Homeপার্বণীঅষ্টমীর বিদায়, নবমীর শুরু—কেন এই ৪৮ মিনিটেই জ্বলে ১০৮ প্রদীপ?

অষ্টমীর বিদায়, নবমীর শুরু—কেন এই ৪৮ মিনিটেই জ্বলে ১০৮ প্রদীপ?

কিন্তু কেন অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণেই এই পুজো? কেন সময়টা ঠিক ৪৮ মিনিট? আর কেন দেবীর সামনে জ্বালানো হয় ঠিক ১০৮টি প্রদীপ? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলে পৌঁছে যেতে হয় পুরাণ, তন্ত্রসাধনা, হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক এবং বাংলার দীর্ঘ দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যের কাছে।

অষ্টমী-নবমীর মাঝের ৪৮ মিনিট

‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ সংযোগ বা মিলন। অর্থাৎ দুটি সময় বা তিথির মিলনস্থল। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিটকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ। এই সময়েই অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপুজো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই ৪৮ মিনিট ঘড়ির কাঁটা ধরে প্রতি বছর একই সময়ে হয় না। তিথির পরিবর্তনের সময় অনুসারে সন্ধিপুজোর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত হয়। তাই দুর্গাপুজোর পঞ্জিকা বা নির্দিষ্ট বছরের তিথি-নির্ঘণ্ট অনুসরণ করেই এই পুজোর সময় ঠিক করা হয়।

অষ্টমী থেকে নবমীতে প্রবেশের এই সময়টিকে ধর্মীয় পরম্পরায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। একটি তিথির অবসান এবং অন্য তিথির সূচনা—অর্থাৎ পুরনোর শেষ এবং নতুনের শুরুর এই সীমারেখাই হয়ে ওঠে দেবী আরাধনার বিশেষ মুহূর্ত।

সন্ধিপুজোর সঙ্গে চামুণ্ডার কাহিনি

সন্ধিপুজোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পৌরাণিক কাহিনিটি জড়িয়ে রয়েছে, তা হল চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরের বধ। দেবী মাহাত্ম্য বা মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবীর মহিষাসুরমর্দিনী রূপের পাশাপাশি চণ্ড ও মুণ্ড বধের কাহিনিও রয়েছে। সেখানে দেবীর এক ভয়ংকর রূপের আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে। চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করার পর সেই দেবী ‘চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত হন—চণ্ড ও মুণ্ড, এই দুই অসুরের নাম থেকেই ‘চামুণ্ডা’ নামের উৎপত্তি বলে ধর্মীয় ব্যাখ্যায় ধরা হয়।

বাংলার দুর্গাপুজোর প্রচলিত আচার-পরম্পরায় অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণকে সেই দেবীশক্তির প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই সময়ের পুজোয় দেবীর উগ্র ও শক্তিময় রূপের আরাধনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সন্ধিপুজো তাই কেবল আর একটি পুজোর পর্ব নয়। এর মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীকী ভাবনা।

কেন ১০৮ প্রদীপ?

সন্ধিপুজোর সবচেয়ে পরিচিত রীতিগুলির একটি হল ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো। কিন্তু ১০৮ সংখ্যাটিই কেন?

হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতিতে ১০৮ একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যা। জপমালায় সাধারণত ১০৮টি দানা থাকে। বহু দেবতার নামস্মরণ, মন্ত্রজপ এবং ধর্মীয় আচারেও ১০৮ সংখ্যার ব্যবহার দেখা যায়।

তবে ১০৮ সংখ্যার ব্যাখ্যা একটিমাত্র নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরায় এই সংখ্যাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান, যোগসাধনা, তন্ত্র এবং মন্ত্রচর্চার সঙ্গেও ১০৮ সংখ্যার নানা প্রতীকী সম্পর্কের কথা বলা হয়।

সন্ধিপুজোয় ১০৮ প্রদীপ জ্বালানোর অর্থ তাই শুধু ‘নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রদীপ’ জ্বালানো নয়। এই সংখ্যা পূর্ণতা, পবিত্রতা এবং দেবীর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের একটি প্রতীকী রূপ হিসেবেও বিবেচিত হয়। আর প্রদীপের নিজস্ব প্রতীকী অর্থও গভীর।

অন্ধকার দূর করে আলো। তাই প্রদীপ বহু ধর্মীয় আচারে জ্ঞান, শুভশক্তি, পবিত্রতা এবং অশুভের বিনাশের প্রতীক। দেবীর সামনে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে সেই আলোরই আহ্বান থাকে।

১০৮ পদ্মের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে কাহিনি

সন্ধিপুজোর সঙ্গে ১০৮ প্রদীপের পাশাপাশি ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের রীতিও বহু জায়গায় প্রচলিত। পদ্ম হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় অত্যন্ত পবিত্র ফুল। কাদাজলে জন্মালেও পদ্ম তার সৌন্দর্য ও নির্মলতা বজায় রাখে। সেই কারণে পদ্মকে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও আত্মিক বিকাশের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

দেবীর সামনে ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের সঙ্গে বাংলার দুর্গাপুজোর আর একটি বহুল প্রচলিত কাহিনি জড়িয়ে আছে—শ্রীরামের অকালবোধন।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

শ্রীরামের অকালবোধন ও ১০৮ পদ্ম

বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে শ্রীরামের অকালবোধনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে শ্রীরাম দেবীর আরাধনা করেছিলেন। শরৎকালে দেবীর এই আরাধনাই ‘অকালবোধন’ নামে পরিচিত।

দেবীকে সন্তুষ্ট করতে শ্রীরাম ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পুজো করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুজোর সময় দেখা যায়, একটি পদ্ম কম রয়েছে।

শ্রীরামের চোখকে পদ্মের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই একটি পদ্মের ঘাটতি পূরণ করতে তিনি নিজের একটি চোখ উৎসর্গ করার সংকল্প করেন। তাঁর এই ভক্তি ও আত্মত্যাগের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী তাঁকে আশীর্বাদ করেন—এমনটাই বাংলার রামায়ণ-পরম্পরায় প্রচলিত কাহিনি।

তবে ইতিহাস ও ধর্মীয় সাহিত্যের বিচারে এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন। ১০৮ পদ্ম ও নিজের চোখ উৎসর্গ করার এই কাহিনি মূলত কৃত্তিবাসী রামায়ণ ও বাংলার লোক-পরম্পরার সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত। বাল্মীকি রামায়ণের মূল আখ্যানে এই একই বিবরণ পাওয়া যায় না।

অর্থাৎ ১০৮ পদ্মের সঙ্গে যে গল্পটি বাঙালির দুর্গাপুজোর স্মৃতিতে গভীরভাবে মিশে রয়েছে, তা বাংলার নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রদীপের আলো কি শুধু আচার?

সন্ধিপুজোর সময় ১০৮টি প্রদীপ জ্বলে উঠলে তার দৃশ্য নিঃসন্দেহে মনমুগ্ধকর। কিন্তু এর তাৎপর্য কেবল সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়।

প্রাচীন ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতিতে আগুন ও আলোকে পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যজ্ঞের অগ্নি থেকে মন্দিরের প্রদীপ—আলোকে অন্ধকার, অজ্ঞানতা ও অশুভের বিপরীতে শুভশক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। সন্ধিপুজোর ১০৮ প্রদীপের ক্ষেত্রেও সেই প্রতীকী অর্থ গুরুত্বপূর্ণ।

একটি একটি করে প্রদীপ জ্বলে ওঠে। অন্ধকার মণ্ডপ ধীরে ধীরে আলোকিত হয়। যেন অশুভের ওপর শুভের, অন্ধকারের ওপর আলোর এবং ভয়-দুর্বলতার ওপর শক্তির জয়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।

এই কারণেই সন্ধিপুজোর আলো শুধু মাটির প্রদীপের শিখা নয়; এটি ভক্তিরও আলো।

কেন এই সময়টিই এত গুরুত্বপূর্ণ?

ধর্মীয় দর্শনে ‘সন্ধিক্ষণ’কে বহু সময়েই বিশেষ তাৎপর্য দেওয়া হয়েছে। ভোর ও সন্ধ্যার মতো সময়কে দিনের দুই পর্বের সংযোগস্থল হিসেবে দেখা হয়। একইভাবে অষ্টমী ও নবমীর সংযোগও একটি পরিবর্তনের মুহূর্ত।

অষ্টমীর সঙ্গে যেমন দেবীর মহাশক্তির আরাধনা জড়িত, তেমনই নবমীও দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি। ফলে দুই তিথির মিলনমুহূর্তে দেবীর আরাধনা যেন শক্তির এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে প্রবেশের প্রতীক হয়ে ওঠে। এই কারণেই সন্ধিপুজোয় সময়ের গুরুত্ব এত বেশি।

পুজোর অন্য অনেক আচারে কয়েক মিনিট এদিক-ওদিক হওয়ার সুযোগ থাকলেও সন্ধিপুজোর ক্ষেত্রে তিথির নির্দিষ্ট সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়।

বাংলার বনেদি বাড়ি থেকে সর্বজনীন পুজো

সন্ধিপুজোর এই ঐতিহ্য শুধু পুরাণের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। বাংলার বহু বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলে আসছে।

কোথাও এখনও পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরা প্রদীপ সাজান। কোথাও পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে একসঙ্গে জ্বলে ওঠে ১০৮টি প্রদীপ। কোথাও আবার ১০৮ পদ্ম সংগ্রহ করাও পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

সর্বজনীন পুজোর মণ্ডপেও সন্ধিপুজো আজ বিশেষ আকর্ষণের মুহূর্ত। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করেন ১০৮ প্রদীপ জ্বলার সেই দৃশ্য দেখার জন্য।

অর্থাৎ শতাব্দী পেরিয়েও আচারটি তার আকর্ষণ হারায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তার অর্থের পরিসর আরও বেড়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এটি এখন বাংলার সাংস্কৃতিক স্মৃতিরও অংশ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

প্রদীপ, পদ্ম আর ঢাক—তিনের মিলনে এক অন্য আবহ

সন্ধিপুজোর সময় তিনটি জিনিস যেন একসঙ্গে মিশে যায়—প্রদীপের আলো, পদ্মের পবিত্রতা এবং ঢাকের শব্দ। ঢাকের প্রতিটি বোল মণ্ডপের পরিবেশকে বদলে দেয়। শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি সেই আবহকে আরও গভীর করে। আর দেবীর সামনে জ্বলতে থাকা ১০৮ প্রদীপ যেন সেই মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

অনেকের কাছে এটি নিছক ধর্মীয় আচার। আবার কারও কাছে এটি পারিবারিক স্মৃতি। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে সন্ধিপুজো দেখতে যাওয়া, ঠাকুমার কাছে ১০৮ প্রদীপের গল্প শোনা, কিংবা বনেদি বাড়ির মণ্ডপে রাতের অন্ধকারে প্রদীপের সারি দেখা—এসব স্মৃতিই ধীরে ধীরে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য হয়ে ওঠে।

সেই কারণেই সন্ধিপুজো বাঙালির কাছে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি আবেগেরও একটি মুহূর্ত।Raise Your Concern About this Content

১০৮ সংখ্যার আড়ালে আসলে কী?

১০৮ সংখ্যাটিকে ঘিরে নানা ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু সন্ধিপুজোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর প্রতীকী অর্থ। ১০৮ প্রদীপ যেন একসঙ্গে বহু প্রার্থনার প্রতীক। কেউ চান পরিবারের মঙ্গল। কেউ চান অসুস্থতা ও বিপদ থেকে মুক্তি। কেউ চান জীবনে নতুন পথের সন্ধান। আবার কেউ শুধু দেবীর সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নিজের মনকে শান্ত করতে চান।

প্রদীপের আলো তাই প্রত্যেকের কাছে আলাদা অর্থ বহন করতে পারে। একজনের কাছে তা শক্তি, অন্যজনের কাছে শান্তি। কারও কাছে আশীর্বাদ, কারও কাছে নতুন শুরুর প্রতীক।

অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট—সময় মাত্র ৪৮ মিনিট। কিন্তু এই সামান্য সময়ের মধ্যেই বাঙালির দুর্গাপুজো যেন তার বহু শতকের স্মৃতি, পুরাণ, বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করায়।

দেবীর সামনে জ্বলে ওঠা ১০৮ প্রদীপের প্রতিটি শিখা যেন সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যেরই সাক্ষী। চণ্ড-মুণ্ড বধের পৌরাণিক কাহিনি থেকে শ্রীরামের অকালবোধন, ১০৮ পদ্মের নিবেদন থেকে আলোর প্রতীক—সবকিছু মিলিয়ে সন্ধিপুজো হয়ে ওঠে দুর্গাপুজোর অন্যতম গভীর অর্থবহ পর্ব।

তাই সন্ধিপুজোর সময় যখন একে একে জ্বলে ওঠে ১০৮টি প্রদীপ, তখন শুধু একটি ধর্মীয় আচার সম্পূর্ণ হয় না। আলোয় ভরে ওঠে একটি বিশ্বাসও—অন্ধকার যত গভীরই হোক, তার শেষে আলো আসবেই। অষ্টমী শেষ হয়, নবমী শুরু হয়। একটি তিথির অবসানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় আর একটি তিথি। আর সেই পরিবর্তনের মুহূর্তে দেবীর সামনে জ্বলে থাকা ১০৮টি প্রদীপ যেন বলে যায়—শেষ মানেই সবকিছুর অবসান নয়, কখনও কখনও শেষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর আলো।

তথ্যসূত্র

১. ১০৮ প্রদীপের নেপথ্য কাহিনী
২. সন্ধিপুজোর ৪৮ মিনিট
৩. সন্ধিপুজোর তাৎপর্য

Author

- বিজ্ঞাপন -
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments