Homeখেলার দুনিয়াফুটবল সম্রাট পেলের আগমনে থেমে গিয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

ফুটবল সম্রাট পেলের আগমনে থেমে গিয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

The Beautiful Game

ফুটবলকে ‘সুন্দরতম খেলা’ (The Beautiful Game) হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং ফুটবল সম্রাট পেলে। তবে এই খেলা যে কেবল মাঠের সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয় সেই ভুল ধারনাও ভেঙে দিয়েছিল পেলের খেলা। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সবার মন জয় করে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে বড় উদাহরণ তৈরি করেছিল পেলের ‘সুন্দরতম খেলা’।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

রক্তক্ষয়ী বায়াফ্রা যুদ্ধ

১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত নাইজেরিয়া সরকার এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বায়াফ্রা অঞ্চলের মধ্যে এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ চলছিল। ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই জাতিগত সংঘাতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। চরম অশান্ত ও ভয়ার্ত সেই সময়ে, ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আফ্রিকার মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ পান ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব সান্তোস এফসি, যার প্রাণভোমরা ছিলেন ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র তিনটি বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি খেলোয়ার পেলে।

অভাবনীয় ৪৮ ঘণ্টা

তৎকালীন সময়ে পেলের জনপ্রিয়তা ও ক্রীড়াশৈলীর দ্যুতি ছিল বিশ্বজুড়ে। নাইজেরিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচটি নিশ্চিত হওয়ার পর এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়া সরকার এবং বায়াফ্রার বিদ্রোহী গোষ্ঠী উভয় পক্ষই একমত হয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসেন। ফুটবল সম্রাট পেলের খেলা দেখার স্বার্থে নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং বিয়াফ্রার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ৪৮ ঘণ্টার একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।Raise Your Concern About this Content

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

পেলের জাদুকরী প্রভাব

১৯৬৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নাইজেরিয়ায় সান্তোস দল পা রাখার পর তৎকালীন স্থানীয় গভর্নর সামুয়েল ওগবেমুদিয়া দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। সান্তোসের খেলোয়াড় লিমার স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, ম্যাচটি দেখার জন্য মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে নিজেদের মাথায় করে বসার চেয়ার পর্যন্ত বহন করে স্টেডিয়ামে নিয়ে এসেছিলেন। যুদ্ধরত দু’পক্ষের সেনারা পাশাপাশি বসে কোনও রকম শত্রুতা ছাড়াই পেলের জোড়া গোল এবং ২-২ ব্যবধানের সেই রোমাঞ্চকর ড্র উপভোগ করেছিলেন। পেলের পায়ের জাদু ওই কয়েক ঘণ্টার জন্য বুলেটের শব্দকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

ঘটনাকে ঘিরে তৈরি মিথ

সময়ের বিবর্তনে এই ঘটনাটিকে ঘিরে কিছু অতিরঞ্জিত গল্প বা মিথ তৈরি হয়। যেমন অনেকেই দাবি করেন পেলে চিরতরে নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত সত্য হল, সান্তোস দল নাইজেরিয়া ত্যাগ করার পর কিছ ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল। এটি কোনও স্থায়ী রাজনৈতিক শান্তি চুক্তি ছিল না, বরং এটি ছিল স্রেফ একজন অতিমানবীয় ফুটবলারের প্রতি যুদ্ধরত সাধারণ মানুষ ও সেনাদের ভালবাসার সাময়িক বহিঃপ্রকাশ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

উপসংহার

পেলেরা নশ্বর দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের কীর্তি চিরভাস্বর। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান একবার পেলের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছিলেন, “আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, আপনার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই, সবাই জানে আপনি পেলে।” দারিদ্র্যকে পরাভূত করে বিশ্বজয় করা এই ‘কালো মানিক’ কেবল গোলদাতাই ছিলেন না, ছিলেন কোটি মানুষের স্বপ্ন সারথি। ফুটবল দিয়ে সাময়িকভাবে হলেও যুদ্ধ থামানোর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে- পৃথিবীতে অস্ত্রের চেয়েও বড় শক্তির নাম শিল্প, আর ঘৃণার চেয়েও শক্তিশালী হল অনুভূতি-আবেগ।

তথ্যসূত্র:

১. The beautiful game
২. পেলে
৩. পেলে: যার খেলা দেখতে থেমে গিয়েছিল যুদ্ধ
৪. পেলে খেলবেন তাই যুদ্ধও থেমে গিয়েছিল
৫. পেলের সম্মানে সেদিন যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল
৬. দুই দেশের যুদ্ধ থেমে যায় তার জন্য
৭. পেলে: যাকে একনজর দেখার জন্য থেমে গিয়েছিল যুদ্ধ!
৮. যেদিন পেলে একটি যুদ্ধ থামিয়েছিলেন
৯. যখন পেলে একটি যুদ্ধ থামিয়েছিলেন
১ ০. ১৯৬৯ সালে পেলে ও সান্তোস কি সত্যিই নাইজেরিয়ায় একটি যুদ্ধ থামিয়েছিলেন?

FIFA WORLD CUP 2026

দু’দুবার চুরি, একবার উদ্ধার, তারপর চিরতরে অন্তর্ধান, বিশ্বকাপ ট্রফি হারিয়ে যাওয়ার নিয়ে রয়েছে রহস্য বিশ্বের সবচেয়ে বহুসাংস্কৃতিক শহর টরন্টো এক শহরে যেন গোটা পৃথিবীর মিলনমেলা
রিয়া পুরকাইত
রিয়া পুরকাইত
নিজের ইচ্ছার প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা। সেই ভালবাসার তাগিদে লেখালেখির দুনিয়ায় পা। সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ডিজিটাল মিডিয়ায়‌ও চলছে কলম। গণজ্ঞাপন নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ। কবিতা লেখা, আবৃত্তি পাঠের পাশাপাশি ভাললাগে অবসর সময় খুঁজে সাহিত্যের জগতে ডুব দিতে। ভাল লাগে ভাল লাগার জন্য সময় বের করতে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments