Home Blog Page 7

১৯৪৭ থেকে ২০২৫ – ভারতীয় সিনেমার যাত্রাপথ: রূপ, গল্প আর মন ছুঁয়ে যাওয়া স্মৃতি

 ১৯৪৭-১৯৬০: স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রে জাতীয়তাবাদ আর মানবিকতা

স্বাধীনতার পরে ভারতীয় সিনেমা যেন এক নতুন দিশা পেল। দেশভাগের যন্ত্রণা, নতুন জাতির আশার আলো—সবই সিনেমায় উঠে আসছিল।

কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি:

  • নীচা নগর (১৯৪৬) – ভারতীয় রিয়ালিজমের প্রথম পদক্ষেপ
  • মাদার ইন্ডিয়া (১৯৫৭)– মা আর মাটির প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগের প্রতীক
  • দো বিঘা জমিন (১৯৫৩)– গ্রামীন দুর্দশা আর শহরের নিষ্ঠুরত
Do Bigha Zameen Poster| ফটো: বাসু কর

এই সময়ে সলিল চৌধুরী, বিমল রায়, গুরু দত্তদের মতো পরিচালক আর সুরকাররা ভারতীয় সিনেমার ভিত্তি গড়ে তোলেন।
হিন্দি সিনেমা
নিচা নগর উইকিপিডিয়া
নীচা নগর আইএমডিবি
নীচা নগর প্রাইম ভিডিও
মাদার ইন্ডিয়া উইকিপিডিয়া
মাদার ইন্ডিয়া আইএমডিবি
মাদার ইন্ডিয়া প্রাইম ভিডিও
দো বিঘা জমিন উইকিপিডিয়া
দো বিঘা জমিন আইএমডিবি

১৯৬০-১৯৮০: রোম্যান্স, রঙিন পর্দা আর উত্তম-সুচিত্রার জয়জয়কার

এই সময়টা ছিল সিনেমার ‘সোনালী যুগ’। দর্শক সিনেমা দেখতে যেতেন নায়ক-নায়িকার প্রেমে পড়তে। সিনেমা মানেই তখন সংগীত, স্টাইল, আর নাটকীয়তা।

উল্লেখযোগ্য নাম:

Harano Sur Poster| ফটো: বাসু কর
  • হিন্দিতে: মুঘল-ই-আজম (১৯৬০),আরাধনা (১৯৬৯)
  • বাংলায়: হারানো সুর (১৯৫৭),সপ্তপদী (১৯৬১),অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি (১৯৬৭)

এই সময়ে উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, রাজেশ খান্না, হেমা মালিনী, মধুবালা—সবাই সিনেমার ‘আইকন’ হয়ে ওঠেন। গান, সংলাপ আর মেলোড্রামা ছাড়াও সামাজিক বার্তা দেওয়া হত নিঃশব্দে।
মুঘল-ই-আজম উইকিপিডিয়া
আরাধনা উইকিপিডিয়া
হারানো সুর উইকিপিডিয়া
সপ্তপদী উইকিপিডিয়া
অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি উইকিপিডিয়া

১৯৮০-২০০০: অ্যাকশন, কমার্শিয়াল সিনেমা আর ‘মাস’ কালচার

এ সময়ে সিনেমা পালটে গেল। বাস্তবতাকে খানিক দূরে রেখে এলো অ্যাকশন হিরো আর ডায়লগবাজি। সিনেমা হল বড়লোকি নয়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জায়গা হয়ে উঠল।

সালমান-শাহরুখ-আমির যুগের শুরু:

Hum Aapke Hain Kaun Poster| ফটো: বাসু কর
  • কেয়ামত সে কেয়ামত তক (১৯৮৮)
  • দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫)
  • হাম আপকে হ্যায় কৌন (১৯৯৪)

এই সময়ে বাংলা সিনেমায়ও চমক ছিল—প্রসেনজিৎ, রচনার যুগ, যেখানে বাণিজ্যিক সাফল্যই ছিল মূল লক্ষ্য।
কিয়ামত সে কিয়ামত তাক উইকিপিডিয়া
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে উইকিপিডিয়া
হাম আপকে হ্যায় কৌন উইকিপিডিয়া

২০০০-২০১৫: গল্প বলার নতুন রূপ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমার উত্থান

এই যুগে পরিচালকরা সাহস পেলেন। ছোট ছোট গল্প, নতুন মুখ, বাস্তব চরিত্র নিয়ে সিনেমা তৈরি হল।

উল্লেখযোগ্য বাংলা ছবি:

  • হারবার্ট, অটোগ্রাফ, ভূতের ভবিশ্যত
    হিন্দি:
  • তারে জমিন পার, রং দে বাসন্তী, বরফি, রানী
Rang De Basanti Poster| ফটো: বাসু কর

OTT তখনও ছিল না, কিন্তু ইউটিউব আর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্বাধীন ছবি দেখার অভ্যাস তৈরি হচ্ছিল।
হারবার্ট (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
অটোগ্রাফ (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
ভূতের ভবিষ্যৎ উইকিপিডিয়া
তারে জমিন পার উইকিপিডিয়া
রঙ দে বাসন্তী উইকিপিডিয়া
বরফি ! উইকিপিডিয়া
রানী উইকিপিডিয়া

২০১5-২০২৫: ডিজিটাল যুগ, ভাঙা গড়ার গল্প, আর OTT-র রাজত্ব

আজকের দিনে সিনেমা মানেই শুধু বড় পর্দা নয়। স্মার্টফোনে, ল্যাপটপে, OTT-তে সিনেমা দেখা যায়—যখন খুশি, যেমন খুশি।

উল্লেখযোগ্য বিষয়:

  • কোভিডের সময় সিনেমা হল বন্ধ থাকলেও সিনেমা থেমে যায়নি।
  • পাতাল লোক, সেক্রেড গেমস, গুল্লাক, রকেট বয়েজ প্রমাণ করে গল্পই আসল রত্ন।
  • বাংলা সিনেমাতেও নতুন দিশা এসেছে—ভিঞ্চি দা, দস্তোজী, অর্ধাঙ্গিনী, বল্লভপুরের রূপকথা

নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা যেমন অনিক দত্ত, অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখার্জি আমাদের দেখিয়েছেন, ভালো গল্প কখনোই পুরোনো হয় না।
পাতাল লোক উইকিপিডিয়া
সেক্রেড গেমস উইকিপিডিয়া
গুল্লাক উইকিপিডিয়া
রকেট বয়েজ উইকিপিডিয়া
ভিঞ্চি দা উইকিপিডিয়া
দস্তোজি উইকিপিডিয়া
অর্ধাঙ্গিনী উইকিপিডিয়া
ভল্লবপুরের রূপকথা উইকিপিডিয়া

সিনেমা মানেই আবেগ, স্মৃতি আর আমাদের নিজের একটা জায়গা

৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমা আমাদের কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে, ভাবিয়েছে। যেটা বদলায়নি, সেটা হল দর্শকের ভালোবাসা। সিনেমা মানেই প্রথম ডেট, কলেজ কাটিয়ে বন্ধুর সঙ্গে ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’, মায়ের চোখে জল, বাবার নস্টালজিয়া।

শেষ কথা:
চলচ্চিত্র শুধু গল্প নয়, এ আমাদের সময়ের কণ্ঠস্বর। ১৯৪৭ থেকে আজ ২০২৫—সিনেমা আমাদের সমাজ, মন ও অনুভবের বিবর্তনের এক জাদুকরী আয়না। এই আয়নার দিকে তাকিয়ে আমরা নিজেদের চেনা যায়, সময়কে স্পর্শ করা যায়।

সুজয় সাঁতরা ও আইকিওর : স্বাস্থসেবায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ 

আইকিওর প্রতিষ্ঠার পূর্বের যন্ত্রণার কথা : 

ছবি সুজয় সাতঁরা // তথ্য – বিসনেস টুডে

প্রযুক্তির ছাত্র এই বঙ্গ তনয় বিদেশে ওরাকল ও আইবিএম এ বহুদিন কর্মরত হলেও ২০১০ সালে ফিরে আসলেন দেশে। উপার্জনের বিলাসিতায় বদ্ধ না থেকে তুলে নিলেন এক দায়বদ্ধতা। সেটি সামাজিক, মানসিক, পারিবারিক ও আত্মসঙ্কট হতে পারে। ২০১০ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু তাঁকে নাড়িয়ে যায় গভীর ভাবে।  পশ্চিম বঙ্গের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে রুগ্ন ভঙ্গুর স্বাস্থ পরিষেবা যার অন্যতম কারণ। ভুল চিকিৎসায় হারিয়ে ফেলা পিতা ও এই মৃত্যুশোক চোখ ফুটিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় গ্রামীণ স্বাস্থ সেবার করুণ অবস্থা। গ্রামীণ জনসংখ্যা যেখানে ৬৫% অধিক সেখানে শহরে ৭৫% ডাক্তার থাকার কারণে গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৬০% সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ঠিক এমন এক সময় জন্ম নেয় আইকিওর। পিতার ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু, গ্রামীণ বেহাল স্বাস্থ দশা, উপযুক্ত ও চটজলদি ওষুদের অভাব সব মিলিয়ে এই সমস্যার অভিঘাত থেকে বেড়িয়ে আসার নকশা পত্র শুরু হয়ে থাকে। 

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া 

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, ভারতে ৫০,০০০ এরও বেশি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।। সৌজন্যে আইকিওর

প্রযুক্তির প্রতি প্রেম তার ছিলই, সাথে ছিল নতুন কিছু করার উদ্ভাবনী মানসিক শক্তি।যার দ্বারা তিনি চেয়েছেলিন সামাজিক এক রদ বদল, সবার স্বার্থে সবাইকে নিয়ে,যাদের বিশেষ ভাবে দরকার,সেই প্রয়োজনের প্রিয়জন হয়ে। তিনি দেখলেন স্বাস্থ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসম্ভব কে সম্ভব করা যায়। সমাজের বিভিন্ন দিককে কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও  প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।  এটাই কি বহুসময় ধরে চলে আসা মানুষের মনের কথা নয় ? শিক্ষা স্বাস্থ্য মৌলিক অধিকার যদি রুগ্ন হয়ে পরে তবে তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দরকার এমন দৃঢ় মানসিকতা ,সামাজিক দ্বায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি ও বিবেকের মেল্ বন্ধন। 

আইকিওরের কর্ম প্রক্রিয়া : 

হমহামারীটি ওপিডি পরিষেবায় একটি বিস্তৃত ব্যবধান তৈরি করেছে ।। সৌজন্যে আইকিওর

WHIMS প্ল্যাটফর্ম ও কমিউনিটি হেলথ এক্টিভিস্ট iCHAs 

 WHIMS প্লাটফর্ম – আইকিওর নিজে ক্লাউড ভিত্তিক পেটেন্ট পেন্ডিং প্লাটফর্ম টি ব্যবহার করে যা সংস্থাটির প্রধান দায়িত্বে বর্তমান। কম ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথে গ্রামীণ সংযোগের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ডাক্তারের উপস্থিতি, চিকিৎসা নির্ধারণ, রোগীর ইতিহাস, ওষুধের দোকানে পর্যাপ্ত ওষুদের ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্বাস্থসেবা কেন্দ্র গুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

 আইকিওর প্রশিক্ষ্যিত হেলথ কেয়ার এক্টিভিস্ট iCHAs ডাক্তারদের সাথে প্রাথমিক সংযোগ তৈরী করে বলে রোগ নির্ণয়ের প্রথম পর্বটি সারা হয়ে যায়। এই চালিত সরঞ্জাম দিয়ে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও চলমান চিকিৎসা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ নির্ণয় সম্ভবপর হয়। 

হাব এন্ড স্পোক মডেল গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা গুলি কে হাব ক্লিনিক্যের সাথে এবং শহরের বিভিন্ন ডাক্তারদের সাথে সংযুক্ত করে রাখে।  Raise Your Concern About this Content

আইকিওর ভারতের ৯টি রাজ্যে ৬৪০০ টি গ্রামে লক্ষলক্ষ মানুষ কে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সমর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নয়নমুখী এর বিস্তার দেশে তথা বিদেশে হতে চলেছে। বেঙ্গালুরু থেকে ভিয়েনাম, নাগাল্যান্ডের প্রান্তিক গ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে আইকিওর। 

আরো জানতে পড়ুন https://ikuretechsoft.com/

“ব্যার্থতার মধ্যে দিয়ে বেঁচে থেকে জীবনে জয়ী হওয়া 

পতনের মধ্য দিয়ে সফল হতে শেখা “-

মোট HUBS 9 এবং 160 টাচ পয়েন্টের সংখ্যা।। সৌজন্যে আইকিওরের

লুজিং বিগ উইনিং বিগার বইটির লেখক তিনি। উধৃতিটি  এই বইটির মূল বক্তব্য হিসাবে ধরা যেতে পারে । যা পরে বোঝা যায়, কিভাবে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের মাধ্যমে যুব সমাজকে তিনি উপহার দিয়ে গেছেন তার অভিজ্ঞতার অমূল্য সম্পদ । স্বপ্ন কম বেশি সকলেই দেখে, কিন্তু তাকে সঠিক পরিকল্পনায় রূপ দান করে, দিনের পর দিন ছোট বড়ো বাধা গুলোকে সরিয়ে, লক্ষ্যে উপনীত হয়ে সমাজের কল্যাণ সাধন করা যায়, সুজয় সাঁতরা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 

ঠিকানা 

আইকিওর টেকসফ্ট প্রাইভেট লিমিটেড
কর্পোরেট অফিস
১৪১/A যোধপুর গার্ডেন
কলকাতা ৭০০০৪৫
ওয়েস্ট বেঙ্গল
ফোন – ০৩৩-৩৫৫২-২৫৯২
ইমেইল : contactus@ikure.in 

 


তথ্যসূত্র : –

১) ইওর স্টোরি ডট কম 
২) চেঞ্জ মেকার 
৩) ভিকট্রি টেলস 
৪) রিসার্চ গেট

বর্ষায় ভ্রমণ: বিশ্বজুড়ে এক নতুন উন্মাদনা!

যেমন মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জী – বৃষ্টি সেখানে প্রায় প্রতিদিন তার বারোমাস্যার অভিধান লিখে রাখে। সবুজ শ্যামল প্রকৃতি সেখানে প্রতিদিনের বারিধারায় যেন আরো শুদ্ধ থেকে শুদ্ধ্বতর, মলিনতার কোনো  দাগ জমতে দিতে পারেনা। অথবা কেরালার হাউস বোট ভ্রমণ। দুপ্রান্তে নারকোল গাছের অপরূপ বিস্তার দেখতে দেখতে যাত্রী চলে নতুন কোনো জগতে, বিস্ময়ে দেখে বৃষ্টিও সাদর আমন্ত্রণ জানায় । কিংবা দার্জিলিং এ কুয়াশা ভেজা সকাল, সফরসঙ্গী থাক বা না থাক,মাতৃস্নেহের ওমের মতোই মন জুড়ে থেকে যাবে তার রেশ। কম ভিড়ে শান্ত পরিবেশে এমন বর্ষার -ভ্রমণ এক নতুন অভিজ্ঞতার মর্মস্পর্শী জীবন্ত স্মৃতি হয়ে থাকবে। বাড়তি লাভ হবে অফ সিজেনের সহজলভ্য হোটেল রেস্তোরাগুলি।  যেখানে জানলার পাশে বসে এক কাপ গরম চায়ের সাথে সময় কাটাবে বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি। যদি ট্রেকিংএ মন ছোটে তবে বৃষ্টি ভেজা অরণ্যের মধ্যে টিলা পাথরের সাথে কথা বলতে বলতে বেশ উপভোগ করা যাবে এমন মরশুম। 

Raise Your Concern About this Content

প্রচলিত ধারণার বাইরে :  বিশ্ব জুড়ে বর্ষা ভ্রমণ

দেশের বাইরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় রয়েছে সবুজে ঢাকা ধানক্ষেতের শহর ভিয়েতনাম। এখানে হা লং বে বেশ উপভোগ্য। থাইল্যান্ড এর পাহাড়ি সৌন্দর্য্য ও দ্বীপ ভ্রমণ ও এই বর্ষার গন্তব্য হতে পারে। বর্ষায় স্কটল্যান্ড এর ক্যাসল হোক বা আয়ারল্যান্ড এর সবুজ উপত্যকা আর প্রাচীন দুর্গ আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। 

আয়ারল্যান্ড // নিজস্ব চিত্র
স্কটল্যান্ড // নিজস্ব চিত্র

ভাতবর্ষের মধ্যে বর্ষার সেরা ঠিকানা হতে পারে কেরালা, গোয়া, মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক, মেঘালয়, দার্জিলিং/কালিম্পঙ।  হাউস বোট  ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য কেরালা, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত সমুদ্রের গর্জনের জন্য গোয়া, কর্ণাটক ও কেরালার জলপ্রপাত, মেঘালয়ের শ্বাসরুদ্ধকর জীবন্ত মূল সেতু আর দার্জিলিং কালিম্পঙের কুয়াশা মেঘ ও চায়ের বাগান বর্ষার সেরা ভ্রমণ ঠিকানা। 

 ঘরের কাছে বর্ষার আকর্ষণ 

ঘরের কাছে এই বাংলায় গন্তব্য হতে পারে পুরুলিয়ার সবুজ পাহাড়, মুর্গাম ড্যাম যেখানে বর্ষার এক অনন্য রূপের সন্ধান পাওয়া যাবে। অথবা মন্ডল গাঁও বা শান্তিনিকেতন এর সাথে অবস্থিত গ্রাম গুলির সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় যেন আরও রূপ মেলে ধরে। বর্ষার ম্যানগ্রোভ অরণ্য আর মেঘে ঢাকা নদীর অপরূপ দৃশ্যের সাক্ষ্যি হতে চাইলে চলে আসতে হবে সুন্দরবন। আর দীঘা মন্দারমনির ভিড়বিহীন  সমুদ্র সৈকত মেঘলা দিনে সমুদ্রের গর্জন মন ছুঁতে বাধ্য করবে। 

এ রাজ্যের পার্শবর্তী জায়গা গুলোর মধ্যে দেখে নেওয়া যেতে পারে ওড়িশার কোনার্ক ও পুরীর ঐতিহাসিক স্থান গুলো। ঝর্ণা আর সবুজ অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের দিনরাত্রির গল্প শুনতে ঝাড়খন্ড অনন্য। 

বর্ষায় ওড়িশার দারিংবারি //নিজস্ব চিত্র

বর্ষা ভ্রমণের বিশেষ প্রস্তুতি : 

  • জল নিরোধক জুতো ব্যাগ ছোট দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া কাপড় 
  • ফার্স্ট এইড বাক্স মশা মাছি জংলী পোকার কামড় থেকে রক্ষ্যা করবার অয়েনমেন্ট ক্রিম। 
  • জল ও খাবার সংক্রান্ত সাবধানতা 
  • ভ্রমণ সংক্রান্ত বীমা 
  • হোটেল রিভিউ দেখে রুম বুকিং 
  • আবহাওয়া সংক্রান্ত  অগ্রিম তথ্য 

উপরোক্ত বিষয় গুলো ভ্রমণের পূর্বে একবার চোখ বুলিয়ে নিলে বর্ষা কালীন ভ্রমণের কিছু অসুবিধা দূর করা সম্ভব। 

গরমের দাবদাহে তৃষ্ণাত্র মাটির ওপর বৃষ্টির জল পরে যে সুবাস আসে তাকে বলে পেট্রিকোর। মাটির এই বৃষ্টি ভেজা সুবাস জানান দিয়ে যায় প্রতীক্ষিত বর্ষার আগমন। প্রাকৃতিক রূপরেখা বলে যায় এবার আত্ম প্রতিফলনে সৃজনশীলতার সময় – সময় এবার হারিয়ে যাওয়ার কাছে দূরে বা আরো দূরে। প্রকৃতি প্রেমীর কাছে বর্ষা ভ্রমণ অপার্থিব জগতে হারিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ। 

তথ্যসূত্র : 

১) এই সময় 

২) প্রথম আলো 

৩) সময়ের আলো 

৪) ভ্রমণ

৫) বর্ষায় সেরা দশটি জায়গা

ঝুলন যাত্রার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য্য

ঝুলন কি ও কেন ?

শিশুদের সকলের প্রিয় ঝুলন পুতুলখেলারই এক রূপ; এভাবেই হয় শিশুদের রাঁধা-কৃষ্ণ পুজোর হাতেখড়ি // নিজস্ব চিত্র

ঝুলন যাত্রা আশি নব্বইয়ের দশকেও যথেষ্ট প্রচলিত এক উৎসব ছিল। তখন ঘরে ঘরে রাধা কৃষ্ণের আবহমান কাল ধরে বয়ে চলা প্রেমরসসুধার এক প্রাণবন্ত চমৎকার আনুষ্ঠানিক প্রবাহ অনুভব করা যেত। সময়ের দ্রুত আধুনিকীকরণের সাথে সাথে হারাতে বসেছে সেই সব চোখ জুড়ানো অতীত। পরিবারের ছোট বড় সবার সাথে আকাশ পাহাড় মাঠ নদী বানানো দ্বারা যে এক জগৎ বানানো যায় আর তাতে পুরুষ ও প্রকৃতির একতার প্রতিমূর্তি কে সেই সৃষ্ট জগতের আদর্শ হিসাবে এক অপূর্ব আবহ সৃষ্টি করা যেতে পারে তা না জানা থাকলে বড় কিছু বাদ পরে যায়। জীবন মানেই যে ক্যারিয়ার আর টাকা গড়ার এক যন্ত্র নয় ,তাতে অনুভব আছে, সৃষ্টিশীলতা আছে, তার আনন্দ আছে, এ সত্য ভুলে গেলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য মুশকিল। জীবনী শক্তিকে হারাতে দিতে নেই। আর তার জন্যই উৎসব – জীবন যাত্রার এই  উৎসব পালন করতে জানতে হয়।

চিত্র সূত্র: ইস্কন

 ঝুলনে কুমোরটুলি 

 এই যে ঝুলন যাত্রার আবহে কুমোরটুলি সেজে ওঠে ছোট বড় হরেক রকম পুতুলের সম্ভারে,সেখানে খোঁজ করলে কিনা পাওয়া যেতে পারে। জঙ্গলের হাতি বাঘ, মাঠে বল খেলা খেলুড়ে, মাঠে চাষ করা কৃষক আর সদানন্দে নন্দিত শ্রী কৃষ্ণ রাধার যুগল মূর্তি তো আছেই। কি অসাধারণ কারিগরি দক্ষতার সাথে সৃজনশীলতা মিশিয়ে তৈরী করা হয় এমন সব ছোট ছোট পুতুল। শুধু কুমোরটুলি কেন? এই সময়ে  বাজারে দোকানে অলিতে গলিতে পাশ কাটলেই চোখে পরবে এমন সব সম্ভার। বোঝা যায়, ঝুলন যাত্রার আগমন ক্ষণ। ঝুলন যাত্রার মতো উৎসব আছে বলে কুমোরটুলি আজও ধরে রেখেছে  তার অস্তিত্বকে । 

আধ্যাত্মিক তাৎপর্য্য 

দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনে শ্রী কৃষ্ণ রাধা ও সখি দ্বারা লীলায়তো এই উৎসব- ঝুলান উৎসব। শ্রাবন মাসের রথ যাত্রা, রাস যাত্রা, স্নান যাত্রার মতো ঝুলন যাত্রাও শ্রী কৃষ্ণের বারোটি যাত্রার মধ্যে অন্যতম। তবে, পুজো নয় বলে যাত্রা কেনো ? কারণ, পরমাত্মা শ্রী ভ্গবান স্বয়ং এই যাত্রায় তাঁর লীলায় ভক্ত হৃদয় প্রবেশ করেন। ঝুলন অর্থে দোলা। শ্রাবনের এই ঝুলন যাত্রা ভক্ত তার ইষ্টের সাথে একাত্ম হওয়ার মাধ্যম বিশেষ। তাই উৎসব পালনের মাধ্যমে প্রেম-যুগল বিগ্রহকে দোলায় ঝুলিয়ে মানসিক ভাবে ভক্ত মন এই লীলাসময়ের আধ্যাত্মিক রস আস্বাদন করেন। তাই তা কে পুজো না বলে ঝুলন যাত্রা বলা হয়। 

ঘরের এক কোণে সাজান ঝুলন একসপ্তাহ ধরে জমজমাট সাজিয়ে রাখা হয় // নিজস্ব চিত্র

আধ্যাত্মিক সংযোগ হলো হিন্দু ধর্মের যেকোনো উৎসবের প্রাণ বিন্দু। তা বিভিন্ন পূজার মাধ্যমে হোক বা যাত্রা বা উৎসবের মাধ্যম হোক, প্রতীকী রূপে  আসল হলো ভক্ত ও পরমাত্মার একাত্মতা। 

পূর্ব পশ্চিম দোলে রাধা কৃষ্ণের ঝুলন দোলা আসলে প্রকৃতি সত্বাকে দ্বৈত রূপে প্রকাশ করা। সকল শক্তির উৎস সূর্য্যকে যেমন পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি তেমনই পূর্ব পশ্চিম দোলে সর্বশক্তি অধিকারী শ্রী ভগবানের লীলা ও শক্তিকে বোঝানো হয়।  

সর্বেশ্বরবাদ -হিন্দু ধর্মের মূল তত্ত্বে সর্ব ভুতে সর্ব ক্ষেত্রে ঈশ্বর বিরাজমান। আকাশ মাটি জল আগুন উদ্ভিদ এমনকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণের মধ্যেও শ্রী ভগবান বিরাজ করেন বলে গাছ মাটি পাহাড় ক্ষেত্ সাজিয়ে সর্বরূপে তার পূজা করা হয়। ঝুলন উৎসবে তাই প্রকৃতিকে বাস্তবায়িত করে জগৎ সাজানো হয় যার মুলে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ-রাধা,ব্রহ্ম-শক্তির অপূর্ব মিলন বা জীবাত্মা পরমাত্মায় এক হয়ে যাওয়া। Raise Your Concern About this Content

ঝুলন বাড়ি– কলকাতায় বৌবাজারে অবস্থিত রামকানাই অধিকারীর বাড়ি ঝুলন বাড়ি নাম অভিহিত। প্রায় ২০০ বছর আগে কৃষ্ণ মোহন অধিকারী নিজ গৃহে ঝুলন উৎসবের সূচনা করেন। পাঁচ দিন ব্যাপী এই উৎসবে দেবতাকে প্রথমে রাখাল বেশ তারপর যোগী বেশ,পর্যায়ক্রমে সুবল, কোটাল ও শেষে রাজ্ বেশে পুজো করা হয়। এছাড়াও খড়দহের শ্যামসুন্দর মন্দির, বিষ্ণুপুরের মদন মোহন জিউর মন্দির, বরানগর বক্শি বাড়ি বাংলার প্রখ্যাত ঝুলান যাত্রা উৎসবের প্রতীকী। 

ঝুলন যাত্রা উৎসব স্থান  – বৈষ্ণব পন্থী বিশ্বব্যাপী ভক্তগণের কাছে দেশে ও বিদেশে মায়াপুর ও ইস্কনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র গুলো ঝুলন উৎসব পালন করে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ যা গুপ্ত বৃন্দাবন নামে পরিচিত, সেখানে গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা মহা সমারোহে এই উৎসব পালন করে থাকে। 

ঝুলন যাত্রার সময় কাল ও তিথি -এবছর ২০২৫ এ ৫ই আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৯ আগস্ট অবধি ঝুলন যাত্রা পালিত হবে। 

তথ্য সূত্র ➖

১) হিন্দুস্তান টাইমস
২) ইস্কন
৩) চৈতন্য সন্দেশ   
৪)বাংলা পঞ্জিকা 
৫)ঝুলন যাত্রার ইতিহাস

ঢাকা শহরের ইতিকথা 

ছবিঃ বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ বুড়িগঙ্গার তীরের ঢাকা শহর আজ বাংলাদেশের রাজধানী।। ফটো: ফ্রিপিক’র সৌজন্যে

ঢাকার ইতিহাস থেকে জানা যায়,মোঘল আমলে ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্পদশালী প্রদেশ হিসাবে ঢাকার অভূতপূর্ব উত্থান হয়েছিল। সেসময়ে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য বিশেষত মসলিন রপ্তানির জন্য অর্থনৈতিকগত ভাবে পরিপুষ্ট ও প্রশাসনিকগত একটি সমৃদ্ধশালী নাগরী হিসাবে পরিগণিত হয়েছিল। 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির

ছবিঃ 1. সন ১৯০৪ – বুড়িগঙ্গার তীরে বিরাজমান মা ঢাকেশ্বরী মন্দির।। ফটো: Fritz Kapp – ব্রিটিশ লাইব্রেরী’র সৌজন্যে। 2. মা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সম্মুখ গেট।। ফটো: রাজীব হাসান ও উইকিপিডিয়া‘র সৌজন্যে। 3. মা ঢাকেশ্বরী ।। ফটো: রাজীব হাসান ও উইকিপিডিয়া‘র সৌজন্যে। 4.মা ঢাকেশ্বরী মন্দির ।। ফটো: ইসরাৎ জাহান ও উইকিপিডিয়া’র সৌজন্যে।
ছবিঃ অধুনা বাংলদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত জাতীয় শহীদদের স্মৃতি।। ফটো: Pixabay’র সৌজন্যে

নাম করণ ঢাকা শহরের নাম করণের নানা কাহিনী বিদ্যমান । ঢাকেশ্বরী দেবীর মন্দির থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি। মনে করা হয় যে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পেলে সেখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।দেবী দূর্গা ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো বলে মন্দিরের নাম হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। এই মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকা শহর নামের উৎপত্তি।  কারো মতে এই অঞ্চলে ঢাক গাছ বা বুটি ফুডোসা প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেত বলে এই জায়গার নাম ঢাকা দেওয়া হয়েছে । রাজধানীর উদ্বোধনের দিন ঢাক বাজানো হয়েছিল বলে কেউ কেউ বলেন তা থেকেই ঢাকা নগরীর নাম হয়েছে । তাছাড়াও অতীতে ঢাক ভাষা নামে একটি প্রকৃত ভাষা ছিল । রাজতরঙ্গিনী তে আছে ঢাক্কা শব্দ যার অর্থ পর্যবেক্ষণ এছাড়াও এলাহাবাদ শিলালিপিতে সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ডবাক  হলো ঢাকা  কেন্দ্র।  

দর্শনীয় স্থান: ঢাকার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকেশ্বরী মন্দির ইত্যাদি । 

সিধ্বেশ্বরী মন্দির

ছবিঃ ঢাকা শহরে বিরাজমান মা সিধ্যেশ্বরী কালী মন্দির।। ফটো: সংবাদ প্রতিদিনের সৌজন্যে

পুরনো ঢাকার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৫০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির। প্রত্যেক বছর দূর্গা পূজা কালিপূজায় এখানে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। মন্দিরের নামেই এলাকার নাম হয়েছে সিদ্ধেশ্বরী লেন। কথিত আছে, বিক্রমপুরের তৎকালীন জমিদার চাঁদ রায় আনুমানিক ১৫৮০ সালে মন্দিরটি তৈরী করেন। এখানে একসময় নরবলি হতো। বাংলার আধ্যাত্মীক জগতের সাধিকা আনন্দময়ী মা ১৯২৬ সালে এখানে তার সাধনকালে ভক্তদের মধ্যে ধার্মিক উর্জা প্রদান করেন। ফলস্বরূপ দিকে দিকে মন্দিরের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যায় শ্যামা পুজো,শারদীয়া দূর্গা পুজো,জগদ্ধাত্রী পুজো,জন্মাষ্টমী ও শোভা যাত্রা,মহাশিবরাত্রি,বাসন্তী পুজো,সরস্বতী পুজো সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্রদের বস্ত্র বিতরণ,ধর্ম সভা তারকব্রম্ভ নাম যজ্ঞানুষ্ঠান,নাম সংকীর্তন,গীতা শিক্ষ্যা প্রদান বারো  মাস ধরে চলে। 

ঢাকাই  মসলিন

ছবিঃ ঢাকাই মসলিন যুগযুগ ধরে বিশ্ব প্রসিদ্ধ।। ফটো: ফ্রিপিকর সৌজন্যে

 ঢাকাই মসলিন হোল ফুটি কার্পাস সুতোয় তৈরী হস্তচালিত তাঁতে বোনা অতি সূক্ষ্য কাপড় যা ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি শাড়িকে অনায়াসে দেশলাই বক্সে ভোরে রাখা যায়। ঢাকায় মসলিনের আদি ঘর এই ঢাকাকেই বোঝায়। বাংলাদেশের সোনার গাও এবং ঢাকা মসলিনের আঁতুরঘর। প্রাচীনকালে ঢাকায় মসলিন ছিল সর্বাধিক মূল্যবান কাপড়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। 

ঢাকাই জামদানি শাড়ি 

 বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারি আর্থিক সাহায্যে ঢাকার ডেমরায়, কিশোরগঞ্জ, নোয়াপাড়া জামদানি শিল্পের উন্নতি শুরু হয়। বর্তমানে জামদানির ব্যাপক চাহিদা এবং উচ্চ মূল্যের কারণে এই শিল্প ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। ইউনেস্কো এই শিল্প কে ‘ইন্ট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’র স্বীকৃতি দান করেছে। এছাড়াও জি আই জামদানিকে ঐতিহ্যবাহী পণ্যে হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। 

ছবিঃ ঢাকা শহরের জল যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক অংশেই বুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্ভরশীল। সকলের অবহেলায় আজ এই নদী সম্পূর্ণ দূষিত।। ফটো: সাইমন রাজা – পিক্সেলস’র সৌজন্যে
ছবিঃ ঢাকা শহরের দৈনন্দিন জীবন।। ফটো: ফ্রীপিক’র সৌজন্যে

বাংলাদেশের দূষিত যদি গুলির মধ্যে বুড়িগঙ্গা অন্যতম। নদীর ৪০%দূষণের কারণ ২৫১ টি পাইপলাইনের মধ্যে সরাসরি অপরিশোধিত বর্জ্য এসে মিশছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আহমদ কারুজ্জমান মজুমদার বলেন, “বুড়িগঙ্গা যদি  প্রাথমিক উৎস অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য, বর্জ্য ফেলার পয়েন্ট এবং নদীপথে চলা যানবাহন থেকে নির্গত বর্জ্য। বিশ্ব সাস্থ সংস্থার মতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত যদি গুলির মধ্যে একটি হলো বুড়িগঙ্গা। প্রতিদিন শহরের ৬০ হাজার ঘনমিটারের বেশি বিষাক্ত এ নদীতে ফেলা হয়। বুড়িগঙ্গাকে প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নদীর তীরে অপরিশোধিত পয় নিষ্কাশন ও বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে একটি  সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্রঃ