Homeইত্যাদি২০২৬ বিশ্বকাপ: কেন এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ?

২০২৬ বিশ্বকাপ: কেন এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ?

This entry is part 5 of 6 in the series FIFA WORLD CUP 2026

FIFA WORLD CUP 2026

বিশ্বকাপের উন্মাদনা আছে, বিশ্বকাপে  নেই বাংলা বা ভারত, তবুও “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল” 

মেক্সিকো-আমেরিকায় নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ আসলে হচ্ছে বাংলার ঘরে ঘরে

জাতীয় পতাকা, আবেগ আর ফুটবল—কেন হলুদই ব্রাজিলের প্রতীক

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার

২০২৬ বিশ্বকাপ: কেন এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ?

মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কী?

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা। প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। এই আসরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের সেরা দল পাঠায়। প্রত্যেক দলের একটাই লক্ষ্য সোনালি ট্রফি জয় করা। এই ফুটবল মহাযজ্ঞের সাক্ষী থাকে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

২০২৬ বিশ্বকাপ কেন বিশ্বের সবথেকে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ?

২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে সবচেয়ে বড় বলা হচ্ছে শুধুমাত্র আকারের জন্য নয়, বরং তার বহুমাত্রিক বিস্তারের কারণে। 

প্রথমত, এটি প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে তিনটি দেশ একসঙ্গে আয়োজকের ভূমিকায় রয়েছে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে স্টেডিয়ামের সংখ্যা, শহরের পরিসর এবং দর্শকদের অংশগ্রহণ। অতীতে যেখানে একটি দেশই সবকিছু সামলাত, সেখানে এবার দায়িত্ব ও উদযাপন দুটোই ভাগ করে নিচ্ছে ৩টি দেশ। 

অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল মাত্র ১৩টি দল। সেখানে এই সম্প্রসারণ বিশ্ব ফুটবলের পরিধির আরও ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে বলা চলে।

দলের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে, অংশগ্রহণ করবে আরও বেশি খেলোয়াড় এবং  প্রতিযোগিতাও হয়ে উঠবে আরও বেশি বৈচিত্র্যময়। 

অন্যদিকে এই টুর্নামেন্টের ভৌগোলিক বিস্তারও অভূতপূর্ব। উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ। কানাডার উত্তর থেকে মেক্সিকোর দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বসছে বিশ্ব ফুটবলের আসর। এখানেই শেষ নয়, দর্শকসংখ্যার দিক থেকেও এই বিশ্বকাপ নতুন রেকর্ড গড়ে তুলতে চলেছে। ফিফা আশা করছে এই বিশ্বকাপের সাক্ষী থাকতে চলেছে বিলিয়ন সংখ্যক মানুষ। এই বিশ্বকাপের অংশীদার হয়ে উঠবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি মানুষ। এই আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্মবোধ অনুভব করে গোটা বিশ্ব, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।  সেখানে দেশের সীমানা, ভাষা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

 

কোন কোন দেশ আয়োজন করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের?

এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ তো ঐতিহাসিকও বটে। পৃথিবীর সবথেকে বড় বিশ্বকাপ। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া ৬টি মহাদেশ থেকে আসবে সেরা খেলোয়াড়রা। বিশ্বকাপ শুধুমাত্র ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করার মূল মন্ত্র। 

তিনটি দেশের মধ্যে আমেরিকার অনেক বড় স্টেডিয়াম রয়েছে। এমনিতেও মার্কিন যুক্তরাষ্টের স্টেডিয়ামগুলি আকারে অনেক বড়। এই স্টেডিয়ামগুলিতে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ জায়গা করে নিতে পারে। এই স্টেডিয়ামগুলিতেও বসছে বিশ্বকাপের আসর। দ্বিতীয় আয়োজক দেশ কানাডা। অতীতে ১৯৭৬ এবং ২০১০ সালে অলিম্পিকের আয়োজন করেছিল কানাডা। এই  বিশ্বকাপের জন্য টরেন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারের মতো শহরে বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে কানাডা । তৃতীয় আয়োজক দেশ হল মেক্সিকো। এর আগেও দুবার বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে উত্তর আমেরিকার এই দেশ।  ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালেও  বিশ্বকাপের হোস্ট ছিল তারা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ আয়োজন করার গুরুদায়িত্ব পড়েছে মেক্সিকোর কাঁধে।

ট্রিয়োন্ডা কী? ট্রিয়োন্ডার সঙ্গে ২০২৬-এর বিশ্বকাপের কী সম্পর্ক?

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ট্রিয়োন্ডা। এটি শুধুমাত্র ফুটবল নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও নকশার নতুন মেলবন্ধন। গঠনগত দিক থেকে এই বল পুরনো বলগুলির তুলনায় একেবারে ভিন্ন। এই ফুটবলে মাত্র চারটি প্যানেল রয়েছে যেখানে অন্যান্য ফুটবলে ৪টির থেকে অনেক বেশি প্যানেল থাকে। কম প্যানেল থাকায় এই ফুটবল আরও নিঁখুতভাবে গোলাকার হয়ে উঠেছে। ফলে এই বল বাতাসে আরও সোজা ও স্থিরভাবে চলতে পারে। এতে খেলোয়াড়দের জন্য বল নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়। তবে ট্রিয়োন্ডার আসল বিশেষত্ব লুকিয়ে রয়েছে এর ভেতরে। বলের ভিতরে একটি অত্যন্ত ছোট কম্পিউটার চিপ বসানো হয়েছে, যা বাইরে থেকে চোখে পড়ে না, কিন্তু মাঠে তার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চিপ ম্যাচ চলাকালীন বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা রেফারিদের কাছে পাঠায় যেমন ঠিক কখন বলটি কোনও খেলোয়াড়ের পা ছেড়েছে বা বলের গতি কত রয়েছে। বিশেষত অফসাইড সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিপের সাহায্যে রেফারি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন কোনও খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন কি না। এছাড়াও বলটি গোললাইন অতিক্রম করলে রেফারির ঘড়িতে দ্রুত সিগন্যাল পৌঁছয় ফলে গোল হয়েছে কি না সহজেই বুঝতে পারেন রেফারি।  Raise Your Concern About this Content

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি দেখতে চান, কীভাবে বুক করবেন টিকিট?

সাধারণত ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি করা হয়। প্রথমে আপনাকে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। পরে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলে আবেদন করতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের টিকিট লটারির মাধ্যমে বা ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভের ভিত্তিতে পাওয়া যায়। অনেক সময় অনুমোদিত রিসেলার বা ট্রাভেল প্যাকেজের মাধ্যমেও টিকিট পাওয়া যায়। 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

কত টাকা খরচ হতে পারে?

ম্যাচ, সিট ক্যাটেগরি ও দেশ অনুযায়ী টিকিটের দাম নির্ভর করে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১৫,০০০ – ৪০,০০০ টাকা, সেমিফাইনালে প্রায় ৩০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা এবং ফাইনালে ৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২-৩ লক্ষ টাকাও খরচ হতে পারে। ফ্লাইট খরচ ৬০,০০০ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা।

কোথায় থাকবেন?

ম্যাচের শহরের উপর নির্ভর করে থাকার জায়গা নির্বাচন করবেন। হোস্টেল,এআরবিএনবি ,৩-৪ স্টার হোটেল, ৫ স্টার হোটেলেও থাকতে পারেন।

ভিসা 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো এই ৩ দেশে বসেছে বিশ্বকাপের আসর। আপনার গন্তব্য অনুযায়ী আলাদা ভিসা লাগতে পারে। সাধারণত ট্যুরিস্ট ভিসা (B1/B2 বা Visitor Visa) প্রয়োজন হয়। ভিসা পেতে কিছু ডকুমেন্টের প্রয়োজন। সেগুলি হল বৈধ পাসপোর্ট, টিকিট/ম্যাচ কনফার্মেশন,হোটেল বুকিং, ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

কোথায় কোথায় ঘুরে দেখতে পারেন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলে নিউ ইয়র্ক-এর স্ট্যাচু অফ লিবার্টি , টাইম স্কোয়ার, লস অ্যাঞ্জেলেস,মিয়ামি বিচ ঘুরে দেখতে পারেন। 
কানাডার আশেপাশে টরেন্টোর টাওয়ার, ভ্যাঙ্কুভার,নায়াগ্রা জলপ্রপাত ঘুরে দেখতে পারেন। 
মেক্সিকো সিটি এক্সপ্লোর করতে পারেন। ক্যানকুন বিচ ঘুরে দেখতে পারেন।

তথ্যসূত্র-

উইকিপিডিয়া
বাংলা আজতক

FIFA WORLD CUP 2026

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’
বিশ্বয়নী দত্ত
বিশ্বয়নী দত্ত
কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও কন্টেট রাইটিং-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লেখালেখির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে । ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে পাহাড়ে ঘুরতে যেতে ভালবাসেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments