Homeখেলার দুনিয়াদারিদ্র্যকে হারিয়ে রোনাল্ডো বিশ্বজয়

দারিদ্র্যকে হারিয়ে রোনাল্ডো বিশ্বজয়

রোনাল্ডোর জীবনসংগ্রাম:

পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলেটি একদিন সারা বিশ্ব নাম করবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম আর কখনও হার না মানার মানসিকতা থাকলে যে ভাগ্যের লেখাকেও বদলে দেওয়া যায়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি ফুটবলের চূড়ায় আসীন। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী এই তারকার সাফল্যের পেছনের মূল কারণ হয়তো তাঁর শৈশবের অবর্ণনীয় কষ্ট ও লড়াই।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

শৈশবের চরম দারিদ্র্য ও সংগ্রাম:

রোনালদোর শৈশব কেটেছে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। তাঁর মা মারিয়া ডোলোরেস ছিলেন একজন রাঁধুনি এবং বাবা ডিনিস অ্যাভেইরো ছিলেন একজন মালি। চার ভাইবোনের মধ্যে রোনালদো ছিলেন সবার ছোট। এত বড় পরিবারের থাকার জায়গা ছিল ছোট্ট একটি টিনের চালার ঘর। রোনালদোকে তার ভাইবোনের সঙ্গে একই ঘর শেয়ার করতে হতো। অনেক সময় দুবেলা ঠিকমতো খাবারও জুটত না। রোনালদো এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শৈশবে তাঁরা ম্যাকডোনাল্ডসের দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতেন ফেলে দেওয়া বার্গারের জন্য। তাঁর বাবা অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন, যা পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০০৫ সালে রোনালদো যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছেন, তখনই লিভার বিকল হয়ে তাঁর বাবা মারা যান।Raise Your Concern About this Content

হৃদরোগ এবং স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম:

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

ফুটবল যখন রোনালদোর জীবনের একমাত্র আলো, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে নেমে আসে এক কালো কায়া। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে রোনালদোর। চিকিৎসকরা জানান, রোনালদোর হৃদস্পন্দনের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য এটি বিপজ্জনক না হলেও একজন ফুটবলারের জন্য এটি ছিল একটি ভয়াবহ দুসংবাদ। ফুটবল খেললে তাঁর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ছিল প্রবল। তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার যখন প্রায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে, তখন তাঁর মা একটি বড় ঝুঁকি নেন। রোনালদোর হার্টে একটি লেজার সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারটি সফল হয়। যার মাত্র কয়েকদিন পরেই অদম্য শক্তি নিয়ে আবারও ফুটবল মাঠে ফিরে আসেন রোনালদো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা: 

রোনালদো আজ শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তার জীবন থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। রোনালদোর সতীর্থরা সবসময় বলেন, তিনি অনুশীলনে সবার আগে আসতেন এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়তেন। ৪০ ছুঁইছুঁই বয়সেও তার ফিটনেস তরুণদের টেক্কা দেয়। শৈশবের দারিদ্র্য ভুলে যাননি বলেই রোনালদো নিয়মিত রক্ত ও বোন ম্যারো দান করেন। সে কারণে তিনি তাঁর শরীরে কোনও ট্যাটু করাননি। এছাড়া ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশু, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী এবং বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি কোটি কোটি টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে হাজারো সমালোচনা আর ট্রোলিংকে তিনি সবসময় বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন এবং নিজের পারফর্ম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের মুখও বন্ধ করেছেন।

তথ্যসূত্র:

১. উইকিপিডিয়া
২. কিংবদন্তি রোনাল্ডো
৩. ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
৪. ফুটবল জীবনে রোনাল্ডো নানা চ্যালেঞ্জ
৫. ১৫ বছর বয়সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হার্ট সার্জারি হয়েছিল

FIFA WORLD CUP 2026

নিউ ইয়র্কের ফুটবলের গল্প: পেলের কসমস থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহামঞ্চ বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিশপ্ত স্টেডিয়াম: কেন আজও মারাকানাকে ঘিরে রহস্য ও আতঙ্ক?
রিয়া পুরকাইত
রিয়া পুরকাইত
নিজের ইচ্ছার প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা। সেই ভালবাসার তাগিদে লেখালেখির দুনিয়ায় পা। সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ডিজিটাল মিডিয়ায়‌ও চলছে কলম। গণজ্ঞাপন নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ। কবিতা লেখা, আবৃত্তি পাঠের পাশাপাশি ভাললাগে অবসর সময় খুঁজে সাহিত্যের জগতে ডুব দিতে। ভাল লাগে ভাল লাগার জন্য সময় বের করতে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments