Homeপার্বণীপুজো মানেই দুর্গা পুজো, পুজো মানেই....

পুজো মানেই দুর্গা পুজো, পুজো মানেই….

আর মাত্র কিছুুদিনের অপেক্ষা, তারপরই দেবী দুর্গার আবাহনে মেতে উঠবে গোটা বাংলা। পাড়ায় পাড়ায় চলবে পুজোর মহাপ্রস্তুতি। চারদিন ধরে শুধু আনন্দ, মজা, উচ্ছ্বাস,  কাটবে জরা অবসান হবে দুঃখ-কষ্টের। চাকরি বা কাজের জন্য যাদের অন্য শহর বা  অন্য দেশে যেতে হয়েছে, তারাও ফিরবে ঘরে ।পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, প্যান্ডেল হপিং সবকিছু চলবে জোরকদমে। বাঙালি আসলে ‘পুজো আসছে’-র অপেক্ষায় একটা গোটা বছর কাটিয়ে ফেলে।

ওয়ার্ক আউট ও খাওয়া-দাওয়া

সুন্দর সাজপোশাকের আগে খেয়াল রাখতে হবে শারীরিক সুস্থতার দিকে। যদি আপনি সুস্থ থাকবেন তবে তো আপনাকে সুন্দর দেখতে লাগবে। পুজোর আগে নিজেকে ফিট ও  মেইনটেন রাখতে প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। ওয়ার্ক আউট করতে যোগব্যায়াম বা জিম বা সাঁতারে  ভর্তি হয়ে যান। 

দুর্গাপুজোর আর দু’মাস মতো বাকি অর্থাৎ ৬০দিন মতো সময় আছে আপনার হাতে। এই সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে ওয়ার্ক আউট একমাত্র অপশন। তার সঙ্গে বদলাতে হবে আপনার খাদ্যাভাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে লেবু আর মধু দিয়ে চিয়া সিড ভেজানো জল থেতে পারেন। প্রি ওয়ার্কআউটে একটা কলা আর সঙ্গে দুটো খেজুর খান। 

ওয়ার্ক আউট থেকে ফিরে ব্রেকফাস্টে রুটি বা ওটসের সঙ্গে টক দই এবং একটা করে ডিম সেদ্ধ খান। দুপুরের খাবারের মেনুতে ভাত খেতে পারেন। ভাতে সঙ্গে চিকেন বা পনির কিছু শাকসবজি রাখুন। যদি ভাত না খেতে চান সেক্ষেত্রে ভাতের বদলে রুটি রাখতে পারেন। 

৩টের দিকে ফল খান। ফলের মধ্য়ে আপেল, পেয়ারা, মৌসাম্বি লেবু রাখতে পারেন।

বিকেলে একটু ছোলা সেদ্ধ খেতে পারেন। চেষ্টা  করবেন ডিনার রাত ৮টার মধ্যে সেরে ফেলতে। খাওয়া আর ওয়ার্ক আউট যদি ঠিকঠাক চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে পুজোর আগেই খুব সহজে আপনিও কমিয়ে ফেলতে পারবেন অতিরিক্ত মেদ। 

কেনাকাটা  

সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সুন্দর সুন্দর আউটফিটের জন্য শপিং ডেস্টিনেশন হতে পারে গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা নিউ মার্কেট। বড়বাজার থেকে শাড়ি বা চুরিদারের জন্য কাপড়ও নিয়ে নিতে পারেন।

কবে কী পরবেন?

সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত আড্ডা,খাওয়া-দাওয়া পুজোর মেন অ্যাট্রাকশন শুরু হলেও চতুর্থী, পঞ্চমী ষষ্ঠীতেও স্টাইল বাদ দিলে চলবে না। কলেজ বা অফিসেও হালকা সাজে গেলে মন্দ হবে না। কারণ তখন অলরেডি পুজো ভাইবস শুরু হয়ে যাবে চারিদিকে। 

চতুর্থী 

পুজোর মজার কাউন্টডাউন শুরু প্রায় চতুর্থী থেকে। অফিসে যেতেও তখন আর ভালো লাগেনা। তাই পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে মনোক্রম একেবারেই বাদ দিন। তার বদলে একটু ব্রাইট আর কালারফুল পোশাক বেছে নিন। অনেক সময় রঙীন জামাকাপড় পরলে মনও আনন্দে থাকে। 

ওয়াইড লেগ জিনস আর লেমন ইয়েলোর শার্ট আর ভিতরে একটা সাদা ইনার পরুন, শার্টের বটনগুলো খোলা রাখবেন তাতে ফ্রেশ একটা লুক ক্রিয়েট হবে। একটা স্লিঙ ব্যাগ নিন। হাতে একটা ঘড়ি, গলায় একটা সরু চেন আর কানে একটা ছোট্ট ইয়ারিং। অফিসের ডেস্কে বসেই আপনার পুজো লুক হিট। 

অফিসে তাক লাগাতে এরকম ব্রাইট লুক একদম পারফেক্ট । কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

পুরুষরা কলার টিশার্ট পরতে পারেন সঙ্গে ব্ল্যাক জিনস। টিশার্টের রঙ ব্রিক রেড বা কপার ব্লু কালারের হতে পারে। হাতে একটা স্পোর্টস ওয়াচ। এই লুকের সঙ্গে ব্যাকপ্যাক কমপালসারি।

পঞ্চমী 

 প্রিন্টেড স্কার্টের সঙ্গে হোয়াইট টপ এক্কেবারে পারফেক্ট ফর পঞ্চমী। সঙ্গে এটা বোহো ব্যাগ ক্যারি করতে পারেন। জাঙ্ক জুয়েলারির সঙ্গে এই লুকে আপনাকে অসাধারণ লাগবে তা হলফ করে বলতে পারি। 

ছেলেরা যে কোনও ডার্ক কালারের কুর্তার সঙ্গে ফরম্যাল প্যান্ট দিয়ে পরতে পারেন। ল্যাপটপ ব্যাগ নিন। হাতে পরুন স্টেনলেস স্টিলের ওয়াচ। রাস্তা থেকে অফিস পর্যন্ত সবাই আপনার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে বাধ্য।

ষষ্ঠী 

অফিসে গেলে হালকা ইক্কত প্রিন্টের শাড়ি তার সঙ্গে কলার নেক ব্লাউস পরতে পারেন। তাতে কর্পোরেট একটা লুকও থাকবে আর শাড়ির মধ্যে ট্র্যাডিশনাল ব্যাপার তো রয়েছেই। 

বাঁ হাতে পরুন একটা ঘড়ি। ডান হাতে একটা ব্যাঙ্গেল চলতে পারে। কানে ছোট্ট একটা অক্সিডাইজড জুয়েলারি ব্যস লুক কমপ্লিট। তার সঙ্গে ক্যারি করুন টোটে ব্যাগ।

পুরুষরা মেরুন বা সাদা রঙের চাইনিজ কালারের শার্টের সঙ্গে পরতে পারেন বেইজ কালারের প্যান্ট।  এই লুকের সঙ্গে যে কোনও অফিস ব্যাগই মানানসই, ব্যাগপ্যাক নেবেন না তাতে এই লুকের বৈশিষ্ট্যটাই নষ্ট হয়ে যাবে। 

মহাসপ্তমী 

এমন একটি ধনেখালি শাড়ি দিয়ে সপ্তমীর স্টাইলিং করতে পারেন আপনি । কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

মহাসপ্তমীর সকাল মানেই নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপন। তাই সেইদিন সকালে গায়ে হালকা সি গ্রিন কালারের সরু হলুদ পাড় দেওয়া ধনেখালি শাড়ি পরতে পারেন। সঙ্গে কলার দেওয়া ডিজাইনার হলুদ ব্লাউজ। যেহেতু ধনেখালি শাড়ি খুবই সিম্পল, তাই স্টাইলিস ব্লাউজ লুকটাকে ব্যালান্স করবে। দেখতেও খুব সুন্দর লাগবে এবং তার সঙ্গে খুব কমফর্টেবলও। যেহেতু গলা দেখা যাবে না তাই কানে পরতে পারেন রুপোর  কানপাশা, তার সঙ্গে নাকে নোসপিন আর চুলে আলগা খোঁপা। 

রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং-এর জন্য পরতে পারেন নি লেন্থ জিন্সের স্কার্ট সঙ্গে অফ শোল্ডার টপ। হাতে ডিজিটাল ওয়াচ আর কানে হুপ ইয়াররিং। 

ছেলেদের সপ্তমীর সকাল শুরু হোক পাঞ্জাবি আর জিন্স দিয়ে। হাতে থাকুক একটা লেদারের ঘড়ি। রাতে ব্ল্যাক জিন্সের সঙ্গে পরুন হোয়াইট টি-শার্ট। সারারাত ঠাকুর দেখার জন্য একেবারে পারফেক্ট।

মহাঅষ্টমী

মহাঅষ্টমী মানেই সন্ধিপুজো আর অঞ্জলি। এই দিন সাজে থাকে সবথেকে বড় চমক। অন্যান্য সময়ের থেকে পুজোয় শাড়ি বেশি পরা হয়। স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে পরে নিন লাল রঙের কোনও শাড়ি । গলায় সোনার চোকার আর কানে বড় সোনার দুল। চোখে গাঢ় কাজল লাগিয়ে নিন। একদম পারফেক্ট বাঙালি রূপ। শাড়ির ক্ষেত্রে  দুএকটা অপশন রয়েছে। এই বছর কারদানা ও মিরর ওয়ার্কের জামদানি শাড়ি খুব ট্রেন্ডিং। লাল ,মেরুণ,  রঙের এরকম কোনও শাড়িও বেছে নিতে পারেন অষ্টমীর অঞ্জলির জন্য। 

অষ্টমীর রাতে ফ্যামেলি আউটিং-এ পড়ে নিন সারারা সেট। প্যাস্টেল সেডের সারারার সঙ্গে হালকা সাজে রাতের সাজ জমজমাট।

ছেলেদর ক্ষেত্রেও অষ্টমীর দিন বাঙালি সাজ মাস্ট। ওই দিন ধুতি-পাঞ্জাবি ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। লাল বা হলুদের উপর আর্টওয়ার্কের ডিজাইন করা কোনও পাঞ্জাবির সঙ্গে সাদা ধুতি একেবারে  দারুন লাগবে। অষ্টমীর রাতে কো-অর্ড সেট পরে নিন, স্টাইলের সঙ্গে আরাম একদম ফ্রি। 

মহানবমী

নবমী মানেই জমকালো ওয়েস্টার্ন আউটফুট । কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

মহানবমী মানেই একটু জাঁকজমক ব্যাপার। রাত পোহালেই মায়ের বিদায়। তাই নবমীতে নারীদের জন্য জমকালো শাড়ি বা ওয়ান পিস  হবে পারফেক্ট ফর ফ্যাশন, ব্ল্যাক হলে তো কথাই নেই সঙ্গে গ্ল্যাম মেক আপ। ম্যাজেন্টা, গোল্ড টোনড, এমিরেলড গ্রিন রঙের সিল্ক, টিস্যু বা ওরগ্যানজা বেছে নিতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে পরতে হবে মানানসই স্টেটমেন্ট জুয়েলারি। সকালে শাড়ি পরলে রাতের জন্য বেছে নিতে পারেন ওয়েস্টার্ন আউটফিট। 

পুরুষ 

পুরুষরা কুর্তার সঙ্গে পরতে পারেন স্ট্রেট ফিট ট্রাউজার। সঙ্গে থাকতে পারে ক্লাসিক ওয়াচ আর ব্রেসলেট।Raise Your Concern About this Content

মহাদশমী

এরকম গুজরাটি স্টিচের শাড়ি দশমীর জন্য একদম পারফেক্ট । কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

দশমীর সাজে থাকবে ট্রাডিশনাল আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। এই দিনের কালার প্যালেটে থাকবে অবশ্যই লাল সাদা। সাদার উপর লাল সুতোর কাজের কাঁথাস্টিচ বা গুজরাটি স্টিচের শাড়ি পরতে পারেন। হাতে চুড়ি, কপালে টিপ, হাত খোঁপা আর বিবাহিতদের শাখাঁ-সিঁদুরের এই রুপে ফুটে উঠবে এফোর্টলেস এলিগ্যান্স আর বাঙালি ট্র্যাডিশন। 

পুরুষের সাজে থাকতে পারে সাদার উপর লাল ফেব্রিকের কাজের পাঞ্জাবি সঙ্গে লাল চুড়ি প্যান্ট। তার সঙ্গে পায়ে কোলহাপুরী জুতো। দশমীতে ট্র্যাডিশনাল বেঙ্গলি অ্যাসথেটিককেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

দুর্গাপুজোর ফ্যাশন মানেই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুন্দর মেলবন্ধন। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিটি সাজে ফুটে ওঠাতে হবে আলাদা মুড, কালার আর ভিন্ন স্টাইল। 

- বিজ্ঞাপন -
বিশ্বয়নী দত্ত
বিশ্বয়নী দত্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও কন্টেট রাইটিং-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লেখালেখির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে । ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে পাহাড়ে ঘুরতে যেতে ভালবাসেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments