Homeইত্যাদিস্পিতি-এককথায় ভয়ঙ্কর সুন্দর………Part : 2

স্পিতি-এককথায় ভয়ঙ্কর সুন্দর………Part : 2

This entry is part 2 of 2 in the series SPITI VALLEY

SPITI VALLEY

স্পিতি-এককথায় ভয়ঙ্কর সুন্দর………Part : 1

স্পিতি-এককথায় ভয়ঙ্কর সুন্দর………Part : 2

হিমাচলের শিমলা থেকে স্পিতির পুরো রাস্তার দৃশ্যপট, প্রকৃতি, পরিবেশ নতুন করে হাতছানি দেয়।
শিমলা থেকে চিটকুল পর্যন্ত সবুজের দেখা মেলে। চিটকুল থেকে কল্পা পর্যন্ত সবুজ হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু কল্পা থেকে খাব সঙ্গম পেরনোর পর ক্রমেই সবুজ গাছপালার সংখ্যা কমতে থাকে। এই পাহাড় রুক্ষ, শুষ্ক, মাঝেমাঝে মরুভূমিতে মরিচীকার মতো ছিটেফোটা গাছপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কল্পা থেকেই শুরু স্পিতি ভ্যালির রাস্তা। কল্পা পেরনোর পর গগনচুম্বী পাহাড়গুলির উপর সূর্যের ছটা পড়লে ‘সোনার পাহাড়’ বলে ভ্রম হয়।

কল্পা-মহাদেবের আবাসের কাছাকাছি

ভারতের শেষ গ্রাম চিটকুল থেকে গাড়ি ছুটল কল্পার উদ্দেশ্যে। কারছাম থেকে রেকংপিং পর্যন্ত রাস্তা কিছুটা খারাপ। আকাশ পরিষ্কার থাকলে রেকংপিং থেকে কল্পা পর্যন্ত পুরোটাই কিন্নর-কৈলাস রেঞ্জ দেখা যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে দেখা যেতে পারে কিন্নর-কৈলাস পর্বতও। পুরান মতে কৈলাসেই বাস দেবাদিদেব মহাদেবের। কল্পার হোটেল রুম থেকে কিন্নর কৈলাসের দর্শন মিললে মহাদেবকে অনেকটা কাছ থেকে অনুভব করা যায়।

কল্পার ঐতিহাসিক মন্দির -নারায়ণ নাগিনী মন্দির

চোখ খুললেই কৈলাসের হাতছানি | ফটো- বিশ্বয়নী দত্ত

কল্পায় অবস্থিত প্রাচীন ও পূজিত নারায়ণ-নাগিনী মন্দিরটি ঐতিহ্যবাহী তিব্বতি প্যাগোডা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এই মন্দিরটি কিন্নরি শিল্প ও কারুকাজের এক অসাধারণ নিদর্শন।  কল্পার কাছেই রয়েছে রোগি গ্রাম, যা খুবই জনপ্রিয়। এই গ্রাম ছাড়িয়ে কিছুটা গেলে দেখা মিলবে অন্যতম দর্শনীয় স্থান ‘সুইসাইড পয়েন্টের’। এই জায়গাটিতে খাড়া ঢাল এবং বিপজ্জনক খাদ রয়েছে। ওইদিন কল্পায় রাত্রিবাস। তবে কল্পায় না থেকে রেকংপিও মার্কেট ছাড়িয়ে রেকংপিওর নীচের দিকে রাত্রিযাপন করতে পারেন। রেকংপিওতে ভিড়টা কম, পরেরদিন স্পিতি ভ্যালি পৌঁছতেও অনেকটা সময় কম লাগবে। রেকংপিও থেকেই শুরু হবে স্পিতি ভ্যালির যাত্রা। পরবর্তী গন্তব্য তাবো। তাবো যাওয়ার রাস্তায় দেখে নিতে হবে খাব সঙ্গম, নাকো লেক, নাকো মনাস্ট্রি আর গিউ মনাস্ট্রি। তারপর তাবোতে রাত্রিবাস।

কল্পার ঐতিহ্যবাহী নারায়ণ-নাগিনী মন্দির | ফটো- বিশ্বয়নী দত্ত

খাব সঙ্গম-স্বপ্নের শুরু 

স্পিতি ভ্যালির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলে রাস্তায় ২,৪৩৮ মিটার থেকে ২,৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত খাব সঙ্গম ব্রিজ পার করতেই হবে।এখানেই কিন্নর এবং স্পিতির শীতল মরুভূমির সীমানা নির্ধারিত হয়। সেতুর নিচ দিয়ে কুনজুম পর্বতমালা থেকে আসা স্বচ্ছ ও ঠান্ডা স্পিতি নদী, তিব্বত থেকে আসা প্রশস্ত ও কাদামাটিযুক্ত শতদ্রু (সুতলেজ) নদীর সঙ্গে মিশেছে। দুটি নদীর জলের রং স্পষ্টভাবে আলাদা দেখা যায়, মিশে যাওয়ার আগে পর্যন্ত।

শতদ্রু ও স্পিতি, দুই নদী মিশে একাকার | ফটো- বিশ্বয়নী দত্ত

উপরে পাহাড়ের ঢাল বরাবর পুরনো সিল্ক রুটের পথ চলে গেছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে হিমাচল প্রদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ রেও পুরগিয়িল (৬,৮১৬ মিটার) দেখা যায়। পাশাপাশি এখান থেকেই স্পিতির দিকে উঠে যাওয়া আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়ে। সেতুটি পার করলেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। সবুজে ভরা কিন্নর পিছনে ফেলে, সামনে খুলে যায় হিমালয়ের ধূসর-বাদামি, রুক্ষ কিন্তু মোহনীয় এক নতুন জগৎ।এই পরিবর্তনটাই খাব সঙ্গমকে অবিস্মরণীয় করে তোলে। এটি এমন এক সীমারেখা, যেখানে এক পৃথিবীর শেষ আর স্বপ্নের স্পিতির শুরু।

নাকো লেক ও নাকো মনাস্ট্রি

স্পিতি নদী উপত্যকায় অবস্থিত নাকো উত্তর ভারতের হিমালয়ের একটি ছোট গ্রাম, যা হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলে, ভারত-চীন সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। 

নাকো হল হ্যাংরাং ভ্যালির সবচেয়ে বড় গ্রাম, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬২৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই গ্রামটি মনোরম রেও পুরগিয়িল পর্বতের পটভূমিতে অবস্থিত, যার উচ্চতা ৬,৮১৬ মিটার । ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই গ্রামে মোট জনসংখ্যা ছিল ৫৭২ জন এবং মোট ১২৮টি পরিবার বসবাস করত।

এখানে নাকো লেক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা নাকো গ্রামের সীমানার অংশ । নাকো লেক একটি উচ্চভূমির হ্রদ, যা হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার পুহ উপবিভাগে অবস্থিত। এবং গ্রামের নামেই এই লেকের নামকরণ করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই হ্রদের উচ্চতা প্রায় ৩,৬৬২ মিটার। হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার এবং প্রস্থ ২০০ মিটার, আর গভীরতা আনুমানিক ৬০ মিটার। হ্রদটি চারপাশে উইলো ও পপলার গাছ দিয়ে ঘেরা। হ্রদের কাছে চারটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। এছাড়াও এখানে সাধু পদ্মসম্ভবের পদচিহ্ন রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

১০২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত নাকো মনাস্ট্রি গ্রামেই অবস্থিত, পাশাপাশি রয়েছে আরও কয়েকটি বৌদ্ধ স্তূপ। গ্রামের ওপরের দিকে অবস্থিত নাকো মনাস্ট্রি এবং নাকো লেক, দুটিই এই গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।

গিউ মনাস্ট্রি 

গিউ যাকে গুই (Gue) বা গুয়েন (Ghuen) নামেও ডাকা হয়। গিউ হিমাচল প্রদেশের স্পিতি ভ্যালির একটি ছোট্ট গ্রাম, যা প্রায় ১০,০০০ ফুট উচ্চতায় সুমদো  ও তাবোর মাঝামাঝি অবস্থিত। এই গ্রামে মোট ৫০-৬০টি পরিবার বসবাস করে।NH05-এর কাছেই অবস্থিত। স্পিতি ভ্রমণের সময় তাবো এবং কাজা যাওয়ার পথে এই এলাকা ঘুরে নিতে হয়। NH05 থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার ঘুরপথে গিউ পৌঁছানো যায়, তবুও তাবো বা কিই মনাস্ট্রির তুলনায় এখানে খুব কম পর্যটকই আসেন। অথচ এই জায়গার ইতিহাস সত্যিই অসাধারণ।

গিউ গ্রামে রয়েছে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত মমি। তিব্বত এবং জাপানের বাইরে এমন প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত সন্ন্যাসীর মমি অত্যন্ত বিরল। ভারতে এমন উদাহরণ হাতে গোনা কয়েকটি রয়েছে, তার মধ্যে গিউয়ের মমিটি সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত।

বৌদ্ধ সন্নাসী সাঙ্ঘা তেনজিনের মমি | ফটো- বিশ্বয়নী দত্ত

স্থানীয় লোককথায় অনুযায়ী যদিও এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক প্রমাণও মেলে, প্রায় ৫০০ বছর আগে তিব্বতি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী সাঙ্ঘা তেনজিন গিউ গ্রামে আসেন। তিনি গেলুগপা সম্প্রদায়ের একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। লোকমুখে প্রচলিত গিউ গ্রামে বিছের উপদ্রব শুরু হয়েছিল, যা গ্রামবাসীদের জীবন ও জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। সম্প্রদায়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত সাঙ্ঘা তেনজিন গ্রামের মঙ্গলের জন্য মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পদ্মাসনে বসে নিজেকে একটি সমাধির মধ্যে সিল করে দিতে বলেন তাঁর শিষ্যদের এবং প্রার্থনায় লিপ্ত হন। বলা হয়, তাঁর আত্মা শরীর ত্যাগ করার সময় আকাশে একটি রামধনু দেখা গিয়েছিল। সেই দিন থেকে নাকি গিউ গ্রামে আর কোনো বিছের উপদ্রব হয়নি। গ্রামবাসীরা তাঁকে স্নেহভরে “মমি লামা” বলে ডাকেন।Raise Your Concern About this Content

গিউ মমিটিকে প্রথমবার দেখলে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হল এর অবয়ব। 

মমিটি ধ্যানমুদ্রায় বসানো অবস্থায় রয়েছে, একটি হাত কোলে, অন্যটি থুতনির নিচে।দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে দেহটি অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে গেছে, ফলে এটি একটি ছোট, কুঁজো হয়ে থাকা অবয়বের মতো দেখায় প্রায় যেন ভেতরের সবকিছু শুষে নেওয়া হয়েছে। ত্বক গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করেছে এবং দেহটি বহু বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে বলে মনে হয়। তবুও এত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে যে ত্বক বেশিরভাগটাই অক্ষত, সামান্য ফাঁক হওয়া ঠোঁটের মধ্যে থেকে দাঁত দেখা যায়। তাঁর শরীরে এখনও বাঁধা রয়েছে ‘গোমথাক’ নামে একটি বেল্ট, যা দীর্ঘ ধ্যানের সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখতে ব্যবহৃত হয়। মমিটি ঐতিহ্যবাহী হলুদ-সাদা সন্ন্যাসীর পোশাক পরিহিত এবং একটি কাচের বাক্সের মধ্যে সংরক্ষিত, যেকোনও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এই ব্যবস্থা।

এই সমাধি বহু শতাব্দী পর্যন্ত লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। ১৯৭৫ সালের ভূমিকম্পে সেই কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলে, রাস্তা নির্মাণ ও খননকাজের সময় ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) আকস্মিকভাবে মমিটি আবিষ্কার করে। তাঁরা দেখেন, দেহটি ঠিক সেই ধ্যানের অবস্থাতেই রয়েছে, হাতে জপমালা এবং মেরুদণ্ডে গোমথাক বেল্ট বাঁধা অবস্থায়।

এরপর থেকে হিমাচল প্রদেশ সরকার এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে। 

যদি লোককথায় বিশ্বাস না হয় তাহলেও এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক প্রমাণও রয়েছে।  ভিয়েনার একদল গবেষক কার্বন ডেটিং করে দেখেছেন যে মমিটির সময়কাল প্রায় ১৪৭৫ সালের কাছাকাছি অর্থাৎ এই মমি প্রায় ৫৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। তাঁরা আরও জানান, মৃত্যুর সময় ওই ব্যক্তির বয়স ছিল চল্লিশের ঘরে, যা স্থানীয় কাহিনির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। 

গিউ মনাস্ট্রি দেখে সেইদিন রাত্রিবাস করুন তাবোতে। তাবো মনাস্ট্রির কাছে JBN TROJAN HOTEL (কন্ট্যাক্ট নম্বর- 94188-87549)-এর মতো একাধিক হোটেল রয়েছে সেখানে থাকতে পারেন। রুমভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। এই হোটেলের প্রায় পায়ে হাঁটা দূরত্বে তাবো মনাস্ট্রি ও তাবো কেভ। সকালে পায়ে হেঁটে ঘুরে নিতে পারেন ভারত তথা বিশ্বের প্রাচীন এই মনাস্ট্রি। 

তাবো মনাস্ট্রি  

রেকংপিও থেকে কাজা যাওয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত তাবো গ্রাম। এই গ্রামে তাবো মনাস্ট্রি ভারত এবং সমগ্র হিমালয়ে সবচেয়ে প্রাচীন ধারাবাহিকভাবে কর্মরত বৌদ্ধধর্মের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মনাস্ট্রির দেওয়ালে আঁকা অসংখ্য ফ্রেস্কোতে বৌদ্ধ ধর্মের নানা কাহিনি ও দেবদেবীর 

চিত্র ফুটে উঠেছে।  মনাস্ট্রির প্রাঙ্গণে অনেকগুলি স্তূপ রয়েছে, যার মধ্যে চারটির অভ্যন্তরে চিত্রকর্ম দেখা যায়। এই স্তূপগুলির মধ্যে দুটি চিত্র প্রায় ১৩শ শতাব্দীর বলে জানা যায়।এখানে অমূল্য থাঙ্কা (স্ক্রল পেইন্টিং), সুসংরক্ষিত মূর্তি,দেওয়ালচিত্রের এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে, যা প্রায় প্রতিটি দেওয়ালে বিরাজমান। 

হিমালয়ের অন্যতম প্রাচীন মনাস্ট্রি | ফটো- বিশ্বয়নী দত্ত

  ১৯৭৫ সালের ভূমিকম্পের পর মনাস্ট্রিটিকে পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে একটি নতুন ‘দু-কাং’ বা সমাবেশ হল তৈরি করা হয়। এখানেই ১৪তম দলাই লামা ১৯৮৩ এবং ১৯৯৬ সালে কালচক্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তাবো মনাস্ট্রিটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্থা ASI কর্তৃক জাতীয় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত।

তাবো কেভ

তাবোর গুহাগুলিকে “হিমালয়ের অজন্তা” বলা যায়।  হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই গুহা যার আনাচেকানাচে লেগে রয়েছে তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের প্রাচীন ইতিহাস।  তাবো মনাস্ট্রি থেকেই এই গুহাগুলি সহজেই দেখা যায় এবং দূর থেকেও এদের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তাবোর গুহাগুলির ভিতরে পাথরের দেয়াল। কিছু গুহা আবার একাধিক তলা বিশিষ্ট এবং সেখানে সমাবেশ কক্ষও রয়েছে। অনেক গুহার একাধিক ঘর পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। এখানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ধ্যান করতেন।  ভিতরে গুহাগুলি শান্ত, শীতল এবং প্রায় ফাঁকা, যেখানে এক বা দুইজন বসে ধ্যান করার মতো জায়গা রয়েছে। কিছু গুহা সরু পথ দিয়ে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, আবার কিছু গুহায় ছোট ছোট জানালা রয়েছে, যেখান দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢুকে এক শান্ত, কোমল পরিবেশ সৃষ্টি করে। সহজেই কল্পনা করা যায়, শত শত বছর আগে সন্ন্যাসীরা এই নীরবতার মধ্যে বসে অন্তরের শান্তি খুঁজে পেতেন।  শহরের ব্যস্ততা, যান্ত্রিকতা থেকে বহুদূর মনের শান্তি খুঁজতে স্পিতির তাবো গ্রামে অনায়াসে কাটিয়ে আসা যায় দু’দিন। গায়ে মেখে আসা যায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন ইতিহাসকেও। 

চলবে……………..

তথ্যসূত্র

উইকিপিডিয়া
নিজস্ব অভিজ্ঞতা







SPITI VALLEY

স্পিতি-এককথায় ভয়ঙ্কর সুন্দর………Part : 1
বিশ্বয়নী দত্ত
বিশ্বয়নী দত্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও কন্টেট রাইটিং-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লেখালেখির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে । ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে পাহাড়ে ঘুরতে যেতে ভালবাসেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments