Homeইত্যাদিস্মৃতিচারণস্বাধীন ভারতের প্রথম ভোর: ফিরে দেখা ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট

স্বাধীন ভারতের প্রথম ভোর: ফিরে দেখা ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট

বিষয়বস্তুর সারণী [hide]

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক মুহূর্তটি এসেছিল ১৪ অগস্টের রাত পেরিয়ে ১৫ অগস্টের প্রথম প্রহরে। দিল্লির সংবিধান সভায় রাত এগারোটার সময় অধিবেশন শুরু হয়। সভার সূচনায় সুচেতা কৃপালনী ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রথম স্তবক পরিবেশন করেন। এরপর রাজেন্দ্র প্রসাদ বক্তব্য রাখেন এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া অগণিত পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সভায় ভারতের জাতীয় পতাকাও আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত  হয়। মধ্যরাতের সেই অধিবেশনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল জওহরলাল নেহরুর ভাষণ। তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতাকে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর হিসাবে দেখা হয়নি; বরং স্বাধীনতার সঙ্গে মানুষের প্রতি দায়িত্বের কথাও বলা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, বহু বছরের প্রতীক্ষার পরে ভারত স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। তাঁর ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল—স্বাধীনতা অর্জন শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের শুরু।

সেই রাতেই সংবিধান সভা স্বাধীন ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে। রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন সভার সভাপতি। লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং জওহরলাল নেহরু হলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সহ মন্ত্রিসভার সদস্যরাও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

স্বাধীনতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিল্লির রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। সংরক্ষিত বিবরণে দেখা যায়, সংবিধান সভার বাইরে এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ রাত জেগে আনন্দ করছিলেন। পতাকা, মিছিল, আতশবাজি, স্লোগান, বাদ্যযন্ত্র—সব মিলিয়ে রাজধানী যেন এক বিশাল উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছিল। সমকালীন বিদেশি সংবাদ পত্রগুলোতেও  দিল্লির উৎসবের কথা উঠে আসে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

১৫ই আগস্ট সকালে সরকারি অনুষ্ঠানও চলতে থাকে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংশোধন জরুরি। আজকের মতো ১৫ই আগস্ট সকালে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রী পতাকা তুলেছিলেন—না, ১৯৪৭ সালে ঠিক এমনটি হয়নি। লালকেল্লায় জওহরলাল নেহরুর প্রথম পতাকা উত্তোলন হয় ১৬ অগস্ট ১৯৪৭। ১৫ অগস্টের গুরুত্বপূর্ণ পতাকা উত্তোলন ও জনসমাবেশ হয়েছিল দিল্লির প্রিন্সেস পার্ক তথা বর্তমান আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের অঞ্চলে। বিপুল জনসমাগমের কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানও অনেকটাই বদলে যায়।

পরের দিন, ১৬ অগস্ট সকালে নেহরু লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পতাকা কোনও ব্যক্তি বা কংগ্রেসের বিজয়ের প্রতীক নয়—এটি গোটা দেশের স্বাধীনতার প্রতীক। আজ যে লালকেল্লার অনুষ্ঠান স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম প্রধান প্রতীক, তার সূচনা আসলে সেই ১৬ অগস্ট থেকেই।

বোম্বাইয়ের চিত্র ছিল আরও নাটকীয়। সমকালীন পত্রিকা থেকে জানা যায়, ১৪ অগস্ট রাত থেকেই শহরের মানুষ জেগে ছিলেন। রাস্তা সাজানো হয়েছিল, বিভিন্ন ভবনে আলো জ্বলছিল, আতশবাজি চলছিল। কারখানার সাইরেন, রেলগাড়ির হুইসেল, ট্রাম ও অন্যান্য যানবাহনের শব্দে মধ্যরাতের শহর মুখর হয়ে উঠেছিল। মানুষের হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে স্বাধীনতার স্লোগান। পরের দিন শহরের বিভিন্ন অংশে মিছিল ও জনসমাবেশ চলতে থাকে।

কলকাতার পরিস্থিতি ছিল আরও আবেগঘন। মাত্র এক বছর আগেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার সাক্ষী হয়েছিল শহর। অথচ স্বাধীনতার দিনে বহু এলাকায় হিন্দু ও মুসলমান একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। এক সমকালীন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে শহর ঘুরছিলেন এবং স্বাধীনতার অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। পরে ঐতিহাসিক গবেষণাতেও উঠে এসেছে, কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন, পতাকা তুলেছিলেন এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ক্ষত ভুলে অন্তত সেই মুহূর্তে একসঙ্গে আনন্দ করার চেষ্টা করেছিলেন।

মাদ্রাজে স্বাধীনতার উৎসব, সংবাদপত্রে শহরের প্রতিচ্ছবি দক্ষিণ ভারতেও স্বাধীনতার উন্মাদনা ছিল প্রবল। মাদ্রাজের সেই সময়কার সংবাদপত্রের পাতাগুলি দেখলে বোঝা যায়, স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক খবর ছিল না; তা শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অংশ হয়ে উঠেছিল।

দ্য হিন্দু’-র সংরক্ষিত আগস্ট ১৯৪৭-এর পাতাগুলিতে দেখা যায়, স্বাধীনতার আবহে সংবাদ, ঘোষণা, অভিনন্দনবার্তা এবং ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন পাশাপাশি জায়গা নিয়েছিল। স্বাধীনতা উপলক্ষে বিশেষ পণ্য, পতাকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শহরের বিভিন্ন আয়োজনের বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়েছিল। ১৫ অগস্ট ছিল শুক্রবার এবং সেই দিনের আবহাওয়ার খবরেও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা ছিল।

মাদ্রাজে সরকারি অনুষ্ঠানও ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ফোর্ট সেন্ট জর্জে শপথগ্রহণ, বিভিন্ন সরকারি স্থানে পতাকা উত্তোলন এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মানুষের সমাগম হয়েছিল। ১৭ অগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেই অনুষ্ঠানগুলির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

এখানে একটি চমৎকার বিষয় ছিল—স্বাধীনতা সেই সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ঢুকে পড়েছিল। সিনেমা হল, দোকান, হোটেল, পোশাক, পতাকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই স্বাধীনতার ছাপ দেখা যায়। অর্থাৎ স্বাধীনতা শুধু সংসদ বা সরকারি ভবনের ঘটনা ছিল না; সাধারণ মানুষের বাজার, বিনোদন এবং সামাজিক জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটেছিল।

যে মানুষটির নেতৃত্বে স্বাধীনতার আন্দোলন জনমানসে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই মহাত্মা গান্ধী কিন্তু দিল্লির সরকারি উৎসবে ছিলেন না। তিনি তখন কলকাতায়। তাঁর কাছে স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে দেশভাগের বেদনা এতটাই গভীর ছিল যে তিনি ১৫ আগস্টকে উৎসবের বদলে প্রার্থনা, উপবাস এবং চরকা কাটার মাধ্যমে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গান্ধীর অবস্থানটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু ভারত একই সঙ্গে বিভক্তও হয়েছে। পাঞ্জাব ও বাংলার বহু মানুষ তখন উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কায়, অনেকে ইতিমধ্যেই ঘরছাড়া, কোথাও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ চলছে। তাই গান্ধীর কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ছিল মানুষের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা।

কলকাতায় তাঁর উপস্থিতি সেই দিন এক বিশেষ প্রতীক হয়ে উঠেছিল। হিন্দু ও মুসলমান মানুষের একসঙ্গে পতাকা উত্তোলন, পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার খবর তাঁকে আশাবাদী করেছিল। তাঁর সঙ্গে হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন। স্বাধীনতার দিনে গান্ধীর প্রার্থনা সভা তাই রাজনৈতিক উৎসবের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের ইতিহাসে শুধু একটি নতুন দেশের জন্মদিন ছিল না; এটি ছিল প্রায় দুই শতকের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মুহূর্ত। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সকাল ছিল একেবারে একরঙা আনন্দের নয়। একদিকে পতাকা, আলো, গান, মিছিল, মানুষের উচ্ছ্বাস—অন্যদিকে দেশভাগ, হিংসা, উদ্বাস্তু মানুষের দুর্দশা এবং নতুন রাষ্ট্রের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সেই দ্বৈত বাস্তবতাই ধরা পড়েছিল সেই সময়ের সংবাদপত্রের পাতায়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : Google

স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপন আসলে ১৫ আগস্টের আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। ১৪ আগস্ট শহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং নাগরিক কর্মসূচি ছিল। গোখলে হলে আরিয়াকুড়ি রামানুজ আইয়েঙ্গারের সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চেও সংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা ছিল। নাগরিকদের জাতীয় পতাকা ধারণের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল।

সেই সময়ের বিজ্ঞাপনও আজকের চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। স্বাধীনতা উপলক্ষে বাজি, ঘড়ি এবং বিভিন্ন পণ্যের বিশেষ বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বাজার এবং শহুরে সংস্কৃতিতেও তার প্রভাব পড়েছিল।

নতুন দেশকে আশীর্বাদ করার জন্য প্রার্থনা হয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির মানুষ জাতীয় পতাকা পরেছিলেন। সূত্রে এমন একটি বর্ণনাও রয়েছে যে, শহরে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল যাঁর পোশাকে জাতীয় পতাকার চিহ্ন ছিল না। সরকারি ও বেসরকারি—প্রায় সব ধরনের ভবনের উপরেই তেরঙা পতাকা উড়ছিল। ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ভবন আলো দিয়ে সাজিয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে আজকের মতো দূরদর্শন, ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। ফলে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক মুহূর্ত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেতারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন উদ্যান ও জনসমাগমের জায়গায় বেতারযন্ত্র বসানো হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠান, পতাকা উত্তোলন এবং অন্যান্য সম্প্রচার একসঙ্গে শুনতে পারেন।স্বাধীনতার আগের রাতে দিল্লির গণপরিষদের অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্ত গোটা দেশের জন্য এক অসাধারণ আবেগের সময় তৈরি করেছিল। পরদিনও বেতারে স্বাধীনতা-উৎসবের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের সংবাদপত্রগুলি দেখলে বোঝা যায়, স্বাধীনতার অর্থ প্রত্যেক সংবাদপত্র একইভাবে দেখেনি। কেউ আনন্দকে সামনে রেখেছিল, কেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে, আবার কেউ দেশভাগের ভয়াবহতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।

অমৃতবাজার পত্রিকার প্রথম পাতা ছিল অত্যন্ত প্রতীকী। প্রথম পাতায় মহাত্মা গান্ধীর ছবি, জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীন ভারতের নতুন মানচিত্র ছিল। বড় অক্ষরে মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সামনে রাখা হয়েছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রথম পাতায় অন্য কোনও সাধারণ সংবাদকে সেই প্রধান জায়গা দেওয়া হয়নি।

১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এর ইতিহাসকে শুধু আনন্দের গল্প হিসেবে দেখলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ পড়ে যায়। ভারত স্বাধীন হয়েছিল, কিন্তু একই সময়ে দেশভাগ হয়েছিল। নতুন সীমান্তের দুই পাশে মানুষের স্থানান্তর শুরু হয়েছিল। পাঞ্জাব ও বাংলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। দ্য হিন্দুর সংরক্ষিত বিবরণেও স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি পাঞ্জাব ও বাংলার দিকে উদ্বাস্তু বোঝাই ট্রেনের কথা উঠে এসেছে।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের সাধারণ মানুষের উদ্‌যাপনকে আজকের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করলে ভুল হবে। তখন স্বাধীনতা ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। বহু মানুষের কাছে জাতীয় পতাকা ছিল নতুন রাষ্ট্রের দৃশ্যমান প্রতীক। মানুষ নিজেদের বাড়ি, দোকান, সরকারি ভবন এবং অন্যান্য স্থানে পতাকা উত্তোলন করেছিল। শহরের রাস্তায় মানুষের সমাগম হয়েছিল, অনুষ্ঠান হয়েছিল, গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়েছিল।Raise Your Concern About this Content

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার ছবি ছিল একেবারেই আলাদা। কোন কোন সংবাদপত্রে ভারতের স্বাধীনতা লাভকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, পাশাপাশি তেমনি ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। কেরে জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি হিসাবেও দেখানো হয়েছিল। সেই সাথে কলকাতার হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতির দৃশ্য গুরুত্ব পেয়েছিল। এমনকি বিজ্ঞাপনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মোটর গাড়িতে বিনামূল্যে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার কথা ও ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পাশাপাশি শরণার্থীদের সমস্যা ও উঠে এসেছিল। শহর যেন দ্রুত উদ্বাস্তুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছিল। নতুন ক্যাবিনেট, পরিকল্পনা, দেশজুড়ে স্বাধীনতার উদযাপনের আবেগে গা ভাসিয়েছিলেন সর্বস্তরের দেশের মানুষ। শুধুমাত্র কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল এমনটা নয়, পাঞ্জাবেও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা চলেছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘর ছাড়েন। সেদিন মানুষ যেমন রাস্তায় নেমেছিলেন, পতাকা তুলেছিলেন, মিষ্টি বিলিয়ে ছিলেন, দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন, মিছিল করেছিলেন সভা করেছিলেন, রাতভর আলো আতশবাজি চলেছিল, মাদ্রাজে আগেই পতাকা উঠেছিল, তেমনি স্বাধীনতা কিছু মানুষের কাছে ছিল ঘর হারানো, নিরাপত্তাহীনতার যন্ত্রণা আর অনিশ্চিত জীবন যাপন।

তথ্যসূত্র

১. আনন্দবাজার পত্রিকা
২. দ্য হিন্দু আর্কাইভ
৩. রিডার্স ডাইজেস্ট
৪. দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
৫. দ্য আউটলুকস ইন্ডিয়া
৬. মডার্ন ইন্ডিয়া – ঐতিহাসিক সুমিত সরকার

- বিজ্ঞাপন -
শম্পা পাল
শম্পা পাল
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শম্পা পাল একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং বাংলা ফ্রিল্যান্স লেখিকা।জার্নালিজম এবং মাস কমিউনিকেশনে বর্তমানে স্নাতকোত্তর করছেন নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বাংলা পড়ানোয় অভিজ্ঞ শম্পা অ্যাডামাস রাইস টাইমস ম্যাগাজিনে কলম ধরেছেন। এছাড়া আজকাল পত্রিকা ও আরো খবরে সম্পাদকীয় কলমে লেখেন।। প্রবন্ধ পাঠে বিশেষ দক্ষ শম্পা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের যুব উৎসব প্রতিযোগিতায় ব্লক ও জেলা স্তরে প্রথম এবং রাজ্য স্তরে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। আকাশবাণী কলকাতা থেকে শিশুমহল ও গল্পদাদুর আসরে নজরুলগীতি বিভাগে উত্তীর্ণ।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বাংলা ক্যালেন্ডার

- বিজ্ঞাপন -spot_img

Most Popular

Recent Comments