জলধারা প্লাবনের মাঝে বয়ে চলা আনন্দকে আস্বাদন করতে বেরিয়ে পড়া যাক এই ভরা বর্ষায়। ঝর্ণা, পাহাড়ি নদী বর্ষায় অন্য রূপে আসে। তার কাছে সে ধরা দেয়, যে ধরা দিতে জানে। চোখে ঘন কালো মেঘের সৌন্দর্য্য, কানে বৃষ্টির দৃপ্ত উপস্থিতির শব্দ, সারা দেহ মন জুড়ে সেই সিক্ততাকে আলিঙ্গন, দূরে আরো দূরে শুধুই সবুজ আর সবুজের দিকে ছুটে চলা মন বাধ্য করবে এই মরশুমে তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়র অনুভুতিগুলিকে আবার সজল ধারায় প্রাণবন্ত করতে। তাই প্রচলিত ধারণার বাইরে বর্ষায় বৃষ্টি ভেজা ভ্রমণ এখন বিশ্ব জুড়ে উন্মাদনার এক নতুন কারক।
যেমন মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জী – বৃষ্টি সেখানে প্রায় প্রতিদিন তার বারোমাস্যার অভিধান লিখে রাখে। সবুজ শ্যামল প্রকৃতি সেখানে প্রতিদিনের বারিধারায় যেন আরো শুদ্ধ থেকে শুদ্ধ্বতর, মলিনতার কোনো দাগ জমতে দিতে পারেনা। অথবা কেরালার হাউস বোট ভ্রমণ। দুপ্রান্তে নারকোল গাছের অপরূপ বিস্তার দেখতে দেখতে যাত্রী চলে নতুন কোনো জগতে, বিস্ময়ে দেখে বৃষ্টিও সাদর আমন্ত্রণ জানায় । কিংবা দার্জিলিং এ কুয়াশা ভেজা সকাল, সফরসঙ্গী থাক বা না থাক,মাতৃস্নেহের ওমের মতোই মন জুড়ে থেকে যাবে তার রেশ। কম ভিড়ে শান্ত পরিবেশে এমন বর্ষার -ভ্রমণ এক নতুন অভিজ্ঞতার মর্মস্পর্শী জীবন্ত স্মৃতি হয়ে থাকবে। বাড়তি লাভ হবে অফ সিজেনের সহজলভ্য হোটেল রেস্তোরাগুলি। যেখানে জানলার পাশে বসে এক কাপ গরম চায়ের সাথে সময় কাটাবে বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি। যদি ট্রেকিংএ মন ছোটে তবে বৃষ্টি ভেজা অরণ্যের মধ্যে টিলা পাথরের সাথে কথা বলতে বলতে বেশ উপভোগ করা যাবে এমন মরশুম।
Raise Your Concern About this Contentপ্রচলিত ধারণার বাইরে : বিশ্ব জুড়ে বর্ষা ভ্রমণ
দেশের বাইরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় রয়েছে সবুজে ঢাকা ধানক্ষেতের শহর ভিয়েতনাম। এখানে হা লং বে বেশ উপভোগ্য। থাইল্যান্ড এর পাহাড়ি সৌন্দর্য্য ও দ্বীপ ভ্রমণ ও এই বর্ষার গন্তব্য হতে পারে। বর্ষায় স্কটল্যান্ড এর ক্যাসল হোক বা আয়ারল্যান্ড এর সবুজ উপত্যকা আর প্রাচীন দুর্গ আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
ভাতবর্ষের মধ্যে বর্ষার সেরা ঠিকানা হতে পারে কেরালা, গোয়া, মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক, মেঘালয়, দার্জিলিং/কালিম্পঙ। হাউস বোট ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য কেরালা, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত সমুদ্রের গর্জনের জন্য গোয়া, কর্ণাটক ও কেরালার জলপ্রপাত, মেঘালয়ের শ্বাসরুদ্ধকর জীবন্ত মূল সেতু আর দার্জিলিং কালিম্পঙের কুয়াশা মেঘ ও চায়ের বাগান বর্ষার সেরা ভ্রমণ ঠিকানা।
ঘরের কাছে বর্ষার আকর্ষণ
ঘরের কাছে এই বাংলায় গন্তব্য হতে পারে পুরুলিয়ার সবুজ পাহাড়, মুর্গাম ড্যাম যেখানে বর্ষার এক অনন্য রূপের সন্ধান পাওয়া যাবে। অথবা মন্ডল গাঁও বা শান্তিনিকেতন এর সাথে অবস্থিত গ্রাম গুলির সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় যেন আরও রূপ মেলে ধরে। বর্ষার ম্যানগ্রোভ অরণ্য আর মেঘে ঢাকা নদীর অপরূপ দৃশ্যের সাক্ষ্যি হতে চাইলে চলে আসতে হবে সুন্দরবন। আর দীঘা মন্দারমনির ভিড়বিহীন সমুদ্র সৈকত মেঘলা দিনে সমুদ্রের গর্জন মন ছুঁতে বাধ্য করবে।
এ রাজ্যের পার্শবর্তী জায়গা গুলোর মধ্যে দেখে নেওয়া যেতে পারে ওড়িশার কোনার্ক ও পুরীর ঐতিহাসিক স্থান গুলো। ঝর্ণা আর সবুজ অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের দিনরাত্রির গল্প শুনতে ঝাড়খন্ড অনন্য।
বর্ষা ভ্রমণের বিশেষ প্রস্তুতি :
- জল নিরোধক জুতো ব্যাগ ছোট দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া কাপড়
- ফার্স্ট এইড বাক্স মশা মাছি জংলী পোকার কামড় থেকে রক্ষ্যা করবার অয়েনমেন্ট ক্রিম।
- জল ও খাবার সংক্রান্ত সাবধানতা
- ভ্রমণ সংক্রান্ত বীমা
- হোটেল রিভিউ দেখে রুম বুকিং
- আবহাওয়া সংক্রান্ত অগ্রিম তথ্য
উপরোক্ত বিষয় গুলো ভ্রমণের পূর্বে একবার চোখ বুলিয়ে নিলে বর্ষা কালীন ভ্রমণের কিছু অসুবিধা দূর করা সম্ভব।
গরমের দাবদাহে তৃষ্ণাত্র মাটির ওপর বৃষ্টির জল পরে যে সুবাস আসে তাকে বলে পেট্রিকোর। মাটির এই বৃষ্টি ভেজা সুবাস জানান দিয়ে যায় প্রতীক্ষিত বর্ষার আগমন। প্রাকৃতিক রূপরেখা বলে যায় এবার আত্ম প্রতিফলনে সৃজনশীলতার সময় – সময় এবার হারিয়ে যাওয়ার কাছে দূরে বা আরো দূরে। প্রকৃতি প্রেমীর কাছে বর্ষা ভ্রমণ অপার্থিব জগতে হারিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ।
তথ্যসূত্র :
১) এই সময়
২) প্রথম আলো
৩) সময়ের আলো
৪) ভ্রমণ



