Homeপার্বণীপিতৃপক্ষ এলেই গয়ায় কেন ভিড় বাড়ে?

পিতৃপক্ষ এলেই গয়ায় কেন ভিড় বাড়ে?

বিষয়বস্তুর সারণী [hide]

জানেন কি পিতৃতর্পণ, পিণ্ডদান ও গয়াসুরের পৌরাণিক উপাখ্যান?

পিতা মাতা মারা পরলোকগমন করলে গয়ায় পিণ্ড দান করার রীতি রয়েছে যুগ যুগ ধরেই । তাই পিতৃ পক্ষ শুরু হতেই দেখা যায় কারও হাতে পিণ্ডদানের সামগ্রী, কারও সঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য, আবার কেউ আসেন বহু দূর থেকে শুধু পূর্বপুরুষের উদ্দেশে পিতৃতর্পণ করতে। এই সময়ে পূর্ব পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান বা তর্পণ করলে  তারা মুক্তি পান বলে মান্যতা আছে। তাই গয়াকে হিন্দু ধর্মে পিণ্ডদান ও পিতৃশ্রাদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে মনে করা হয়। হাতে গোনা আর কয়দিন । শুরু হবে পিতৃপক্ষ। তাই এখনই বহু মানুষ পরিকল্পনা করছেন বছরের এই বিশেষ দিনগুলিতে পিতৃপুরুষদের মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে গয়ায় গিয়ে পিতৃ তর্পণ ও পিণ্ডদান  করার পরিকল্পনা কর্রছে। তাইতো?

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি গয়ায় পিতৃপক্ষের সময় যাত্রার একটি বাস্তব দিকও রয়েছে। বিপুল মানুষের ভিড়ে থাকার জায়গা, যানবাহন, মন্দিরে প্রবেশ, পিণ্ডদানের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পুরোহিতের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছুই হয়ে উঠতে পারে কঠিন। পিতৃপক্ষে গয়া যাওয়ার আগে জেনে নিন কিছু কথা । 

গয়ায় পিণ্ডদান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

পুরাণে গয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গয়াসুরের কাহিনি। জানেন কি সে কথা ? প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গয়াসুর ছিলেন এক শক্তিশালী অসুর, যার তপস্যায় দেবতারা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর দেহ এত পবিত্র হয়ে উঠেছিল যে সেখানে পিণ্ডদান করলে পূর্বপুরুষদের মুক্তি মিলবে—এমন বিশ্বাস গড়ে ওঠে।পরে ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে গয়াসুরের কাহিনি জড়িয়ে যায়। গয়াসুরের শরীরের ওপর বিষ্ণুর পদচিহ্ন রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই থেকেই বিষ্ণুপদ মন্দির গয়ার অন্যতম প্রধান তীর্থ হয়ে ওঠে।

শুধু পুরাণ নয়, রামায়ণ-সংক্রান্ত লোকবিশ্বাসেও গয়ার গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ভগবান রাম পিতা দশরথের উদ্দেশে গয়ায় পিণ্ডদান করেছিলেন।

পিতৃপক্ষের ভিড় কতটা বাড়ছে?

 জানেন কি ! গয়ায় পিতৃপক্ষ মেলার ভিড় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ গয়ায় এসেছিলেন বলে গয়া জেলা প্রশাসনের তথ্য তুলে ধরে করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

পরবর্তী বছরগুলিতে সংখ্যা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৩০.৫৯ লক্ষ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৩৪.৭৯ লক্ষ পর্যটক গয়ায় পৌঁছেছিলেন বলে এবছর ২০২৬ সালের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সরকারি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কয়েক বছরের মধ্যে পিতৃপক্ষের সময় গয়ায় মানুষের যাতায়াত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে ধর্মীয় আস্থার পাশাপাশি দূরদূরান্তে যোগাযোগ সহজ হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে তীর্থস্থান সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়া এবং পরিবারের প্রবীণদের ইচ্ছা পূরণের প্রবণতাও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এগুলিকে কারণ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সরাসরি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রমাণ সীমিত।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

বিষ্ণুপদ মন্দিরে কেন এত ভিড়?

 যারা  গয়া গেছেন তারা জানেন,গয়ার পিণ্ডদানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বিষ্ণুপদ মন্দির। ভগবান বিষ্ণুর পায়ের ছাপ এখানে রয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। পিতৃপক্ষের সময় এই মন্দিরের আশপাশে মানুষের ঢল নামে।

একই সময়ে ফল্গু নদী, অক্ষয়বট এবং বিভিন্ন পিণ্ডবেদিতেও আচার পালন করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গয়ায় পিতৃপক্ষের সময় একাধিক বেদি, পুকুর ও ঘাটে পিণ্ডদান ও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয়।

ফলে একজন দর্শনার্থী শুধু মন্দিরে গিয়ে ফিরে আসেন না। পিণ্ডদানের নিয়ম অনুযায়ী একাধিক জায়গায় যেতে হলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই ভিড় ও যাতায়াতের মধ্যে কাটতে পারে।

পান্ডাদের ভূমিকা ও ‘পান্ডা রাজ’

গয়ার পিণ্ডদানের সঙ্গে গয়াপাল পান্ডাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। তাঁরা পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পরিচালনায় সাহায্য করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনাতেও Gayapal Panda Samaj-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে।

তবে বাইরে থেকে যাওয়া অনেক পরিবারের কাছে স্থানীয় পান্ডার সঙ্গে প্রথমবার যোগাযোগ করা কিছুটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কোন বেদিতে কী আচার হবে, কতক্ষণ লাগবে, কী কী উপকরণ প্রয়োজন—এসব আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া ভালো।

‘পান্ডা রাজ’ কথাটি মূলত স্থানীয় পান্ডা-পরম্পরা ও তাদের প্রভাব বোঝাতে কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়। তাই কোনও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সব পান্ডার আচরণের সাধারণ ছবি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

পিতৃপক্ষে গয়ায় মেলা

প্রতিবছর পিতৃপক্ষ তে গয়ায় ফল্গু নদীর ঘাটে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয় ।পিতৃতর্পণ কে কেন্দ্র করে জমে এই মেলার আসর ।এবছর ও ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর মানে মহালয়ায় দিন পর্যন্ত এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। আর এই মেলার কারনে গয়ায় ভক্তদের ভিড় ও প্রচুর। এখন যেহেতু ডিজিটাল মিডিয়ার যুগ তাই এখন ঘরে বসেও চলছে গয়ায় পিণ্ডদান উপলক্ষ্যে বিশেষ পূজা। দেদার চলছে অনলাইন বুকিং।

থাকার জায়গা পাওয়া কেন কঠিন?

পিতৃপক্ষের সময় গয়ায় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হল আবাসন। বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে আসায় হোটেল, অতিথিশালা, ধর্মশালা ও পান্ডাদের বাড়িতে জায়গার চাহিদা বেড়ে যায়। জেলা প্রশাসনও প্রতিবছর অতিরিক্ত থাকার ব্যবস্থা করে। ২০২৫ সালে ১৮ হাজার মানুষের জন্য ৬৪টি সরকারি ভবনে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা এবং গান্ধী ময়দানে ২,৫০০ মানুষের জন্য টেন্ট সিটির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি হোটেল, গেস্ট হাউস ও পান্ডাদের ব্যক্তিগত ভবনও চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তবু পরিবারের সদস্য বেশি হলে সমস্যা বাড়তে পারে। একই ঘরে বেশি মানুষ থাকা, লাগেজ রাখার জায়গা কম থাকা, বাথরুম ভাগ করে ব্যবহার করা এবং মন্দির থেকে দূরে থাকার কারণে যাতায়াতে সময় লাগা—এসব বাস্তব অসুবিধা হতে পারে।

১. বিহার স্টেট ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (BSTDC)

বিহার সরকারের পর্যটন বিভাগের অধীনে গয়া এবং বোধগয়ায় নিজস্ব হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে (যেমন- সিদ্ধার্থ বিহার, সুজাতা বিহার ইত্যাদি)।

বুকিং পোর্টাল: সরাসরি বুক করতে BSTDC Official Website ভিজিট করুন। এখান থেকেত আপনি অনলাইন হোটেল বুকিং, ক্যাব এবং পিণ্ডদান বা পর্যটন প্যাকেজ বুক করতে পারবেন।

২. গয়া জেলা প্রশাসন ও পিণ্ডদান অফিশিয়াল পোর্টাল

গয়া জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল নির্দেশিকা এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হোটেল, রিসোর্ট বা ধর্মশালার তথ্য জানতে পারেন।

পোর্টাল: Gaya District Accommodation Portal অথবা বিহার সরকারের অফিশিয়াল Pinddaan Gaya Ji Portal দেখতে পারেন। 

৩. রেলওয়ে রিটায়ারিং রুম (IRCTC)

আপনি যদি ট্রেনে ভ্রমণ করেন এবং গয়া রেলওয়ে স্টেশনে থাকতে চান, তবে আইআরসিটিসি-এর মাধ্যমে স্টেশনের রিটায়ারিং রুম বা ডরমিটরি বুক করতে পারেন।

বুকিং পোর্টাল: IRCTC Retiring Room Official। 

৪. ট্রাস্ট ও আশ্রম বুকিং (ভারত সেবাশ্রম ও অন্যান্য)

গয়ার বিখ্যাত এবং নির্ভরযোগ্য আশ্রম যেমন ভারত সেবাশ্রম সংঘ, বাঙালি আশ্রম বা বিভিন্ন ধর্মশালার রুম বুকিং সাধারণত YatraDham.Org-এর মতো বিশ্বস্ত তীর্থযাত্রী বুকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা যায়। 

বাস ও ট্রেনে সমস্যা কোথায়?

পিতৃপক্ষের সময় ট্রেন ও বাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাপ বাড়ে। দূরবর্তী রাজ্য থেকে আসা পরিবারগুলিকে অনেক আগে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হয়।

গয়ায় পৌঁছানোর পরেও সমস্যা শেষ হয় না। মন্দির এলাকার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় ভিড়ের সময়ে গাড়ি নিয়ে সরাসরি বিষ্ণুপদ এলাকায় যাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই প্রশাসন বিশেষ পরিবহণ ব্যবস্থা করে।

২০২৫ সালে গয়ায় বিভিন্ন রুটে ১৫৮টি রিং বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম তীর্থযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ই-রিকশার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট পার্কিং বা প্রশাসনের পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে।

পরিবার নিয়ে গেলে কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন?

শিশু, প্রবীণ বা অসুস্থ সদস্য থাকলে ভিড়ের বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হয়। দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, অপেক্ষা করা, গরম বা ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া ক্লান্তিকর হতে পারে।

২০২৩ সালের পিতৃপক্ষ মেলায় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। একই বছরে তিন লক্ষের বেশি তীর্থযাত্রী বিনামূল্যের ই-রিকশা পরিষেবা ব্যবহার করেছিলেন।

তাই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল, পরিচয়পত্র এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।Raise Your Concern About this Content

ভিড় এড়াতে কীভাবে পরিকল্পনা করবেন?

গয়ায় পিতৃপক্ষের সময় যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

প্রথমত, সম্ভব হলে আগে থেকেই থাকার জায়গা ঠিক করুন।
দ্বিতীয়ত, পান্ডার সঙ্গে পিণ্ডদানের নিয়ম ও খরচ আগে পরিষ্কার করে নিন।
তৃতীয়ত, প্রবীণ সদস্য থাকলে মন্দির ও পিণ্ডদানের জায়গার কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা খুঁজুন।
চতুর্থত, ট্রেনের টিকিট অনেক আগে কাটুন এবং ফেরার পরিকল্পনাও আগে করুন।
পঞ্চমত, ভিড়ের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের একা না রাখাই ভালো।

পিতৃতর্পণের আসল গুরুত্ব কোথায়?

পিতৃপক্ষ শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়। বাঙালি-সহ ভারতের বহু পরিবারের কাছে এটি পূর্বপুরুষকে স্মরণ করার সময়। পিণ্ড, জল, তিল বা অন্যান্য নিবেদনের মাধ্যমে পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

গয়ায় সেই স্মরণ যেন আরও বড় সামাজিক ও ধর্মীয় আকার নেয়। ফাল্গু নদী, বিষ্ণুপদ মন্দির, অক্ষয়বট এবং বিভিন্ন পিণ্ডবেদিকে ঘিরে তৈরি হয় কয়েক দিনের এক বিশাল তীর্থসমাগম।

তাই পিতৃপক্ষে গয়া যাওয়া শুধু ‘পিণ্ডদান করতে যাওয়া’ নয়—এটি অনেক পরিবারের কাছে স্মৃতি, বিশ্বাস, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা।

তবে ভক্তির পাশাপাশি বাস্তব প্রস্তুতিও জরুরি। কারণ কয়েক দশকের তুলনায় আজ গয়ায় পিতৃপক্ষের মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশ্বাসের যাত্রা যেন ভিড়ের কারণে দুর্ভোগে পরিণত না হয়, তার জন্য আগে থেকে থাকা, যাতায়াত, পিণ্ডদানের পদ্ধতি ও নিরাপত্তার পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র

১. গয়া জেলা প্রশাসনের পিতৃপক্ষ ও পিণ্ডদানের তথ্য
২. ২০২৩ সালের পিতৃপক্ষ মেলার সরকারি পরিসংখ্যান ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন
৩. ২০২৪–২০২৫ সালের গয়ায় পর্যটক/তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ও ২০২৬ সালের প্রস্তুতি

Author

- বিজ্ঞাপন -
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments