জেনে নিন দর্শনের ফাঁকে কোথায় কি খেতে পারেন
আলোর রোশনাই, চোখধাঁধানো মণ্ডপ, বিশালাকার প্রতিমা আর রাতভর মানুষের ঢল। কালীপুজো এলেই অন্য রূপে সেজে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত। দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতার রাস্তায় যেমন মানুষের ঢল নামে, শ্যামাপুজোর রাতে ঠিক তেমনই উৎসবের চেহারা নেয় বারাসতের রাস্তাঘাট। কোথাও বেনারসের মণিকর্ণিকা ঘাটের আদলে মণ্ডপ, কোথাও মন্দিরের স্থাপত্য, কোথাও আবার অভিনব শিল্পভাবনায় সেজে ওঠেন মা কালী। আলোর সাজসজ্জা আর থিমের বৈচিত্র্যে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে এই শহর।
তবে উৎসব মানে কি শুধু ঠাকুর দেখা? একেবারেই নয়। রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার সঙ্গে পেটপুজোও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা বাঙালিকে নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে বারাসতের মতো জায়গায়, যেখানে একের পর এক বিখ্যাত পুজো দেখতে দেখতে কখন যে খিদে পেয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। তখন প্রয়োজন গরমাগরম কিছু খাবার, এক কাপ চা কিংবা পছন্দের কোনও মিষ্টি।

কেউ খুঁজবেন ফুচকা, ঘুগনি কিংবা ঝালমুড়ি। কারও পছন্দ এগরোল, চিকেন রোল, মোগলাই বা বিরিয়ানি। আবার পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে অনেকেই চাইবেন একটু বসে খাওয়ার মতো রেস্তরাঁ। ফলে বারাসতে কালীপুজো দেখতে যাওয়ার আগে মণ্ডপের পাশাপাশি খাবারের জায়গাগুলিরও একটা ধারণা থাকলে মন্দ হয় না। বিশেষ করে স্টেশন চত্বর, চাঁপাডালি মোড়, কে এন সি রোড, গুপ্ত কলোনি এবং বড়মা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে খাবারের একাধিক পরিচিত ঠিকানা।
২০২৬ সালে কালীপুজো ৮ নভেম্বর, রবিবার। তার আগে থেকেই বারাসতের পুজো নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। শহরের পরিচিত মণ্ডপগুলির আশপাশে কোথায় কী ধরনের খাবার পাওয়া যেতে পারে, কোন এলাকায় বসে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে, আর কোথায় দ্রুত কিছু খেয়ে ফের মণ্ডপ পরিক্রমায় বেরিয়ে পড়া যায়, রইল তারই হদিশ।
পাইওনিয়ার পার্ক: ঠাকুর দেখার সঙ্গে স্ট্রিট ফুডের মজা
বারাসত স্টেশনের কাছেই পাইওনিয়ার পার্ক। কালীপুজোর সময়ে এই এলাকা অন্যতম ব্যস্ত উৎসবকেন্দ্র হয়ে ওঠে। স্টেশনের এত কাছে হওয়ায় ট্রেনে করে বারাসতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে এই এলাকা বেশ সুবিধাজনক। আর ঠাকুর দেখার পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার জন্যও রয়েছে নানা সম্ভাবনা।
মণ্ডপের আশপাশে উৎসবের সময়ে সাধারণত বিভিন্ন অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে। সেখানে ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, পাপড়ি চাটের মতো মুখরোচক খাবার খুঁজতে পারেন। যাঁরা একটু ভারী খাবার খেতে চান, তাঁদের জন্য থাকতে পারে রোল, চাউমিন, মোমো কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভাজাভুজি। তবে কোন দোকান কোথায় বসবে, তা প্রতি বছর বদলাতে পারে।
এই এলাকায় খাবারের আর একটি পরিচিত ঠিকানা বারাসত স্টেশন রোডের জলখাবার। দ্রুত কিছু খেয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এই খাবারের দোকান। বিশেষ করে যাঁরা বেশি সময় নষ্ট না করে হালকা খাবার খেয়ে আবার ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়তে চান, তাঁদের জন্য এমন স্থানীয় খাবারের দোকান কার্যকর হতে পারে।
পাইওনিয়ার পার্কে ঠাকুর দেখা শুরু করে স্টেশন চত্বর ঘুরে নেওয়া যেতে পারে। তবে ভিড়ের সময়ে খাবারের দোকানগুলিতেও অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই খুব বেশি তাড়া থাকলে একটু আগেভাগে খাওয়াদাওয়া সেরে নেওয়াই ভাল।
কে এন সি রেজিমেন্ট: গুপ্ত কলোনির আশপাশে খাবারের সন্ধান
বারাসতের বিখ্যাত কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম কে এন সি রেজিমেন্ট। গুপ্ত কলোনির এই পুজো প্রতিবছরই মণ্ডপের ভাবনা এবং আলোকসজ্জার জন্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ফলে মণ্ডপ পরিক্রমার তালিকায় এই পুজোকে রাখতে পারেন।
এই মণ্ডপ দেখতে এসে খাওয়াদাওয়ার জন্য আশপাশের কে এন সি রোড এবং গুপ্ত কলোনি এলাকায় নজর দিতে পারেন।
এই অঞ্চলের পরিচিত খাবারের ঠিকানাগুলির মধ্যে রয়েছে মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। কে এন সি রোডের এই দোকান মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের জলখাবারের জন্য পরিচিত। রসগোল্লা, রসমালাই, গরম গুলাবজামুনের মতো মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের সন্ধানও পাওয়া যায়।
ঠাকুর দেখার ফাঁকে একটু মিষ্টিমুখ করতে চাইলে এই দোকানে ঢুঁ মারতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে এই ঠিকানাটি তালিকায় রাখা যায়।
আবার যাঁরা মিষ্টির বদলে পেট ভরে খেতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে গুপ্ত কলোনির আশপাশের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁ। তবে পুজোর রাতে দোকানগুলির খোলার সময় এবং বসার ব্যবস্থা আগে থেকে জেনে নেওয়া ভাল।
চাঁপাডালি মোড়: খাবারের জন্য অন্যতম পরিচিত ঠিকানা
বারাসতের খাওয়াদাওয়ার কথা উঠলে চাঁপাডালি মোড়ের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে রয়েছে একাধিক খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান এবং রেস্তরাঁ। ফলে মণ্ডপ পরিক্রমার মাঝে খিদে পেলে এই এলাকায় চলে আসতে পারেন।
চাঁপাডালি মোড়ের কাছেই রয়েছে সিরাজ উদ্যান। সেখানে স্বাদে গন্ধে ফুড আড্ডা নামে একটি খাবারের জায়গা রয়েছে। মোমো, পানীয়, শেক এবং হালকা খাবারের জন্য এটি পরিচিত। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বেরিয়ে একটু বসে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খেতে চাইলে জায়গাটি বিবেচনা করতে পারেন।

বিশেষ করে যাঁরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার মাঝে একটু বিশ্রাম নিতে চান, তাঁদের জন্য এমন খাবারের জায়গা বেশ সুবিধাজনক।
অন্যদিকে, চাঁপাডালি এলাকার কাছেই রয়েছে আমন্ত্রণ হোটেল। কে এন সি রোডে বারাসত আদালতের কাছে এই খাবারের দোকানটি মূলত বাঙালি ঘরানার ভাতের খাবার এবং মাছের পদ পরিবেশনের জন্য পরিচিত। যাঁরা রোল, চাউমিন বা ফাস্টফুডের বদলে ভাত, ডাল, মাছ কিংবা বাঙালি থালির স্বাদ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।
চাঁপাডালির সুবিধা হল, এখানে একসঙ্গে নানা ধরনের খাবারের সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে একই দলে কারও পছন্দ মোমো, কারও আবার মাছ-ভাত হলে খাবারের জায়গা বেছে নেওয়া তুলনামূলক সহজ।
বড়মা মন্দির: দর্শনের পর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া
বারাসতের কালীপুজোর কথা বলতে গিয়ে বড়মার মন্দিরের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া যায় না। শহরের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় আকর্ষণ এই মন্দির। থিমের মণ্ডপ যতই বদলাক, বড়মার প্রতি মানুষের ভক্তি এবং আবেগ একই রকম থাকে। সারা বছরই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে। কালীপুজোর সময়ে সেই ভিড় আরও বাড়ে।
বড়মার মন্দিরের কাছাকাছি লরি স্ট্যান্ড এবং কে বি বসু রোডের দিকে রয়েছে খাবারের একাধিক ঠিকানা।
এই এলাকার একটি পরিচিত রেস্তরাঁ রয়্যাল প্রিন্স মাল্টি কুইজিন ফ্যামিলি রেস্তরাঁ। বড়মা মন্দির এবং লরি স্ট্যান্ড সংলগ্ন কে বি বসু রোডে অবস্থিত এই রেস্তরাঁয় বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বিরিয়ানি, তন্দুরি, ভারতীয় গ্রেভির পদ এবং ইন্দো-চাইনিজ খাবারের মতো নানা বিকল্প রয়েছে।
যাঁরা পরিবারের সঙ্গে একটু আরাম করে বসে খেতে চান, তাঁদের জন্য এই ধরনের রেস্তরাঁ উপযোগী হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ মণ্ডপ ঘোরার পর এক জায়গায় বসে খাওয়াদাওয়া করতে চাইলে এই ঠিকানাটি মাথায় রাখতে পারেন।
বড়মার দর্শন সেরে আশপাশের খাবারের দোকানগুলিতে ঢুঁ মেরে নেওয়া যেতে পারে। তবে কালীপুজোর রাতে ভিড়ের কারণে অপেক্ষা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিবারের সঙ্গে গেলে আগে থেকে খোলার সময় এবং আসন পাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া ভাল।
নবপল্লি অ্যাসোসিয়েশন: মণ্ডপের পাশাপাশি খাবারের পরিকল্পনা
বারাসতের আরও একটি পরিচিত কালীপুজো নবপল্লি অ্যাসোসিয়েশন। পুজোর স্থান ও পরিচিতি নিয়ে কিছু পরিবর্তন থাকলেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে এই আয়োজন। নবপল্লি এবং আশপাশের এলাকায় ঘুরতে গেলে খাবারের জন্য স্থানীয় দোকানগুলির উপর নির্ভর করতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অস্থায়ী খাবারের দোকানে ভিড় জমে।

ফুচকা, চটপটি, ঘুগনি, ঝালমুড়ি থেকে শুরু করে রোল, মোমো কিংবা চাউমিনের মতো খাবার উৎসবের সন্ধ্যাকে আরও জমিয়ে দিতে পারে। তবে এই পুজোর ঠিক বাইরে কোন দোকান বসবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এলাকায় ঘোরার সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে খাবারের দোকানের খোঁজ নিয়ে নেওয়াই ভাল। এতে নতুন কোনও স্থানীয় খাবারের ঠিকানাও আবিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
বিদ্রোহী ক্লাব: টাকি রোডে ঠাকুর দেখা, সঙ্গে মুখরোচক খাবার
বারাসতের টাকি রোডের উপর অবস্থিত বিদ্রোহী ক্লাবের কালীপুজোও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। ফলে বারাসতের পুজো পরিক্রমায় এই জায়গাটিও রাখা যেতে পারে।টাকি রোডের এই অঞ্চলে ঘোরার সময়ে রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে চোখ রাখতে পারেন। উৎসবের মরশুমে সাধারণত এই ধরনের এলাকায় ফুচকা, ঝালমুড়ি, এগরোল, চিকেন রোল, চাউমিন, মোমো কিংবা বিভিন্ন ভাজাভুজির মতো খাবার পাওয়া যায়।
যাঁরা একসঙ্গে অনেকগুলি মণ্ডপ দেখতে বেরিয়েছেন, তাঁদের জন্য রাস্তার ধারের খাবার বেশ সুবিধাজনক। কারণ, বেশি সময় নিয়ে বসে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে খাবারের পরিচ্ছন্নতা এবং দোকানের পরিবেশ দেখে নেওয়া জরুরি।
তরুছায়া ক্লাব ও বালকবৃন্দ: রাতের পরিক্রমায় হালকা খাবারের খোঁজ
বারাসতের পুরনো ও পরিচিত পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে তরুছায়া ক্লাব। এ বছর ৫৭ বছরে পা দিয়েছে এই পুজো। মণ্ডপের ভাবনায় রয়েছে ডিজনিল্যান্ড। অন্যদিকে টাকি রোডের উপর বালকবৃন্দ ক্লাবের পুজোর থিম ভাগ্যচক্র।
এই দুই মণ্ডপ দেখতে গেলে আশপাশের খাবারের দোকানগুলিতে হালকা জলখাবারের সন্ধান করতে পারেন। সন্ধ্যা থেকে রাত যত বাড়ে, ততই রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে উৎসবের আমেজ জমে ওঠে।
একদিকে গরমাগরম চা, অন্যদিকে ঝালমুড়ি কিংবা ঘুগনি—ঠাকুর দেখার মাঝে এমন খাবারের স্বাদ আলাদা আনন্দ দেয়। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বেরিয়ে অল্প খরচে কিছু খেতে চাইলে এই ধরনের রাস্তার খাবার বেশ জনপ্রিয়।
তবে শুধু খিদের কথা ভেবে নয়, খাবারের মান এবং পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিড়ের সময়ে খাবার কেনার আগে দোকানের পরিবেশ দেখে নেওয়া ভাল।
বাঙালি খাবারের স্বাদ চাইলে কোথায় যাবেন?
কালীপুজোর রাতে অনেকেই রাস্তার খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু সকলেরই যে রোল, মোমো কিংবা চাউমিনে মন ভরবে, তা নয়। কেউ কেউ ঠাকুর দেখার আগে কিংবা পরে একেবারে বাঙালি কায়দায় ভাত-মাছ খেতে চান।
তাঁদের জন্য বারাসতের অন্যতম পরিচিত নাম কস্তুরি। ডাকবাংলো মোড়ের কাছে যশোর রোডে অবস্থিত এই রেস্তরাঁয় বাঙালি খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঢাকাই ঘরানার খাবারেরও নানা আয়োজন রয়েছে।
মাছের বিভিন্ন পদ, মাছের ভাজা, কষা, ভাতের থালি এবং নিরামিষ বাঙালি খাবারের মতো নানা বিকল্প পাওয়া যায়। মাছপ্রেমীদের কাছে এই ধরনের খাবারের আকর্ষণ আলাদা।
বিশেষ করে যাঁরা পরিবারের সঙ্গে বারাসতে আসছেন এবং একটু সময় নিয়ে খেতে চান, তাঁদের জন্য কস্তুরি একটি পরিচিত ঠিকানা হতে পারে।
তবে কালীপুজোর রাতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রেস্তরাঁয় যাওয়ার আগে আসন এবং পরিষেবার সময় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভাল।
বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে গেলে মোমো, রোল, বিরিয়ানি না মিষ্টি?
কালীপুজোর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বেরোনোর মজাই আলাদা। কেউ আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন কোন কোন মণ্ডপ দেখতে যাবেন, আবার কেউ ঠিক করেন রাস্তা চলতে চলতেই সব পরিকল্পনা হবে। কিন্তু খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়।
কেউ মোমো খেতে চান, কেউ চিকেন রোল, আবার কারও বিরিয়ানি ছাড়া রাতের আনন্দ সম্পূর্ণ হয় না। বারাসতের বিভিন্ন বাজার এবং ব্যস্ত রাস্তার আশপাশে এই ধরনের খাবারের দোকান রয়েছে।
বিশেষ করে কে এন সি রোড, গুপ্ত কলোনি, চাঁপাডালি এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় খাবারের নানা বিকল্প খুঁজে পাওয়া যায়।Raise Your Concern About this Content
যাঁরা মোমো পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে চাঁপাডালির স্বাদে গন্ধে ফুড আড্ডার মতো ঠিকানা। আবার একটু অন্য ধরনের খাবারের জন্য কে এন সি রোডের আশপাশের রেস্তরাঁগুলিতে ঢুঁ মারতে পারেন।
বিরিয়ানি কিংবা তন্দুরি খেতে চাইলে বড়মা মন্দির সংলগ্ন রয়্যাল প্রিন্সের মতো রেস্তরাঁর কথা ভাবতে পারেন। আর মিষ্টিমুখ করতে চাইলে মৌচাকের মতো পরিচিত দোকান রয়েছে। অর্থাৎ, একই শহরের মধ্যে পছন্দ অনুযায়ী খাবারের ঠিকানা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাতভর ঠাকুর দেখা, খাবারের পরিকল্পনা কেমন হবে?
বারাসতে কালীপুজোর রাতে একসঙ্গে অনেকগুলি মণ্ডপ দেখতে চাইলে খাবারের পরিকল্পনাটাও একটু গুছিয়ে নেওয়া দরকার। বিশেষ করে যাঁরা কলকাতা বা অন্য কোনও জায়গা থেকে ট্রেনে করে আসবেন, তাঁদের জন্য স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিক্রমা শুরু করা সুবিধাজনক হতে পারে।
প্রথমে পাইওনিয়ার পার্ক এবং স্টেশন সংলগ্ন মণ্ডপগুলি ঘুরে নেওয়া যেতে পারে। তার পর কে এন সি রেজিমেন্ট এবং গুপ্ত কলোনির দিকে যাওয়া যায়। মাঝখানে হালকা খাবার কিংবা মিষ্টিমুখের জন্য স্থানীয় দোকান বেছে নেওয়া যেতে পারে।
এর পর চাঁপাডালি মোড়ের দিকে গিয়ে খাবারের বিরতি নেওয়া যায়। যাঁরা ভাত-মাছ খেতে চান, তাঁদের জন্য কস্তুরি কিংবা আমন্ত্রণের মতো ঠিকানা রয়েছে। আবার হালকা খাবারের জন্য সিরাজ উদ্যানের খাবারের দোকানও বিবেচনা করা যেতে পারে।
বড়মা মন্দিরের দর্শন এবং আশপাশের মণ্ডপ ঘুরে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ওই এলাকার রেস্তরাঁগুলিকে তালিকায় রাখা যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, কালীপুজোর রাতে বারাসতের বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড়ের কারণে যাতায়াতে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই এক রাতেই সব মণ্ডপ দেখার তাড়াহুড়ো না করে কাছাকাছি এলাকার পুজোগুলিকে একসঙ্গে দেখার পরিকল্পনা করাই ভাল।
পরিশেষে বাঙালির উৎসব কখনও শুধু মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের মধ্যে আটকে থাকে না। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আড্ডা, গল্প, বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা, পরিবারের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং অবশ্যই খাওয়াদাওয়া। বারাসতের কালীপুজোও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে থিমের মণ্ডপ, আলোর ঝলকানি আর বিশালাকার প্রতিমা, অন্যদিকে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির সম্ভার—সব মিলিয়ে শ্যামাপুজোর রাতে অন্য মাত্রা পায় এই শহর।
কেউ হয়তো পাইওনিয়ার পার্কের মণ্ডপ দেখে স্টেশন চত্বরে জলখাবার খাবেন। কেউ কে এন সি রেজিমেন্ট ঘুরে মৌচাকে মিষ্টিমুখ করবেন। আবার কেউ চাঁপাডালিতে বসে মোমো কিংবা বাঙালি খাবারের স্বাদ নিতে চাইবেন। বড়মার দর্শন সেরে বিরিয়ানি খাওয়া কিংবা রাতের শেষে এক কাপ চায়ে আড্ডা—প্রত্যেকের উৎসবের পরিকল্পনা আলাদা।
আসলে বারাসতের কালীপুজোর বিশেষত্ব এখানেই। এখানে শুধু চোখের আনন্দ নয়, রসনাতৃপ্তিরও আয়োজন রয়েছে। তাই এ বছর বারাসতে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে মণ্ডপের তালিকার পাশাপাশি খাবারের ঠিকানাগুলিও মনে রাখুন। কারণ, ঠাকুর দেখা শেষ হলেও ভাল খাবারের স্বাদ আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো উৎসবের রাতের স্মৃতি অনেক দিন থেকে যায়।
তথ্যসূত্র :
১. বারাসাতের বিখ্যাত মণ্ডপ
২. বারাসাত বিখ্যাত খাবার
৩. নিজস্ব অভিজ্ঞতা



