বক্সা টাইগার রিজার্ভের সবুজ অরণ্যের গভীরে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৮৪৪ ফুট উচ্চতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্ট। ভারতের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এই দুর্গ।
প্রকৃতির মাঝে ইতিহাসের গল্প শুনতে একবার ঘুরে আসতেই হবে বক্সা ফোর্ট। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে চোখে পড়ে ভগ্নপ্রায় বক্সা ফোর্ট। যদিও সময়ের সঙ্গে দুর্গটির অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে, তবুও এর শ্যাওলা ধরা দেয়াল ও ভাঙা কাঠামো যেন আজও ভুটানের শাসনকাল, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জবরদখল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দুর্গে বন্দি-জীবনের গল্প বলে চলে। চারপাশের নীরবতা, কুয়াশায় মোড়া পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক দুর্গের উপস্থিতি দর্শনার্থীদের এক গভীর অনুভূতির সম্মুখীন করে।
বক্সা ফোর্ট কে নির্মাণ করেছেন?

বক্সায় রয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সীমান্ত দুর্গ। বক্সা ফোর্টের নির্মাণকাল ও নির্মাতা কে, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের একাধিক মতামত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, সপ্তম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে উত্তর-পূর্ব ভারতে তিব্বতের সম্রাট সোং-সেন-গাম্পোর অভিযানের সময় এই দুর্গ নির্মিত হয়। অন্য একটি মত অনুসারে, কামতাপুর রাজবংশের প্রথম শাসনকালে সীমান্ত প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে দুর্গটি নির্মিত হয়। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
সময়রেখা
ভুটান শাসন
কোচ রাজ্যের অধীনে সীমান্ত দুর্গ
বক্সা ফোর্টের দখল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (১৭৭২)
ভুটানের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চুক্তি সাক্ষর (১৭৭৪)
ডুয়ার্স যুদ্ধ (১৮৬৪-৬৫)
বন্দি শিবির (ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৩০-এর অধীনে) ( ১৯৩০-১৯৩৭)
ব্রিটিশ কারাগার (১৯৪২- ১৯৪৭) এবং ( ১৯৪৯ – ১৯৫১)
তিব্বতি শরনার্থী (১৯৫৯)
বর্তমান পর্যটন কেন্দ্র
ইতিহাস
দীর্ঘ সময় ধরে কোচ রাজ্যের অধীনে ছিল এই প্রাচীন দুর্গ। পরবর্তীকালে এই কেল্লা দখল করে ভুটানিরা এবং ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সংযোগকারী ঐতিহাসিক সিল্ক রুট রক্ষার জন্য একটি সামরিক ঘাঁটি বা গ্যারিসন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
বক্সা ছিল ভুটানের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ, যা বক্সা দুয়ারের উপর নজরদারি করত। এই গিরিপথটি ছিল বাংলার সমতলভূমি ও ভুটানের মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ।
১৭৭২ সালে ভুটান কোচবিহারের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সেখানকার শাসককে অপসারণ করলে কোচবিহার রাজপরিবারের সদস্যরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে সামরিক সহায়তা চান। ক্যাপ্টেন জোন্সের নেতৃত্বে কোম্পানির সেনাবাহিনী কোচবিহার থেকে ভুটানি বাহিনীকে বিতাড়িত করে এবং পরবর্তীতে ডালিং, চিচাকোটা ও বক্সা সীমান্ত দুর্গ দখল করে।
তবে ১৭৭৪ সালে ভুটানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখলকৃত অঞ্চলগুলো ভুটানের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
- ডুয়ার্স যুদ্ধ (১৮৬৪-৬৫)
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ১৮৬৪-৬৫ সালের ডুয়ার্স যুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশ সেনাবাহিনী আবারও বক্সা ফোর্ট দখল করে। সেই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার ডুয়ার্স অঞ্চলের ওপর ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
১৮৬৪ সালের শেষ নাগাদ দুর্গটি সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশদের দখলে আসে। যুদ্ধ চলাকালীন কোচবিহার রাজ্যের ক্যাপ্টেন হেদায়েত আলির নেতৃত্বাধীন বাহিনীও ব্রিটিশদের সহায়তা করে। যুদ্ধ শেষে ভুটানের ডুয়ার্স অঞ্চল ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং কোচবিহারের উত্তর সীমান্ত সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
১৮৬৫ সালের ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত সিনচুলা চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা ও অসমের ডুয়ার্স অঞ্চলের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশরা বক্সা ফোর্ট পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করে।

- বক্সা ফোর্ট ও স্বাধীনতা আন্দোলন
দুর্গম জায়গায় অবস্থানের কারণে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশরা এই দুর্গে বন্দি করে রেখেছিল।
গবেষক শুভময় দত্ত-র গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৩০ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৩০-এর অধীনে বক্সা একটি বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ এবং পুনরায় ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত এটি বিশেষ কারাগার হিসেবে পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আন্দামানের সেলুলার জেলের পর বক্সা ফোর্ট ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম দুর্গম রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে পরিণত হয় । ১৯৩০-এর দশকে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর-এর বহু বিপ্লবী, যেমন কৃষ্ণপদ চক্রবর্তী, এখানে বন্দি ছিলেন। প্রচলিত মত অনুযায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দিদের উদ্দেশে একটি কবিতা পাঠিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
১৯৪৩ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী অমর প্রসাদ চক্রবর্তী-কেও এখানে বন্দি রাখা হয়। এছাড়া নীরদ চক্রবর্তী, শিবশঙ্কর মিত্র এবং সতীশ পাকড়াশি-সহ একাধিক কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও বুদ্ধিজীবীকেও এই কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল।
পঞ্চাশের দশকে প্রখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়-ও এখানে বন্দি ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ ‘আমার বাংলা’-র অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত রচনা ‘মেঘের গায়ে জেলখানা’-য় তিনি বক্সা জেলের অভিজ্ঞতার জীবন্ত বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
- বক্সা ফোর্ট ও উদ্বাস্তু শিবির
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বক্সা ফোর্টের পরিচয় বদলেছে। ব্রিটিশ আমলের বন্দিশিবির থেকে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই দুর্গটি তিব্বতি এবং পরে বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের অস্থায়ী শিবির হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১৯৫৯ সালের মার্চ মাসে তিব্বতে চীনা সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের সময় দ্রেপুং মনাস্টেরিতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। প্রায় ১০,০০০ সন্ন্যাসীর মধ্যে মাত্র কয়েকশো জন প্রাণ বাঁচিয়ে ভুটান হয়ে ভারতে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
এই দ্রেপুং-এর সন্ন্যাসীসহ বিভিন্ন তিব্বতি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বহু ভিক্ষু ও সন্ন্যাসিনী বক্সা ফোর্টের পরিত্যক্ত বন্দিশিবিরে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁরা ‘বক্সা চোগার’ নামে একটি অস্থায়ী মঠ ও শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলেন, যা পরবর্তীকালে তিব্বতি উদ্বাস্তুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
প্রকৃতি আর ইতিহাসের মেলবন্ধন
আজ ইতিহাস, প্রকৃতি এবং রোমাঞ্চ, এই তিনের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে বক্সা ফোর্ট। সান্তালাবাড়ি থেকে মনোরম ট্রেকিং পথ ধরে পৌঁছানো যায় এই দুর্গে, যেখানে একদিকে রয়েছে ঘন জঙ্গল, অন্যদিকে দূরে দেখা যায় ভুটানের পাহাড়শ্রেণির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বক্সা টাইগার রিজার্ভের ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পাথর বাঁধানো এই পথ ধরে পাখির কলতান, রঙিন প্রজাপতি এবং গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলোকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলতে হবে।
রোভার্স পয়েন্ট, রূপাং ভ্যালি, জয়ন্তী গ্রাম
বক্সা ফোর্ট থেকে একাধিক মনোমুগ্ধকর ট্রেকিং রুটের সন্ধান রয়েছে। দুর্গ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার ট্রেক করে পৌঁছানো যায় রোভার্স পয়েন্ট যা পাখিপ্রেমীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।
রোভার্স পয়েন্ট থেকে আরও ৬ কিলোমিটার এগিয়ে গেলে পৌঁছানো যায় ভুটান সীমান্তঘেঁষা রূপাম বা রূপাং ভ্যালি।
এছাড়া দুর্গ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ট্রেক করে ছোট্ট অথচ অপূর্ব সুন্দর লেপচাখা গ্রামও ঘুরে দেখতে পারেন। এখান থেকে সমগ্র বক্সা টাইগার রিজার্ভ, উত্তরবঙ্গের সমতলভূমি এবং পার্শ্ববর্তী ভুটানের অপূর্ব দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
এখানেই শেষ নয় যারা আরও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা চান এবং অভিজ্ঞ ট্রেকাররা বক্সা ফোর্ট থেকে ঘন জঙ্গলের পথ ধরে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ট্রেক করে জয়ন্তী গ্রামে পৌঁছাতে পারেন। তবে এই রুটে ট্রেক করার জন্য বনদপ্তরের অনুমতি এবং একজন অভিজ্ঞ গাইড সঙ্গে থাকা বাধ্যতামূলক। এই জঙ্গলের পথে ভাগ্য সহায় হলে বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতে পারে। পাহাড়ের নির্মল বাতাস, জঙ্গলের নৈঃশব্দ্য আপনাকে অন্য এক দুনিয়ায় নিয়ে যাবে, যেখান থেকে ফিরে আসতে আর ইচ্ছে করবে না।
প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি সময় কাটাতে এবং ইতিহাসকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ গন্তব্য।দুর্গের আশেপাশের ছোট্ট সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা কিংবা গ্রামের দোকানে বসে চা খেতে খেতে শুনে নিতে পারেন স্থানীয় গ্রামবাসীর জীবনযাত্রার গল্প। তাঁদের মুখে শোনা দুর্গের ইতিহাস ও জঙ্গলের লোককথা কোনও বইয়ে খুঁজে পাবেন না। সব মিলিয়ে বক্সা ফোর্টের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে অনন্য। তবে বলে রাখা ভালো এখানে আধুনিক পরিষেবা কিন্তু খুবই সীমিত।
বক্সা ফোর্ট ভ্রমণের সেরা সময়
বক্সা ফোর্ট ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময় উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে, ফলে সান্তালাবাড়ি থেকে পাহাড়ি ট্রেক অনেক সহজ হয়। সাধারণত তাপমাত্রা ১০° থেকে ২২° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, যা ট্রেকের জন্য আদর্শ। তবে বর্ষাকাল এড়িয়ে চলুন, বৃষ্টির সময় রাস্তা অত্যন্ত পিছোল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে বেশি।
শীতকাল বক্সা টাইগার রিজার্ভ ঘোরারও সেরা সময়। এই সময় হর্নবিল, হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং ভাগ্য ভালো থাকলে চিতাবাঘও দেখা যেতে পারে। গ্রীষ্মকালে, এপ্রিল থেকে জুনে আবহাওয়া আর্দ্রতার কারণে ট্রেক করা কিছুটা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকালে বক্সা অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে ট্রেকিং রাস্তায় ধস নামতে পারে এবং জোঁকের উপদ্রবও বেড়ে যায়। তাই এই সময়ে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানতে চাইলে বক্সা দুয়ার উৎসব বা লেপচাখা গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসবের সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। এই সময় ডুকপা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনধারা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলোতে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম থাকে, ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থানটি আরও শান্ত পরিবেশে উপভোগ করা সম্ভব।
কীভাবে যাবেন বক্সা ফোর্ট?
বিমানপথে নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা বিমানবন্দর, যা বক্সা ফোর্ট থেকে প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা শেয়ার গাড়িতে আলিপুরদুয়ার অথবা সরাসরি সান্তালাবাড়ি পৌঁছানো যায়।
রেলপথে নিকটতম রেলস্টেশন আলিপুরদুয়ার জংশন এবং নিউ আলিপুরদুয়ার, যা প্রায় ৩০–৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্টেশন থেকে সহজেই ট্যাক্সি বা স্থানীয় জিপে সান্তালাবাড়ি পৌঁছে যাওয়া যায়।Raise Your Concern About this Content
সড়কপথে আলিপুরদুয়ারের সঙ্গে শিলিগুড়ি, কোচবিহার এবং কলকাতার সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত ভালো। নিয়মিত বাস ও প্রাইভেট গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। আলিপুরদুয়ার থেকে সান্তালাবাড়ি পৌঁছে সেখান থেকেই শুরু হবে বক্সা ফোর্টের ট্রেকিং। বক্সা ফোর্ট ভ্রমণের জন্য পর্যটকরা সাধারণত সান্তারাবাড়ি, জয়ন্তী, রাজাভাতখাওয়া অথবা চিলাপাতাকে বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নেন। এখান থেকে সহজেই দুর্গে ট্রেক বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যায়।
বক্সা ফোর্ট খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
উপসংহার
ভুটানের সীমান্ত দুর্গ, ব্রিটিশ শাসনের কুখ্যাত বন্দিশিবির, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেশপ্রেম এবং তিব্বতি উদ্বাস্তুদের আশ্রয়স্থল, ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় বক্সার এই দুর্গের ইট-পাথরে খোদাই রয়েছে।



