Homeপার্বণীজন্মাষ্টমীতে গোপাল সাজানোর হিড়িক! ছোট্ট শিশুর মধ্যেই কৃষ্ণকে খোঁজেন বাঙালি-সহ ভারতীয় পরিবার

জন্মাষ্টমীতে গোপাল সাজানোর হিড়িক! ছোট্ট শিশুর মধ্যেই কৃষ্ণকে খোঁজেন বাঙালি-সহ ভারতীয় পরিবার

বিষয়বস্তুর সারণী [hide]

সাম্প্রতিক সময়ে জন্মাষ্টমীতে বাল গোপাল লুক’ যেন আরও বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। স্কুলের ফ্যান্সি ড্রেস, আবাসনের অনুষ্ঠান, পাড়ার জন্মাষ্টমী কিংবা পরিবারের নিজস্ব পুজো—সব জায়গাতেই ছোটদের কৃষ্ণ সাজানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও জন্মাষ্টমীর আগে ‘কৃষ্ণ বেবি ’, ‘বাল গোপাল লুক ’, ‘লাড্ডু গোপাল শৃঙ্গার’ নিয়ে ছবি ও ভিডিওর হিড়িক চোখে পড়ে যায়। কার চেয়ে কে বেশি ছবি মোবাইলে আপলোড করতে পারে তা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। কিন্তু এই সাজসজ্জা কি শুধুই আধুনিক ফ্যাশন? একেবারেই নয়। এর পিছনে রয়েছে কৃষ্ণকে শিশু বা বাল গোপাল রূপে ভালোবাসার দীর্ঘ ভক্তি-পরম্পরা।যা যুগ যুগ ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলে আসছে।

ফটো : সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য

কেন জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণকে শিশু রূপে সাজানো হয়?

প্রশ্ন উঠতে পারে কেন জন্মাষ্টমীতে শিশুদের এভাবে সাজানো হয়। আসলে জন্মাষ্টমী মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। পুরাণকথায় কৃষ্ণের জন্ম মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের সন্তান হিসেবে। পরে তাঁকে গোকুলে নন্দ-যশোদার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর শৈশব কাটে নানা দুষ্টুমি, আনন্দ ও অলৌকিক ঘটনার মধ্যে।যা প্রায় প্রত্যেকেই জানে। কিভাবে বকাসুর বধ হয়, কিভাবে পুতনা বধ  হয় এইসব গল্প কারোর কাছে অজানা নয়। তাই কৃষ্ণের আরাধনায় তাঁর ‘বালরূপ’ বা ‘বাল গোপাল বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ভক্তের কাছে তিনি তখন শুধু দূরের দেবতা নন—তিনি ঘরের ছোট্ট সন্তান।

এই ভাবনা থেকেই লাড্ডু গোপালকে শিশুর মতো স্নান করানো, নতুন পোশাক পরানো, অলংকার পরানো, খাবার খাওয়ানো এবং দোলনায় শোয়ানোর রীতি গড়ে উঠেছে। জন্মাষ্টমীর দিনে নতুন পোশাক ও বিশেষ শৃঙ্গারকে কৃষ্ণের জন্মের আনন্দের প্রকাশ হিসেবেই দেখা হয়।

লাড্ডু গোপালকে বিশেষ পুজো— জনেন কি কীভাবে হয়?

জন্মাষ্টমীর দিন সকাল থেকেই অনেক বাড়িতে শুরু হয় গোপালের বিশেষ সেবা। প্রথমে পুজোর জায়গা পরিষ্কার করে ফুল, আলো, আলপনা এবং নানা সাজে মন্দির সাজানো হয়।

অনেক পরিবারে লাড্ডু গোপালকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। তারপর দেওয়া হয়—

  • ছোট ধুতি বা পোশাক 
  • মুকুট ও ময়ূরের পালক
  • হার ও অন্যান্য ছোট অলংকার
  • চন্দনের তিলক
  • বাঁশি
  • ফুলের মালা
ফটো : সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য

এরপর গোপালকে ছোট্ট দোলনায় বসানো হয়। মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মমুহূর্ত স্মরণ করে আরতি, ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও নামসংকীর্তনের মাধ্যমে জন্মোৎসব পালন করা হয়। অনেক পরিবারে পঞ্চামৃত, দুধ, মাখন-মিছরি, ফল, মিষ্টি ও অন্যান্য ভোগ নিবেদন করা হয়।

শিশুকে কৃষ্ণ সাজানো কেন এত জনপ্রিয়?

জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জুড়ে যায় আবেগের আরেকটি গল্প।যেহেতু গোপাল ঠাকুর ঘরের সন্তান তাই তার জন্মদিনে পরিবারের আনন্দ উদযাপন করা হয়।প্রত্যেক পরিবারের কাছে তার নিজের সন্তান যেমন আদরের, তেমনই কৃষ্ণও ‘ঘরের সন্তান’’লাডলা’. ‘তাই ঘরের ছোট্ট শিশুকে কৃষ্ণ সাজানোর মধ্যে অনেক বাবা-মা দেখতে পান ভক্তি, আনন্দ ও আশীর্বাদের প্রতীকী প্রকাশ।

আবার শিশুদের কাছে এটি নিছক পুজো নয়—এ এক আনন্দের খেলা। কেউ কৃষ্ণের মতো বাঁশি হাতে নেয়, কেউ মাখনের হাঁড়ি নিয়ে ছবি তোলে, কেউ আবার ‘নটখট কানহা’ সেজে অনুষ্ঠানের মঞ্চ মাতিয়ে দেয়।

বর্তমানে স্কুল ও পাড়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াও এই প্রবণতাকে আরও জনপ্রিয় করেছে। জন্মাষ্টমীর দিন বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট কৃষ্ণের ছবি এখন অনেক পরিবারের উৎসবের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।প্রত্যেক ঘরেই দেখা যায় তার শিশু সন্তানের ছোটবেলায় কৃষ্ণ সাজার একটি হলেও ছবি। শুধু যে এখনকার সময়ে এর প্রচলন রয়েছে তা কিন্তু নয় এই প্রচলন যুগ যুগ ধরে।

শুধু সাজ নয়, এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণভাবনা

শিশুকে কৃষ্ণ সাজানোর আসল সৌন্দর্য পোশাকে নয়, তার ভাবনায়।কৃষ্ণের শৈশবের গল্পে রয়েছে দুষ্টুমি, বন্ধুত্ব, সাহস, ভালোবাসা ও আনন্দ। তাই ছোটদের কৃষ্ণ সাজানোর সঙ্গে যদি তাঁর গল্পও বলা হয়, তাহলে উৎসবটি শুধুমাত্র ‘ফ্যান্সি ড্রেস’ হয়ে থাকে না—শিশুর কাছে হয়ে ওঠে ভারতীয় সংস্কৃতি ও লোককথার সঙ্গে পরিচয়ের একটি সহজ পথ।তাই দেখা যায় জন্মাষ্টমী দিনে বিভিন্ন জায়গায় কৃষ্ণের মন্ত্র, গল্প প্রতিযোগিতা হয়। আজকের প্রজন্মের কাছে জন্মাষ্টমী তাই একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে সৃজনশীলতার উৎসব।

জানেন কি কোন কোন রাজ্যে গোপাল সাজানো ও কৃষ্ণের বালরূপের এই সংস্কৃতি দেখা যায়?

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জন্মাষ্টমীর রীতিতে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে কৃষ্ণের বালরূপের আরাধনা বিশেষভাবে জনপ্রিয় উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বৈষ্ণব পরম্পরায়।

ফটো : সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য

উত্তরপ্রদেশ: মথুরা-বৃন্দাবনের কৃষ্ণভাবনা

মথুরা ও বৃন্দাবনকে কৃষ্ণের জন্ম ও শৈশবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলে মনে করা হয়। জন্মাষ্টমীর রাতে এখানে মন্দিরে বিশেষ জন্মোৎসব, কীর্তন, শৃঙ্গার এবং কৃষ্ণলীলা অনুষ্ঠিত হয়। বালকৃষ্ণের দোলনা ও শৃঙ্গার এখানকার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের জন্ম আর বৃন্দাবনের সঙ্গে জড়িয়ে রাধা কৃষ্ণের লীলা গাথা। আর তাই বৃন্দাবন ও মথুরাতে এই বিশেষ দিনে মন্দিরে মন্দিরে চলে বিশেষ পূজার আয়োজন। দেশ-বিদেশ থেকে কৃষ্ণ ভক্তরা এখানে ভিড় জমায় এই বিশেষ পূজার দিনে।

মহারাষ্ট্র: কৃষ্ণ মানেই দই-হাঁড়ি

মহারাষ্ট্রে জন্মাষ্টমী আবার অন্যভাবে পালন করা হয়। সেখানে জন্মাষ্টমী মানেই অনেকের কাছে ‘দহি হান্ডি’। কৃষ্ণের মাখনপ্রিয় শৈশবের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় হাঁড়ি ভাঙার উৎসব। এই উৎসবে দল বেঁধে মানুষ উঁচুতে ঝোলানো দইয়ের হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করেন। কৃষ্ণের নটখট বালরূপ এখানে উৎসবের প্রাণ।

গুজরাট: দ্বারকার কৃষ্ণ

গুজরাটের দ্বারকা কৃষ্ণভক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জন্মাষ্টমীতে মন্দিরসজ্জা, ভজন, কীর্তন এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। কৃষ্ণের রাজকীয় রূপের পাশাপাশি বালকৃষ্ণের প্রতিও রয়েছে গভীর ভক্তি।

পশ্চিমবঙ্গ: ঘরের পুজোয় গোপাল

বাঙালিদের কাছে এই জন্মাষ্টমী আবার অন্যরকম। বাঙালি পরিবারে জন্মাষ্টমী ঘিরে কৃষ্ণপুজোর দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। অনেক বাড়িতে ছোট গোপাল বা কৃষ্ণমূর্তিকে নতুন পোশাক পরিয়ে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। কোথাও আবার শিশুকে গোপাল সাজিয়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ানো হয়।বাঙালি মানেই ভোজন প্রিয়। তাই এই বিশেষ দিনে তালের পিঠে, তালের ক্ষীর, পায়েস, নানা রকম মিষ্টি, ননি ইত্যাদি জিনিস তৈরি করে ভোগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

বাঙালির কাছে গোপাল সেজে বাচ্চাদের পূজা করার মধ্যে ভক্তির সঙ্গে মিশে থাকে পারিবারিক আবেগ জড়িয়ে রয়েছে —‘আমাদের ঘরের গোপাল’।

ওড়িশা ও মণিপুরেও কৃষ্ণভক্তির নিজস্ব ধারা :

ওড়িশায় বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও কৃষ্ণভক্তির নানা রীতি জন্মাষ্টমীর সঙ্গে যুক্ত। মণিপুরেও বৈষ্ণব সংস্কৃতির প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং কৃষ্ণ-রাধাকে কেন্দ্র করে ভক্তিগীতি, নৃত্য ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভারতের বহু রাজ্যেই জন্মাষ্টমী নানা স্থানীয় রীতির সঙ্গে পালিত হয়।উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রায় সবকয়টি রাজ্যেই জন্মাষ্টমী পালিত হতে দেখা যায়।

মুকুট, বাঁশি আর ময়ূরের পালক—কেন এত জনপ্রিয়?

ছোট্ট কৃষ্ণের সাজ বলতেই প্রথমে চোখে ভাসে ময়ূরের পালক লাগানো মুকুট, হলুদ পোশাক ও বাঁশি। আধুনিক শিশুদের জন্মাষ্টমীর পোশাকেও এই তিনটি উপাদান সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

ময়ূরের পালক কৃষ্ণের চেহারার অন্যতম পরিচিত প্রতীক। আর বাঁশি তাঁর বৃন্দাবনের আনন্দময় জীবনের সঙ্গে জড়িত। হলুদ পোশাকও কৃষ্ণের প্রচলিত বালরূপের সাজে বহুল ব্যবহৃত।

তাই আজকের ‘কৃষ্ণ লুক’ আসলে বহু পুরনো সাংস্কৃতিক প্রতীকেরই আধুনিক উপস্থাপনা।Raise Your Concern About this Content

গোপালের ভোগে মাখন-মিছরি কেন দেওয়া হয় জানেন ?

ফটো : সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য

কৃষ্ণের শৈশবের গল্পে মাখনের উপস্থিতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে জন্মাষ্টমীর ভোগেও মাখন-মিছরি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। প্রচলিত কাহিনিতে কৃষ্ণকে মাখনপ্রিয়, দুষ্টু ও চঞ্চল শিশু হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তাই মাখন নিবেদন হয়ে উঠেছে তাঁর প্রতি ভালোবাসার এক মিষ্টি প্রকাশ।

ট্রেন্ড বদলেছে, অনুভূতি বদলায়নি :

আজকাল জন্মাষ্টমীর আগেই অনলাইন বাজারে ছোট্ট গোপালের পোশাক, মুকুট, বাঁশি, দোলনা ও ক্ষুদ্র অলংকারের নানা আয়োজন দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমও সেই সাজকে মুহূর্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু ট্রেন্ড যতই বদলাক, মূল অনুভূতিটা কিন্তু একই থেকে যায়—ভগবানকে দূরে নয়, নিজের ঘরের আপনজন করে পাওয়া। আদরের আমার ছোট্ট গোপাল।যাকে যখন খুশি আদর করা যায়। যাকে নিজের সন্তানের মতন প্রাণভরে আদর করা যায়।

একটি ছোট্ট শিশুকে কৃষ্ণ সাজিয়ে যখন মা-বাবা তার কপালে তিলক এঁকে দেন, মাথায় ময়ূরের পালক পরিয়ে দেন, তখন সেখানে শুধু ছবি তোলার আনন্দ থাকে না। থাকে এক ধরনের বিশ্বাস—এই শিশুর হাসির মধ্যেও যেন নন্দলালের সেই চঞ্চল হাসি লুকিয়ে আছে।

এই কারণেই জন্মাষ্টমীতে ‘গোপাল সাজানোর হিড়িক’ শুধুমাত্র নতুন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড নয়। এটি পুরনো ভক্তি, পারিবারিক আবেগ এবং নতুন প্রজন্মের উৎসব-উচ্ছ্বাস—তিনের সুন্দর মেলবন্ধন।

আজকের ছোট্ট গোপাল হয়তো কাল বড় হয়ে যাবে। কিন্তু জন্মাষ্টমীর সেই ময়ূরের পালক, হাতে বাঁশি আর মাখনের হাঁড়ি নিয়ে তোলা ছবিটা থেকে যাবে পরিবারের অ্যালবামে—একটি উৎসবের স্মৃতি হয়ে, এক টুকরো শৈশব হয়ে।

তথ্যসূচি :

১. ভ্রমণ কাহিনী
২. নিজস্ব চিন্তা

- বিজ্ঞাপন -
সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য
সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্যhttps://www.biswabanglahub.com
আমি সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য। পেশায় একজন মিডিয়া কর্মী এবং গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের গল্প, সমাজের বাস্তবতা এবং আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ভ্রমণকাহিনি, উত্তর–পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং মানুষের জীবনধারা নিয়ে লিখতে আমি ভীষণ আগ্রহী। একজন উত্তর–পূর্ব ভারতের নারী হিসেবে আমি আমার রাজ্য এবং দেশের বৈচিত্র্য, সৌন্দর্য ও সংস্কৃতিকে বৃহত্তর বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই। আমার বিশ্বাস, গল্প ও লেখার মাধ্যমে আমরা আমাদের মাটির গন্ধ এবং মানুষের হৃদয়ের কথা সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারি।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments