দেখতে গেলে শুধু ‘কোন মণ্ডপে যাব’ সেই প্রশ্ন নয়, সঙ্গে রাখুন আরও একটা প্রশ্ন—‘তার পর কোথায় খাব?’
বেনাচিতির বিরিয়ানি থেকে সিটি সেন্টারের বাঙালি রান্না, ভিড়িঙ্গির খাবার থেকে সি-জ়োনের রেস্তরাঁ—দুর্গাপুরের পুজো-ভ্রমণকে খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে তৈরি হতে পারে একেবারে নিজের মতো একটি পুজোর রুট। আর সেই রুটের শেষে যখন পেট ভরা, মন ভরা অবস্থায় বাড়ির পথে ফিরবেন, তখন মনে হবে—ঠাকুর দেখা এ বার সত্যিই সম্পূর্ণ হল।
তথ্যসূত্র :
১. দুর্গাপুরে পুজো মন্ডপ
২. দুর্গাপুরে খাওয়া-দাওয়া



