FIFA WORLD CUP 2026
সিয়াটেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওয়াশিংটন এবং উত্তর আমেরিকার প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল শহর। সিয়াটেলকে বলা হয় রেইনি সিটি বা বৃষ্টির শহর। ২০২৬ ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবলের বেশ কয়েকটি ম্যাচের আসরও বসেছে আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শহরে। তাই একইসাথে সিয়াটেল ভ্রমণ ও ম্যাচ দেখা রথ দেখা ও কলা বেচা দুটোই হয়ে যাবে। বিশ্বকাপের উন্মাদনা অনুভব করতে এই বছর সিয়াটেল অন্যতম ঠিকানা হতে পারে আপনার তালিকায়।ভৌগোলিকভাবে সিয়াটেল একটি সরু স্থলভাগে অবস্থিত, যার একদিকে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের উপসাগরীয় অংশ পিউজেট সাউন্ড এবং অন্যদিকে লেক ওয়াশিংটন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর এবং কানাডা সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে সিয়াটেলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সিয়াটেল বন্দর উত্তর আমেরিকার অন্যতম ব্যস্ত বন্দর এবং ২০২১ সালের হিসাবে কনটেইনার পরিবহণের দিক থেকে এটি মহাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম বন্দর হিসেবে বিবেচিত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক নগরজীবন, প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে সিয়াটেল আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় শহরে পরিণত হয়েছে।
সিয়াটেলকে কেন বলা হয় বৃষ্টির শহর?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরের তুলনায় সিয়াটেলে বৃষ্টির দিনের সংখ্যা অনেক বেশি তাই দীর্ঘদিন ধরেই ‘বৃষ্টির শহর’ হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছে সিয়াটেল । সিয়াটেলকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে মেঘাচ্ছন্ন অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হয়। গড় হিসাবে বছরে প্রায় ২০১ দিন আকাশ পুরোপুরি মেঘে ঢাকা থাকে এবং আরও ৯৩ দিন আংশিক মেঘলা থাকে। বছরে গড়ে প্রায় ১৫০ দিন অন্তত ০.২৫ মিলিমিটার (০.০১ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়। রকি পর্বতমালার পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব বড় মার্কিন শহরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।
তবে মজার বিষয় হল, সিয়াটেলে প্রায়ই দিনের পর দিন কেবল হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। বছরের বেশিরভাগ দিনই আকাশ থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন এবং মেঘলা। Raise Your Concern About this Content
তাই বৃষ্টির দিনের সংখ্যা বেশি হলেও মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিউইয়র্ক, মায়ামি বা হিউস্টনের মতো অনেক মার্কিন শহরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দীর্ঘস্থায়ী মেঘলা আবহাওয়াই সিয়াটেলকে আরও বৃষ্টিবহুল বলে মনে করায়।

সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় আকাশে স্থায়ী মেঘের স্তর বিরাজ করে । গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া কিছুটা উজ্জ্বল হলেও, শরৎ, শীত এবং বসন্তে বছরের বেশিরভাগ মাসজুড়ে মেঘলা আকাশ থাকায় সিয়াটেল চিরকালীন বৃষ্টির নগরী হিসেবে জনমুখে পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যাসকেড পর্বতমালার অবস্থান সিয়াটেলে বৃষ্টির অন্যতম কারণ
সিয়াটেলের অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যাসকেড পর্বতমালার মাঝামাঝি। পশ্চিম দিক থেকে আসা আর্দ্র বায়ু মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এই বায়ু যখন পর্বতের গায়ে উঠে যায়, তখন তা ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টিতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ওরোগ্রাফিক লিফট’।কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ক্যাসকেড পর্বতমালার পশ্চিম ঢালে সিয়াটেলের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়। এছাড়া অলিম্পিক পর্বতমালা সিয়াটেলকে অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে।
সিয়াটেলের স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় বৃষ্টিময় আবহাওয়ার প্রভাব
সিয়াটলের ঘনঘন বৃষ্টি এখানকার সংস্কৃতি ও জীবনধারার উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এখানকার মানুষ বৃষ্টিকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সিয়াটেলের বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে হুইডযুক্ত রেইন জ্যাকেট ব্যবহার করেন। সিয়াটেলে ক্যাফে সংস্কৃতির প্রচলন রয়েছে। শহরের একাধিক কফি শপ রয়েছে। সিয়াটেলকে বিশ্বের অন্যতম কফি সংস্কৃতির শহর হিসেবে ধরা হয়।
সিয়াটেলের দর্শনীয় স্থান
বৃষ্টির দিনে ঘুরে দেখার জন্য সিয়াটল সেন্টার অন্যতম সেরা জায়গা। চিহুলি গার্ডেন অ্যান্ড গ্লাস, মিউজিয়াম অব পপ কালচার এবং প্যাসিফিক সায়েন্স সেন্টার ঘুরে আসতে পারেন। প্রত্যেকটি জায়গা একে অপরের থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত।
শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি একটি বৃষ্টিভেজা বিকেল কাটাতে চান, তাহলে পাইক প্লেস মার্কেট, সিয়াটেল আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যুর এবং সিয়াটেল সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সমস্ত জায়গায় হেঁটে হেঁটেই ঘুরতে পারেন।

বৃষ্টির দিনে রোমান্টিক ডেট নাইটের জন্য পাইক প্লেস মার্কেটের ভেতরে অবস্থিত ক্যান ক্যান কালিনারি ক্যাবারে এবং স্মিথ টাওয়ার অবজারভেটরি দারুন ডেস্টিনেশন হতে পারে। এখানে বৃষ্টি বিরক্তির নয়, এই শহরে বৃষ্টিকে নতুন করে উপভোগ করা যায়।
কীভাবে যাবেন?
সিয়াটেলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল সিয়াটল-টাকোমা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (Seattle-Tacoma International Airport বা SEA)। আপনার কাছাকাছি বিমানবন্দর থেকে দিল্লি, দোহা, বা দুবাই যেতে হবে। সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন সিয়াটেলের বিমান। কলকাতা থেকে সিয়াটেলে কোনও সরাসরি বিমান পরিষেবা নেই। তাই অন্তত এক বা দুইবার ট্রানজিট করতেই হবে।
বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেন্যু লুমেন ফিল্ড থেকে সিয়াটেলের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলি ২ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। ট্যাক্সি, রেলপথে, বাস কিংবা রাইড-শেয়ারিং পরিষেবার মাধ্যমে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন।

কত খরচ হবে?
বিশ্বকাপের সময় বিমান ভাড়া সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। যাওয়া এবং ফেরা নিয়ে ইকোনমি ক্লাসে প্রায় ১.২০ লক্ষ থেকে ২.৫০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ২.৫০ লক্ষ থেকে ₹৪ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। বিজনেস ক্লাসে ৫ লক্ষ বা তারও বেশি খরচ হবে।
সিয়াটেলে কবে কবে বসেছে ফুটবল মহাযজ্ঞের আসর?
২৬ জুনে সিয়াটেলে ইজিপ্ট ও ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচের আসর বসেছে। এরপরে ৩, ১১,১৮ জুলাই
মিয়ামিতেও রয়েছে বিশ্বকাপের ম্যাচ। মিয়ামিতে খেলা দেখেও সেখাল থেকে সিয়াটেলে ঘুরে আসতে পারেন। সময় লাগবে প্রায় ২ দিন ১০ ঘণ্টা।




