Homeপার্বণীসাবেকিয়ানা থেকে আধুনিকতার ছোঁয়া: পুজোর সাজসজ্জায় বদলের হাওয়া

সাবেকিয়ানা থেকে আধুনিকতার ছোঁয়া: পুজোর সাজসজ্জায় বদলের হাওয়া

দুর্গাপুজোর পোশাকে বদলের গল্প

দুর্গাপুজোর পোশাক তাই নিছক পরিধানের বিষয় নয়। এর মধ্যে মিশে থাকে পারিবারিক স্মৃতি, বাংলার তাঁতশিল্প, সামাজিক পরিবর্তন, নকশার বিবর্তন এবং প্রজন্মের নিজস্ব রুচি। একসময় যে সাজ ছিল মূলত শাড়ি, ধুতি, পাঞ্জাবি ও ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক, আজ সেই সাজের পরিসর অনেক বড়। তবু পুরনোকে সরিয়ে নতুন আসেনি। বরং সাবেকের হাত ধরেই আধুনিকতা তৈরি করেছে নিজের নতুন ভাষা।

 লালপাড় সাদা শাড়ি থেকে উৎসবের নানা রং

দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালি নারীর শাড়ির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লালপাড় সাদা শাড়ি এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক প্রতীক। সাদা জমিতে লাল পাড়ের বৈপরীত্য, আঁচলের সৌন্দর্য এবং পরার ধরন—সব মিলিয়ে এই শাড়ি পুজোর আবহে আলাদা আবেগ তৈরি করে। তবে এটিই যে দুর্গাপুজোর একমাত্র ঐতিহ্যবাহী পোশাক, এমন ধারণা ঠিক নয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল, পরিবার, আর্থসামাজিক অবস্থান ও প্রজন্ম অনুযায়ী শাড়ির ধরন এবং রং বদলেছে।

লালপাড় সাদা শাড়ি

সাদা বা অফ-হোয়াইট জমিতে লাল পাড়ের শাড়ি পুজোর সাজে চিরপরিচিত। অষ্টমীর অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা কিংবা পুজোর বাড়ির আচার-অনুষ্ঠানে এই শাড়ির ব্যবহার বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে এর জনপ্রিয়তা অন্য রঙের শাড়ি বা অন্যান্য পোশাকের ব্যবহারকে বাদ দেয় না।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

বাংলার তাঁতশিল্পের সঙ্গে উৎসবের পোশাকের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁত, জামদানি, গরদ, কোরা, বালুচরি, কাঁথা, মসলিন-অনুপ্রাণিত বুনন কিংবা মুর্শিদাবাদের রেশম—বিভিন্ন বস্ত্র ও নকশা বাঙালির পোশাকের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রত্যেকটির ইতিহাস, বুননপদ্ধতি ও ব্যবহার এক নয়। তাই ‘সাবেকি বাঙালি শাড়ি’ বলতে একটি নির্দিষ্ট কাপড়কে বোঝানো যায় না; বরং এটি নানা আঞ্চলিক ও ঐতিহাসিক পোশাক-ঐতিহ্যের সমষ্টি।

ধুতি-পাঞ্জাবিতে পুরুষের সাবেকিয়ানা

বাঙালি পুরুষের উৎসবের পোশাকের কথা উঠলে ধুতি-পাঞ্জাবির উল্লেখ আসবেই। ধুতি ও পাঞ্জাবি বহুদিন ধরে পুজো, বিয়ে এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক উপলক্ষের সঙ্গে যুক্ত। সাদা বা হালকা রঙের ধুতি, তার সঙ্গে পাঞ্জাবি—এই সাজে যেমন সরলতা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ছাপ।

তবে পুরুষের পোশাকও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ধুতির পাশাপাশি পায়জামা, কুর্তা, ফতুয়া, জ্যাকেট, শার্ট কিংবা অন্য ধরনের পোশাক উৎসবের সাজে জায়গা করে নিয়েছে। কেউ সম্পূর্ণ সাবেকি সাজ বেছে নেন, কেউ আবার পাঞ্জাবির সঙ্গে আধুনিক নকশার জুতো বা পায়জামা পরেন। পোশাকের এই মেলবন্ধনই দেখায়, ঐতিহ্যকে ধরে রাখার অর্থ সব সময় একই রকম পোশাক পরা নয়।

 ধুতি-পাঞ্জাবি

পুজোর দিনগুলিতে ধুতি-পাঞ্জাবি এখনও অনেকের পছন্দের পোশাক। কাপড়ের ধরন, পাঞ্জাবির গলার নকশা, বোতাম, পাড় এবং রঙে নতুনত্ব এলেও মূল পোশাকের পরিচিত কাঠামোটি অটুট রয়েছে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

পোশাকে এল শহুরে জীবনের প্রভাব

সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে। পড়াশোনা, চাকরি, যাতায়াত, শহুরে ব্যস্ততা এবং পোশাকের ব্যবহারিক দিক—সবই উৎসবের সাজকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিদিন শাড়ি বা ধুতি না পরা মানুষও পুজোর সময় ঐতিহ্যবাহী পোশাক বেছে নেন। আবার যাঁরা নিয়মিত সাবেকি পোশাক পরেন, তাঁরাও উৎসবের জন্য নতুন নকশা বা ভিন্ন ধরনের কাপড়ের দিকে ঝোঁকেন।

বিশ শতকের শেষভাগ থেকে শহুরে পোশাকে বিভিন্ন ধরনের মিশ্রণ আরও দৃশ্যমান হয়েছে। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের নকশায় পরিবর্তন, কুর্তির সঙ্গে প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, লম্বা স্কার্ট, জ্যাকেট, ছোট কুর্তা কিংবা নানা ধরনের পোশাক উৎসবের সাজে জায়গা করে নিয়েছে। পোশাকের এই পরিবর্তনকে শুধু ‘পশ্চিমি প্রভাব’ বলে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়ে না। কারণ ভারতীয় পোশাকের মধ্যেও নতুন কাট, নতুন বুনন এবং নতুন পরার ধরন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে পুজোর পোশাক হয়ে উঠেছে নিজের রুচি প্রকাশের একটি মাধ্যম। একই দিনে কেউ শাড়ি পরছেন, আবার অন্য দিন বেছে নিচ্ছেন কুর্তা-পায়জামা বা আরামদায়ক অন্য পোশাক। কেউ ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের সঙ্গে আধুনিক নকশা মিলিয়ে নিচ্ছেন। ফলে ‘সাবেকি’ আর ‘আধুনিক’—এই দুই ভাগের মাঝখানে তৈরি হয়েছে বিস্তৃত এক পোশাকভুবন।

পুজোর পাঁচ দিন, পোশাকে পাঁচ রকম গল্প

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে নতুন পোশাক পরার রীতি বহু পরিবারের আনন্দের অংশ। যদিও প্রত্যেক পরিবারের রীতি এক নয়, তবু পুজোর দিন ধরে পোশাক বেছে নেওয়ার চল এখন বেশ পরিচিত। কেউ অষ্টমীর জন্য শাড়ি রাখেন, কেউ নবমীতে পাঞ্জাবি, কেউ আবার পুজোর প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা পোশাক প্রস্তুত করেন।

পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখন শুধু রং বা নকশা নয়, আরামও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ মণ্ডপে ঘোরা, ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা, গরম বা আর্দ্র আবহাওয়া, যাতায়াত—এসব বিষয় মাথায় রেখে অনেকে হালকা কাপড় ও সহজে পরা যায় এমন পোশাক বেছে নেন। সুতি, তাঁত, নরম রেশম, মিশ্র কাপড় বা আরামদায়ক কুর্তার ব্যবহার তাই উৎসবের সাজে দেখা যায়।

একই সঙ্গে পুজোর পোশাকে রঙের বৈচিত্র্যও বেড়েছে। লাল-সাদা বা সাদা-সোনালি ঐতিহ্যবাহী সমন্বয়ের পাশাপাশি নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি, মাটি-রং কিংবা গাঢ় রঙের শাড়ি ও পোশাকও জনপ্রিয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট রংকে পুজোর ‘অবশ্যপালনীয়’ রং বলা যায় না। পোশাকের পছন্দ ব্যক্তিভেদে এবং অঞ্চলভেদে বদলায়।

তাঁত, কারুকাজ ও বাংলার বস্ত্রশিল্প

দুর্গাপুজোর পোশাকের আলোচনায় বাংলার তাঁতশিল্পকে বাদ দেওয়া যায় না। কারণ উৎসবের পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু তাঁতি, কারিগর, নকশাশিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা। পুজোর আগে শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তা, ওড়না কিংবা অন্যান্য পোশাকের চাহিদা বাড়লে বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন অংশে তার প্রভাব পড়ে।

বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ধরনের বস্ত্র ও কারুকাজের ঐতিহ্য রয়েছে। বালুচরি শাড়ির বুননে পৌরাণিক বা কাহিনিনির্ভর নকশা দেখা যায়। জামদানির সূক্ষ্ম নকশা ও বুননশৈলী আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। কাঁথাশিল্পে সূচিশিল্পের মাধ্যমে কাপড়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। শান্তিনিকেতনের আশপাশে বাটিক, কাঁথা ও অন্যান্য হস্তশিল্পের কাজও পরিচিত। এগুলির প্রতিটির নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে এবং সবকটিকে একই ধরনের পোশাক বা একই অঞ্চলের উৎপাদন বলে চিহ্নিত করা সঠিক নয়।

আজকের পোশাকের নকশায় এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও কারুকাজ নতুনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শাড়ির পাশাপাশি কুর্তা, পাঞ্জাবি, ব্যাগ, ওড়না কিংবা অন্যান্য পোশাকে ঐতিহ্যবাহী নকশার প্রয়োগ দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন পুরনো কারুশিল্পের ব্যবহার বাড়তে পারে, অন্যদিকে নকশা ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে কারিগরদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাও জরুরি হয়ে ওঠে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

শাড়ির সঙ্গে স্নিকার্স, পাঞ্জাবির সঙ্গে আধুনিক জুতো

আধুনিক পুজোর সাজে পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক সামগ্রীর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শাড়ির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গয়না, কানের দুল, চুড়ি বা টিপ যেমন মানানসই, তেমনই অনেকে বেছে নেন আধুনিক ব্যাগ, ঘড়ি কিংবা আরামদায়ক জুতো। একইভাবে পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি পরার পাশাপাশি কেউ পায়জামা বা অন্য ধরনের নিচের পোশাক বেছে নেন।

এই পরিবর্তন মূলত ব্যক্তিগত রুচি ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো, গরমে হালকা কাপড়, কিংবা চলাফেরার সুবিধার জন্য সহজ পোশাক—সবই পুজোর সাজের অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক উপকরণের মেলবন্ধন তৈরি হচ্ছে।

তবে পোশাকের কোনও নির্দিষ্ট সমন্বয়কে ‘শুদ্ধ’ বা ‘অশুদ্ধ’ বলা যায় না। উৎসবের পোশাকের অর্থই হল নিজের পছন্দ, সংস্কৃতি ও আনন্দকে প্রকাশ করা। কারও কাছে সাবেকি সাজ গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও কাছে নতুন নকশা। দু’ধরনের পছন্দই পুজোর বহুমাত্রিক আবহের অংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নতুন নকশার প্রভাব

বর্তমান সময়ে পোশাকের নকশা ও সাজের ধারণা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিভিন্ন ছবি, পোশাকের প্রদর্শন, নকশার উপস্থাপনা এবং ব্যক্তিগত সাজের ছবি মানুষের পছন্দকে প্রভাবিত করে। ফলে পুজোর পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দোকানের প্রদর্শনী বা পরিচিতদের পরামর্শের পাশাপাশি অনলাইন জগতেরও ভূমিকা বেড়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনও সাজ প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত হবে, এমন নয়। পোশাকের কাপড়, আবহাওয়া, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য, বাজেট এবং ব্যবহারের সুযোগ—এসব বিবেচনা করে পোশাক বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের সাজের সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিধানকারীর স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস।

এখানেই আধুনিক পুজোর পোশাকের একটি বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে। আগে পোশাকের পরিচয় অনেক সময় নির্দিষ্ট সামাজিক রীতি বা পারিবারিক পছন্দের সঙ্গে বাঁধা থাকত। এখন একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও পোশাকের পছন্দ আলাদা হতে পারে। কেউ শাড়ি পরছেন, কেউ কুর্তা, কেউ আবার সম্পূর্ণ অন্য ধরনের পোশাক। উৎসবের আনন্দ সেই বৈচিত্র্যকেই জায়গা করে দিচ্ছে।

 সাবেকি পোশাক কি হারিয়ে যাচ্ছে?

আধুনিক পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সাবেকি পোশাক হারিয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। বরং পুজোর সময় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি আগ্রহ অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। লালপাড় সাদা শাড়ি, গরদ, তাঁত, ধুতি-পাঞ্জাবি কিংবা হাতে বোনা কাপড় এখনও উৎসবের সাজে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে সেই পোশাকের নকশা, কাপড়, পরার ধরন এবং ব্যবহারের পরিসরে পরিবর্তন এসেছে।

ঐতিহ্য কোনও স্থির বস্তু নয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন বদলালে পোশাকের ব্যবহারও বদলায়। একটি শাড়ি হয়তো আগে নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে পরা হত, এখন তা পুজোর মণ্ডপে ঘোরার পোশাক। একটি পাঞ্জাবি হয়তো একসময় বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের জন্য রাখা হত, এখন তা উৎসবের বিভিন্ন দিনে পরা হয়। আবার ঐতিহ্যবাহী কাপড় নতুন পোশাকের আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে।Raise Your Concern About this Content

তাই সাবেকি ও আধুনিককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার চেয়ে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা বেশি জরুরি। আধুনিক নকশা ঐতিহ্যকে নতুন ব্যবহার দিতে পারে, আবার ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র আধুনিক পোশাককে নিজস্ব পরিচয় দিতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, দুর্গাপুজোর পোশাকের গল্প আসলে বাঙালির বদলে যাওয়া জীবনের গল্প। একসময়ের সযত্নে তুলে রাখা শাড়ি, বাবার আলমারির ধুতি-পাঞ্জাবি, মায়ের পুজোর গয়না—এসব স্মৃতির পাশে আজ জায়গা করে নিয়েছে নতুন নকশা, নতুন কাপড়, নতুন পরার ধরন। তবু নতুনের ভিড়ে পুরনো মুছে যায়নি। বরং পুরনো বুননের সুতোয় আধুনিকতার নতুন নকশা আঁকা হয়েছে।

পুজোর দিন মণ্ডপে ভিড় বাড়ে, ঢাকের শব্দে চারপাশ মুখর হয়। সেই ভিড়ের মধ্যে কেউ লালপাড় সাদা শাড়িতে, কেউ ধুতি-পাঞ্জাবিতে, কেউ আধুনিক পোশাকে, কেউ বা দুইয়ের মেলবন্ধনে এগিয়ে চলেন। পোশাকের ধরন আলাদা হলেও সবার চোখে থাকে একই উৎসবের আলো।

শেষ পর্যন্ত দুর্গাপুজোর সাজের আসল সৌন্দর্য কোনও নির্দিষ্ট পোশাকে আটকে নেই। তা রয়েছে নিজের শিকড়কে মনে রেখে নতুনকে আপন করে নেওয়ার মধ্যে। কারণ বাঙালির পুজোয় পোশাক শুধু শরীর ঢাকে না—সে বহন করে স্মৃতি, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং আনন্দের এক দীর্ঘ উত্তরাধিকার।

তথ্যসূত্র

১. বাঙালির বেশভূষা
২. দুর্গা পুজোর ফ্যাশন
৩. ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুজোর বেশভূষা


- বিজ্ঞাপন -
সৃজিতা মল্লিক
সৃজিতা মল্লিক
ডিজিটাল মিডিয়ার নিউজ ডেস্কে কেটে গিয়েছে ৫ বছর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণমাধ্যম নিয়ে পড়ার সময় থেকেই সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয় সৃজিতার। খবর ভালোবাসা তাই বাছবিচার ছাড়াই দেশ, দুনিয়া, রাজ্যের খবরের সঙ্গে সঙ্গে খেলা, বিনোদন দুনিয়ার ময়দানেও রয়েছে আনাগোনা। উৎসাহ বাজারের ওঠাপড়া, রাজনীতির বিষয়েও। খাদ্যরসিক। ছুটি পেলেই সপরিবার ভ্রমণে প্রাণের আরাম, মনের প্রশান্তি।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments