Homeইত্যাদিঢাকা শহরের ইতিকথা 

ঢাকা শহরের ইতিকথা 

ছবিঃ বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ বুড়িগঙ্গার তীরের ঢাকা শহর আজ বাংলাদেশের রাজধানী।। ফটো: ফ্রিপিক’র সৌজন্যে

ঢাকার ইতিহাস থেকে জানা যায়,মোঘল আমলে ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্পদশালী প্রদেশ হিসাবে ঢাকার অভূতপূর্ব উত্থান হয়েছিল। সেসময়ে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য বিশেষত মসলিন রপ্তানির জন্য অর্থনৈতিকগত ভাবে পরিপুষ্ট ও প্রশাসনিকগত একটি সমৃদ্ধশালী নাগরী হিসাবে পরিগণিত হয়েছিল। 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির

ছবিঃ 1. সন ১৯০৪ – বুড়িগঙ্গার তীরে বিরাজমান মা ঢাকেশ্বরী মন্দির।। ফটো: Fritz Kapp – ব্রিটিশ লাইব্রেরী’র সৌজন্যে। 2. মা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সম্মুখ গেট।। ফটো: রাজীব হাসান ও উইকিপিডিয়া‘র সৌজন্যে। 3. মা ঢাকেশ্বরী ।। ফটো: রাজীব হাসান ও উইকিপিডিয়া‘র সৌজন্যে। 4.মা ঢাকেশ্বরী মন্দির ।। ফটো: ইসরাৎ জাহান ও উইকিপিডিয়া’র সৌজন্যে।
ছবিঃ অধুনা বাংলদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত জাতীয় শহীদদের স্মৃতি।। ফটো: Pixabay’র সৌজন্যে

নাম করণ ঢাকা শহরের নাম করণের নানা কাহিনী বিদ্যমান । ঢাকেশ্বরী দেবীর মন্দির থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি। মনে করা হয় যে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পেলে সেখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।দেবী দূর্গা ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো বলে মন্দিরের নাম হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। এই মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকা শহর নামের উৎপত্তি।  কারো মতে এই অঞ্চলে ঢাক গাছ বা বুটি ফুডোসা প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেত বলে এই জায়গার নাম ঢাকা দেওয়া হয়েছে । রাজধানীর উদ্বোধনের দিন ঢাক বাজানো হয়েছিল বলে কেউ কেউ বলেন তা থেকেই ঢাকা নগরীর নাম হয়েছে । তাছাড়াও অতীতে ঢাক ভাষা নামে একটি প্রকৃত ভাষা ছিল । রাজতরঙ্গিনী তে আছে ঢাক্কা শব্দ যার অর্থ পর্যবেক্ষণ এছাড়াও এলাহাবাদ শিলালিপিতে সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ডবাক  হলো ঢাকা  কেন্দ্র।  

দর্শনীয় স্থান: ঢাকার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকেশ্বরী মন্দির ইত্যাদি । 

সিধ্বেশ্বরী মন্দির

ছবিঃ ঢাকা শহরে বিরাজমান মা সিধ্যেশ্বরী কালী মন্দির।। ফটো: সংবাদ প্রতিদিনের সৌজন্যে

পুরনো ঢাকার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৫০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির। প্রত্যেক বছর দূর্গা পূজা কালিপূজায় এখানে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। মন্দিরের নামেই এলাকার নাম হয়েছে সিদ্ধেশ্বরী লেন। কথিত আছে, বিক্রমপুরের তৎকালীন জমিদার চাঁদ রায় আনুমানিক ১৫৮০ সালে মন্দিরটি তৈরী করেন। এখানে একসময় নরবলি হতো। বাংলার আধ্যাত্মীক জগতের সাধিকা আনন্দময়ী মা ১৯২৬ সালে এখানে তার সাধনকালে ভক্তদের মধ্যে ধার্মিক উর্জা প্রদান করেন। ফলস্বরূপ দিকে দিকে মন্দিরের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যায় শ্যামা পুজো,শারদীয়া দূর্গা পুজো,জগদ্ধাত্রী পুজো,জন্মাষ্টমী ও শোভা যাত্রা,মহাশিবরাত্রি,বাসন্তী পুজো,সরস্বতী পুজো সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্রদের বস্ত্র বিতরণ,ধর্ম সভা তারকব্রম্ভ নাম যজ্ঞানুষ্ঠান,নাম সংকীর্তন,গীতা শিক্ষ্যা প্রদান বারো  মাস ধরে চলে। 

ঢাকাই  মসলিন

ছবিঃ ঢাকাই মসলিন যুগযুগ ধরে বিশ্ব প্রসিদ্ধ।। ফটো: ফ্রিপিকর সৌজন্যে

 ঢাকাই মসলিন হোল ফুটি কার্পাস সুতোয় তৈরী হস্তচালিত তাঁতে বোনা অতি সূক্ষ্য কাপড় যা ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি শাড়িকে অনায়াসে দেশলাই বক্সে ভোরে রাখা যায়। ঢাকায় মসলিনের আদি ঘর এই ঢাকাকেই বোঝায়। বাংলাদেশের সোনার গাও এবং ঢাকা মসলিনের আঁতুরঘর। প্রাচীনকালে ঢাকায় মসলিন ছিল সর্বাধিক মূল্যবান কাপড়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। 

ঢাকাই জামদানি শাড়ি 

 বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারি আর্থিক সাহায্যে ঢাকার ডেমরায়, কিশোরগঞ্জ, নোয়াপাড়া জামদানি শিল্পের উন্নতি শুরু হয়। বর্তমানে জামদানির ব্যাপক চাহিদা এবং উচ্চ মূল্যের কারণে এই শিল্প ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। ইউনেস্কো এই শিল্প কে ‘ইন্ট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’র স্বীকৃতি দান করেছে। এছাড়াও জি আই জামদানিকে ঐতিহ্যবাহী পণ্যে হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। 

ছবিঃ ঢাকা শহরের জল যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক অংশেই বুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্ভরশীল। সকলের অবহেলায় আজ এই নদী সম্পূর্ণ দূষিত।। ফটো: সাইমন রাজা – পিক্সেলস’সৌজন্যে
ছবিঃ ঢাকা শহরের দৈনন্দিন জীবন।। ফটো: ফ্রীপিক’র সৌজন্যে

বাংলাদেশের দূষিত যদি গুলির মধ্যে বুড়িগঙ্গা অন্যতম। নদীর ৪০%দূষণের কারণ ২৫১ টি পাইপলাইনের মধ্যে সরাসরি অপরিশোধিত বর্জ্য এসে মিশছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আহমদ কারুজ্জমান মজুমদার বলেন, “বুড়িগঙ্গা যদি  প্রাথমিক উৎস অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য, বর্জ্য ফেলার পয়েন্ট এবং নদীপথে চলা যানবাহন থেকে নির্গত বর্জ্য। বিশ্ব সাস্থ সংস্থার মতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত যদি গুলির মধ্যে একটি হলো বুড়িগঙ্গা। প্রতিদিন শহরের ৬০ হাজার ঘনমিটারের বেশি বিষাক্ত এ নদীতে ফেলা হয়। বুড়িগঙ্গাকে প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নদীর তীরে অপরিশোধিত পয় নিষ্কাশন ও বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে একটি  সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্রঃ 

দীপান্বিতা চক্রবর্তী
দীপান্বিতা চক্রবর্তী
একাধারে সাংবাদিকতা, মানবসম্পদ ও সৃজনশীল মিডিয়ায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে দীপান্বিতা আজ এক বহুমুখী লেখিকা। অনলাইন প্রকাশনা, ফিচার রচনা এবং স্ক্রিপ্ট উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তাকে তীক্ষ্ণ সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং গল্প বলার এক অনন্য দক্ষতা প্রদান করেছে। গণ সংযোগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে স্নাতকোত্তর দীপান্বিতা ডকুমেন্টারি স্ক্রিপ্টিং, ব্র্যান্ড স্টোরিটেলিং এবং গভীর গবেষণামূলক লেখায় এক উল্লেখনীয় অবদান রেখেছেন। প্রভাবশালী ব্লগ থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট, বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী তার লেখনী শৈলী সবক্ষেত্রেই অনন্য। বিশ্ব বাংলায় তাঁর কাজ স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতির এক প্রতিফলন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments