Homeপার্বণীদেবীকে বরণ, তারপর সিঁদুর খেলা! বাংলায় এই প্রথার শুরু কীভাবে, জানেন কি...

দেবীকে বরণ, তারপর সিঁদুর খেলা! বাংলায় এই প্রথার শুরু কীভাবে, জানেন কি এই ইতিহাস?

সিঁদুর খেলার পরিবর্তন শুধু অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বদলেছে এর পরিসর, উপস্থাপনা এবং মানুষের কাছে পৌঁছনোর ধরনও।আগমনী ও বিজয়ার গানে বাঙালির এই অনুভূতি ফিরে এসেছে বারবার। উমার আগমনে যেমন আনন্দ, তেমনই তাঁকে বিদায় জানানোর সময় মনখারাপ। দশমীর দিন দেবীকে বরণ করার মধ্যে তাই একদিকে রয়েছে ধর্মীয় শ্রদ্ধা, অন্যদিকে রয়েছে মেয়েকে স্নেহভরে বিদায় জানানোর প্রতীকী প্রকাশ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

ভারত সরকারের পর্যটন উদ্যোগের প্রকাশিত বিবরণেও সিঁদুর খেলার সঙ্গে এই পারিবারিক অনুভূতির যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টি নিবেদন করে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। তারপর নারীরা নিজেদের মধ্যে সিঁদুর বিনিময় করেন।

দশমীর দিন সিঁদুর খেলার আর একটি তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনই দেবী দুর্গার বিসর্জন হয়। প্রতিমা বিসর্জনের আগে দেবীকে বরণ করা এবং সিঁদুর নিবেদন করা যেন বিদায়ের আগে শেষবারের মতো তাঁর আশীর্বাদ চেয়ে নেওয়া। বিশ্বাসের জগতে এই আচার শুভত্ব, মঙ্গল এবং আগামী বছরের প্রত্যাবর্তনের আশার সঙ্গে যুক্ত।

তবে সব পুজোয় সিঁদুর খেলার সময় বা নিয়ম এক নয়। কোথাও দশমীর সকালে, কোথাও পূজার নির্দিষ্ট আচার শেষ হওয়ার পর এই রীতি পালন করা হয়। আবার বাংলার কিছু পরিবারে অষ্টমী বা সপ্তমীর দিনও সিঁদুর খেলার প্রচলন রয়েছে। তাই দশমীর সিঁদুর খেলা সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলেও, বাংলার সব অঞ্চলে একই নিয়মে এই আচার পালিত হয়, এমনটা বলা ঠিক হবে না।

সিঁদুরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্বাস

সিঁদুর খেলার কেন্দ্রে রয়েছে সিঁদুর। বাঙালি হিন্দু সমাজে দীর্ঘদিন ধরে সিঁদুর বিবাহিত নারীর পরিচিত চিহ্নগুলির অন্যতম। বিবাহিত নারীরা সিঁথিতে সিঁদুর পরেন দাম্পত্যজীবনের প্রতীক হিসেবে। সেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস থেকেই সিঁদুর খেলার সঙ্গে স্বামীর মঙ্গল, দীর্ঘ দাম্পত্যজীবন এবং সংসারের সুখ-শান্তির কামনা যুক্ত হয়েছে।

প্রচলিত রীতিতে বিবাহিত নারীরা প্রথমে দেবী দুর্গার কপালে ও পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন। অনেক পুজোয় দেবীকে মিষ্টি ও পানও দেওয়া হয়। এরপর অন্য নারীদের কপাল, সিঁথি, শাঁখা-পলা কিংবা গালে সিঁদুর লাগিয়ে দেন তাঁরা। একে অপরের মঙ্গল কামনা করার পাশাপাশি মিষ্টিমুখ করানো ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও এই আচারটির অংশ।

কিন্তু সিঁদুর খেলার তাৎপর্য কি শুধু স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বর্তমান সময়ে এই প্রশ্নও উঠছে। কারণ, কোনও উৎসবের অর্থ কেবল তার প্রাচীন রীতির মধ্যে আটকে থাকে না। সময়ের সঙ্গে মানুষ সেই রীতিকে নতুনভাবে বুঝতে শেখে। অনেকের কাছে সিঁদুর খেলা এখন বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান, আনন্দ এবং নারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরির উপলক্ষ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

এই পরিবর্তন অবশ্য সব জায়গায় সমান নয়। এখনও বহু পরিবারে সিঁদুর খেলাকে প্রথাগত ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবেই দেখা হয়। আবার অন্যত্র এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুটি প্রবণতাই বর্তমান বাংলার দুর্গাপুজোর বাস্তবতার অংশ।

বিবাহিত নারীদের গণ্ডি পেরিয়ে বদলের পথে

ঐতিহ্যগতভাবে সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীদের আচার হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সিঁদুরের সামাজিক অর্থ এবং দাম্পত্যজীবন নিয়ে প্রচলিত ধারণা। ফলে অবিবাহিত নারী, বিধবা কিংবা বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীদের অংশগ্রহণ বহু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হত না।

সময়ের সঙ্গে এই ধারণাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। কোনও নারী বিবাহিত কি না, তাঁর স্বামী জীবিত কি না, কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পরিস্থিতি কী—এসবের ভিত্তিতে একটি উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পুজো কমিটি ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সিঁদুর খেলাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছে। কোথাও অবিবাহিত নারী, বিধবা, একক মা এবং বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার লিঙ্গপরিচয় নির্বিশেষে উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ সিঁদুর খেলার পুরনো সামাজিক গণ্ডি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

এখানে অবশ্য একটি পার্থক্য রয়েছে। প্রথাগত আচার মেনে সিঁদুর খেলা এবং সকলের অংশগ্রহণে সিঁদুরকে কেন্দ্র করে আনন্দ উদ্‌যাপন—দুটি সব সময় এক নয়। কোনও পরিবার তার নিজস্ব ধর্মীয় রীতি বজায় রাখতে পারে, আবার কোনও সর্বজনীন পুজো আরও খোলামেলা অংশগ্রহণের পথ বেছে নিতে পারে।

সিঁদুর খেলার এই পরিবর্তনকে তাই ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং বলা যায়, পুরনো রীতির পাশাপাশি নতুন সামাজিক ভাবনাও জায়গা করে নিচ্ছে। একসময় যে আচার নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তার সামাজিক পরিসর আজ অনেক জায়গায় বিস্তৃত হচ্ছে।

বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালান থেকে সর্বজনীন মণ্ডপ

একসময় বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে সিঁদুর খেলার আয়োজন হত। সেখানে পরিবারের নিজস্ব নিয়ম, ঐতিহ্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভ্যাসই ছিল প্রধান। বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে সেই আচার অনেক সময় ছিল দূর থেকে দেখার বিষয়।

সর্বজনীন দুর্গাপুজোর প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই দৃশ্য বদলেছে। পাড়ার মণ্ডপে সিঁদুর খেলা এখন বহু জায়গায় বড় আয়োজনের অংশ। বিভিন্ন বয়সের নারী একত্রিত হন, ছবি তোলেন, একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। অনেক পুজোয় এই আয়োজনের সঙ্গে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঢাকের তালে নাচ কিংবা একসঙ্গে উৎসব উদ্‌যাপনের অন্যান্য পর্ব।

দুর্গাপুজো নিজেই যে ক্রমশ একটি বৃহত্তর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, তার স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে মানবতার স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতিতে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি শিল্প, কারুশিল্প, জনসমাগম এবং মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।

সিঁদুর খেলা এই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই একটি পরিচিত উদাহরণ। এটি যেমন দেবীকে বিদায় জানানোর ধর্মীয় আচারের সঙ্গে যুক্ত, তেমনই মণ্ডপে মানুষের মিলন, পারস্পরিক শুভেচ্ছা এবং উৎসবের শেষ মুহূর্তকে ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিঁদুর খেলার নতুন পরিচয়

আধুনিক সময়ে সিঁদুর খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ার পিছনে ছবি ও দৃশ্যেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। লালপাড় সাদা শাড়ি, সিঁদুরে রাঙা মুখ, ঢাকের তালে নাচ এবং বিসর্জনের আগে দেবীকে বিদায় জানানোর দৃশ্য—সব মিলিয়ে এটি দুর্গাপুজোর অন্যতম পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছে।

আগে কোনও বাড়ি বা পাড়ার পুজোয় উপস্থিত থাকলেই এই দৃশ্য দেখার সুযোগ মিলত। এখন আলোকচিত্র, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে সেই মুহূর্ত মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার কোনও পুজোমণ্ডপে সিঁদুর খেলার ছবি যেমন বাংলার অন্য প্রান্তে পৌঁছয়, তেমনই দেশের বাইরে থাকা বাঙালিরাও সেই দৃশ্যের মাধ্যমে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

এর ফলে সিঁদুর খেলা অনেকের কাছে বাঙালি পরিচয়ের একটি সাংস্কৃতিক চিহ্ন হয়ে উঠেছে। দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফিরতে না পারলেও অনেকে এই ছবিগুলির মাধ্যমে উৎসবের আবহ অনুভব করেন। প্রবাসী বাঙালিদের পুজোতেও এই রীতির উপস্থিতি দেখা যায়।

তবে ছবির জনপ্রিয়তার সঙ্গে একটি প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। সিঁদুর খেলা কি ক্রমশ ছবি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে? কিছু ক্ষেত্রে আয়োজনের দৃশ্যমান দিকটি বেশি গুরুত্ব পেলেও, অনেকের কাছে এর আবেগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের মূল্য এখনও প্রধান। একই রীতির মধ্যে তাই একদিকে রয়েছে আধুনিক উপস্থাপনা, অন্যদিকে রয়েছে পুরনো বিশ্বাস ও অনুভূতির ধারাবাহিকতা।

 ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সিঁদুর খেলা

সিঁদুর খেলা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এর ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক পরিবর্তন—দুই দিকই বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রথাটির নির্দিষ্ট সূচনাকাল নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। এর সঙ্গে জড়িত কিছু বিশ্বাসও ধর্মীয় ও সামাজিক পরম্পরার অংশ, পরীক্ষিত ঐতিহাসিক সত্য নয়। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা প্রথাটির সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে কমিয়ে দেয় না।

বরং এই আচার দেখায়, কীভাবে একটি উৎসবের রীতি সময়ের সঙ্গে নতুন অর্থ পেতে পারে। একদিকে দেবীকে বরণ ও বিদায় জানানোর ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে নারীদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক বন্ধন—দুই-ই এর পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।Raise Your Concern About this Content

আবার পুরনো প্রথার কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলাও এই পরিবর্তনেরই অংশ। বিবাহিত পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি আচারের পাশাপাশি সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কোনও কোনও পুজোয় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যত্র ঐতিহ্যগত নিয়ম বজায় থাকছে। এই বৈচিত্র্যই বাংলার পুজোসংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

সিঁদুর খেলার ভবিষ্যৎ রূপ কী হবে, তা নির্ভর করবে সমাজের ভাবনা, মানুষের পছন্দ এবং পুজো কমিটিগুলির উদ্যোগের উপর। কিন্তু এর কেন্দ্রে যদি থাকে পরস্পরের প্রতি শুভকামনা, সম্মান এবং উৎসবের আনন্দ, তা হলে প্রথাটি নতুন প্রজন্মের কাছেও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

দশমীর সিঁদুর খেলা আসলে একসঙ্গে দুটি অনুভূতির নাম—বিদায়ের বিষাদ এবং নতুন করে ফিরে পাওয়ার আশা। কয়েক দিনের আনন্দ শেষে দেবী চলে যান। মণ্ডপ ফাঁকা হয়, ঢাকের আওয়াজ ধীরে ধীরে থামে, আলোর উৎসবও শেষ হয়। তবু থেকে যায় পরের বছরের অপেক্ষা।

সিঁদুরে রাঙা মুখগুলির পিছনে থাকে নানা গল্প—কেউ পরিবারের সঙ্গে বহু বছরের প্রথা পালন করছেন, কেউ বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করছেন, কেউ আবার পুরনো রীতিকে নিজের মতো করে নতুন অর্থ দিচ্ছেন। সবার অভিজ্ঞতা এক নয়, কিন্তু উৎসবের শেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখার আকাঙ্ক্ষা একই।

তাই সিঁদুর খেলার ইতিহাস যতটা বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, ততটাই জড়িত বাংলার বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গেও। এর সূচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, কিন্তু এর বর্তমান রূপে ধরা পড়ে বিশ্বাস, আবেগ, সম্পর্ক এবং পরিবর্তনের এক দীর্ঘ যাত্রা।

শেষ পর্যন্ত, সিঁদুরের রং মুছে যায়, বিসর্জনের জলে প্রতিমা মিশে যায় মাটিতে। কিন্তু উমার বিদায়ের সেই পরিচিত সুর বাঙালির মনে থেকে যায়। সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে তাই শুধু দেবীকে বিদায় জানানো হয় না, পরের বছরের জন্য তাঁকে আবার ফিরে আসার আমন্ত্রণও জানানো হয়। লাল সিঁদুরের সেই ছোঁয়ায় মিশে থাকে একটাই প্রত্যাশা—বিদায়ের পর আবার আগমন, মনখারাপের পর আবার আনন্দ, আর এক বছরের অপেক্ষা পেরিয়ে উমার ঘরে ফেরা।

তথ্যসূত্র

১. সিঁদুর খেলার ইতিহাস
২. সিঁদুর খেলা কী? 
৩. সিঁদুর খেলার তাৎপর্য
৪. কেন দশমীতে সিঁদুর খেলা হয়ে থাকে


Author

- বিজ্ঞাপন -
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments