Homeইত্যাদিসিয়াটেলের বৃষ্টির শহর 

সিয়াটেলের বৃষ্টির শহর 

This entry is part 10 of 10 in the series FIFA WORLD CUP 2026

FIFA WORLD CUP 2026

বিশ্বকাপের উন্মাদনা আছে, বিশ্বকাপে  নেই বাংলা বা ভারত, তবুও “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল” 

মেক্সিকো-আমেরিকায় নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ আসলে হচ্ছে বাংলার ঘরে ঘরে

জাতীয় পতাকা, আবেগ আর ফুটবল—কেন হলুদই ব্রাজিলের প্রতীক

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার

২০২৬ বিশ্বকাপ: কেন এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ?

মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’

২০২৬ বিশ্বকাপে AI ও স্মার্ট বলের ব্যবহার

লিওনেল মেসি ও ২০২৬ বিশ্বকাপ : বৈদিক জ্যোতিষ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

লেদারের বল থেকে আধুনিক ফুটবল: বিশ্বকাপ বলের  বিবর্তন

সিয়াটেলের বৃষ্টির শহর 

সিয়াটেলকে কেন বলা হয় বৃষ্টির শহর?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য  শহরের তুলনায় সিয়াটেলে বৃষ্টির দিনের সংখ্যা অনেক বেশি তাই দীর্ঘদিন ধরেই ‘বৃষ্টির শহর’ হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছে সিয়াটেল । সিয়াটেলকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে মেঘাচ্ছন্ন অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হয়। গড় হিসাবে বছরে প্রায় ২০১ দিন আকাশ পুরোপুরি মেঘে ঢাকা থাকে এবং আরও ৯৩ দিন আংশিক মেঘলা থাকে। বছরে গড়ে প্রায় ১৫০ দিন  অন্তত ০.২৫ মিলিমিটার (০.০১ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়। রকি পর্বতমালার পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব বড় মার্কিন শহরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি।

তবে মজার বিষয় হল, সিয়াটেলে প্রায়ই দিনের পর দিন কেবল হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। বছরের বেশিরভাগ দিনই আকাশ থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন এবং মেঘলা। Raise Your Concern About this Content

তাই বৃষ্টির দিনের সংখ্যা বেশি হলেও মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিউইয়র্ক, মায়ামি বা হিউস্টনের মতো অনেক মার্কিন শহরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দীর্ঘস্থায়ী মেঘলা আবহাওয়াই সিয়াটেলকে আরও বৃষ্টিবহুল বলে মনে করায়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

 সমুদ্রঘেঁষা আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় আকাশে স্থায়ী মেঘের স্তর বিরাজ করে । গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া কিছুটা  উজ্জ্বল হলেও, শরৎ, শীত এবং বসন্তে বছরের বেশিরভাগ মাসজুড়ে মেঘলা আকাশ থাকায় সিয়াটেল চিরকালীন বৃষ্টির নগরী হিসেবে জনমুখে পরিচিতি লাভ করেছে।  

প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যাসকেড পর্বতমালার অবস্থান সিয়াটেলে বৃষ্টির অন্যতম কারণ

সিয়াটেলের অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যাসকেড পর্বতমালার মাঝামাঝি। পশ্চিম দিক থেকে আসা আর্দ্র বায়ু মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এই বায়ু যখন পর্বতের গায়ে উঠে যায়, তখন তা ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টিতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ওরোগ্রাফিক লিফট’।কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ক্যাসকেড পর্বতমালার পশ্চিম ঢালে সিয়াটেলের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়। এছাড়া অলিম্পিক পর্বতমালা সিয়াটেলকে অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে।

সিয়াটেলের স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় বৃষ্টিময় আবহাওয়ার প্রভাব

সিয়াটলের ঘনঘন বৃষ্টি এখানকার সংস্কৃতি ও জীবনধারার উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এখানকার মানুষ বৃষ্টিকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সিয়াটেলের বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে হুইডযুক্ত রেইন জ্যাকেট ব্যবহার করেন। সিয়াটেলে ক্যাফে সংস্কৃতির প্রচলন রয়েছে। শহরের একাধিক কফি শপ রয়েছে। সিয়াটেলকে বিশ্বের অন্যতম কফি সংস্কৃতির শহর হিসেবে ধরা হয়।

সিয়াটেলের দর্শনীয় স্থান 

বৃষ্টির দিনে ঘুরে দেখার জন্য সিয়াটল সেন্টার অন্যতম সেরা জায়গা। চিহুলি গার্ডেন অ্যান্ড গ্লাস, মিউজিয়াম অব পপ কালচার এবং প্যাসিফিক সায়েন্স সেন্টার ঘুরে আসতে পারেন। প্রত্যেকটি জায়গা একে অপরের থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত। 

শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি একটি বৃষ্টিভেজা বিকেল কাটাতে চান, তাহলে পাইক প্লেস মার্কেট, সিয়াটেল আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যুর এবং সিয়াটেল সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সমস্ত জায়গায় হেঁটে হেঁটেই ঘুরতে পারেন। 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

বৃষ্টির দিনে রোমান্টিক ডেট নাইটের জন্য পাইক প্লেস মার্কেটের ভেতরে অবস্থিত ক্যান ক্যান কালিনারি ক্যাবারে এবং স্মিথ টাওয়ার অবজারভেটরি দারুন ডেস্টিনেশন হতে পারে। এখানে বৃষ্টি বিরক্তির নয়, এই শহরে বৃষ্টিকে নতুন করে উপভোগ করা যায়। 

কীভাবে যাবেন?

সিয়াটেলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল সিয়াটল-টাকোমা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (Seattle-Tacoma International Airport বা SEA)। আপনার কাছাকাছি বিমানবন্দর থেকে দিল্লি, দোহা, বা দুবাই যেতে হবে। সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন সিয়াটেলের বিমান। কলকাতা থেকে সিয়াটেলে কোনও সরাসরি বিমান পরিষেবা নেই। তাই অন্তত এক বা দুইবার ট্রানজিট করতেই হবে। 

বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেন্যু লুমেন ফিল্ড থেকে সিয়াটেলের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলি ২ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। ট্যাক্সি, রেলপথে, বাস কিংবা রাইড-শেয়ারিং পরিষেবার মাধ্যমে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

কত খরচ হবে?

বিশ্বকাপের সময় বিমান ভাড়া সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। যাওয়া এবং ফেরা নিয়ে ইকোনমি ক্লাসে প্রায় ১.২০ লক্ষ থেকে ২.৫০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ২.৫০ লক্ষ থেকে ₹৪ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। বিজনেস ক্লাসে ৫ লক্ষ বা তারও বেশি খরচ হবে।

সিয়াটেলে কবে কবে বসেছে ফুটবল মহাযজ্ঞের আসর?

২৬ জুনে সিয়াটেলে ইজিপ্ট ও ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচের আসর বসেছে। এরপরে ৩, ১১,১৮ জুলাই 
মিয়ামিতেও রয়েছে বিশ্বকাপের ম্যাচ। মিয়ামিতে খেলা দেখেও সেখাল থেকে  সিয়াটেলে ঘুরে আসতে পারেন। সময় লাগবে প্রায় ২ দিন ১০ ঘণ্টা।

তথ্যসূত্র-

১. Maria’s Green Cleaning
২. সিয়াটেল-উইকিপিডিয়া

FIFA WORLD CUP 2026

লেদারের বল থেকে আধুনিক ফুটবল: বিশ্বকাপ বলের  বিবর্তন
বিশ্বয়নী দত্ত
বিশ্বয়নী দত্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও কন্টেট রাইটিং-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লেখালেখির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে । ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে পাহাড়ে ঘুরতে যেতে ভালবাসেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments