“আরেকটা বছর চলে গেল”—এই কথাটা আমরা প্রায় অভ্যাসের মতো বলি। কিন্তু সত্যিই কি একটা বছর শুধু চলে যায়? নাকি সে রেখে যায় কিছু না-বলা কথা, কিছু অপূর্ণ ইচ্ছে, কিছু অপ্রত্যাশিত শিক্ষা? ২০২৫ ঠিক সেই রকমই একটি বছর—যাকে বিদায় জানাতে গিয়ে মনে পড়ে যাচ্ছে অনেক কিছু, আবার ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে গিয়ে বুকের ভেতর জমছে একরাশ প্রত্যাশা।
২০২৫ ছিল একদিকে প্রযুক্তির দ্রুতগতির বছর, অন্যদিকে মানুষের ক্লান্তিরও বছর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের কাজ সহজ করেছে, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমাদের প্রশ্নও বাড়িয়েছে—আমি কি যথেষ্ট করছি? আমি কি ঠিক জায়গায় আছি? এই দ্বন্দ্বের মাঝেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি ২০২৫ আর ২০২৬-এর মাঝখানে, এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে।
কলকাতার রাস্তায় এই সময়টায় হাঁটলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। ডিসেম্বরের শেষে যেন একটু অন্যরকম হয়ে ওঠে। Park Street-এর আলো ঝলমল, ক্যাফেগুলোর ভিড়, বছরের শেষ রাতে মানুষের হাসি—সব মিলিয়ে একটা সম্মিলিত বিদায় ও স্বাগতের আবহ। আবার একই সঙ্গে Victoria Memorial-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয়, সময় কত দ্রুত চলে যায়, অথচ কিছু অনুভূতি ঠিকই থেকে যায়।
এই লেখা আসলে শুধু ২০২৫-এর রিভিউ নয়, আবার শুধুই ২০২৬-এর পরিকল্পনাও নয়। এটা সময়কে একটু থামিয়ে দেখার চেষ্টা। আমরা কী শিখলাম? কী হারালাম? আর নতুন বছরে আমরা কীভাবে আরও সচেতনভাবে বাঁচতে চাই—সেই কথাই এখানে আলোচনা করা হচ্ছে।
২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে যে “ব্যস্ত থাকা” আর “উন্নতি করা” এক জিনিস নয়। অনেকেই কাজ করেছে, কিন্তু শান্তি পায়নি। আবার কেউ কেউ কম কাজ করেও নিজের জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে। এই পার্থক্যটাই ২০২৬-এর জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
নতুন বছর মানেই নতুন রেজোলিউশন—এই ধারণাটা এখন অনেকটাই বদলাচ্ছে। এখন মানুষ “বড় বড় লক্ষ্য”-এর বদলে ছোট, বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের কথা ভাবছে। দিনে দশ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা, ফোন একটু কম ব্যবহার করা, নিজের শরীর আর মনের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখা—এই ছোট সিদ্ধান্তগুলিই হয়তো ২০২৬-কে সত্যিকারের নতুন করে তুলবে।
এই লেখার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—লোকাল বাস্তবতা। আমরা আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড দেখি, গ্লোবাল রিপোর্ট পড়ি, কিন্তু আমাদের শহর, আমাদের পাড়া, আমাদের চায়ের দোকান—এই জায়গাগুলোতেই আসলে সময়ের পরিবর্তন সবচেয়ে স্পষ্ট। College Street-এ বই কেনা মানুষের ভিড়, Howrah Bridge-এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত—এসবই বলে দেয়, বছর বদলালেও জীবনের ছন্দ চলতেই থাকে।Raise Your Concern About this Content
২০২৬-কে স্বাগত জানানো মানে তাই শুধু আতশবাজি নয়। এটা একটা মানসিক প্রস্তুতি—আরও সচেতন, আরও মানবিক, আরও বাস্তব হওয়ার প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতির কথাই এই লেখায় ধীরে ধীরে খুলে বলা হবে।
- ২০২৫ সালের বড় শিক্ষা ও ভুল
- প্রযুক্তি, কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
- কলকাতা ও শহুরে জীবনে বছরের শেষের অনুভূতি
- ২০২৬-এর জন্য বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা
- “স্লো লিভিং” ও সচেতন জীবনযাত্রা
- ব্যক্তিগত উন্নতির নতুন সংজ্ঞা
১. ২০২৫ সালের বড় শিক্ষা ও ভুল
২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে যে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। পরিকল্পনা ভাঙবে, মানুষ বদলাবে, পরিস্থিতি ঘুরবে। ভুল হয়েছে—কাউকে বেশি বিশ্বাস করেছি, কোথাও নিজেকে অবহেলা করেছি। কিন্তু এই ভুলগুলোই আমাদের পরের বছরের জন্য একটু বেশি বুদ্ধিমান করে তুলেছে।
২. প্রযুক্তি, কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
২০২৫-এ কাজের গতি বেড়েছে, কিন্তু বিশ্রাম কমেছে। ল্যাপটপ বন্ধ হলেও মাথা বন্ধ হয়নি। ২০২৬-এ তাই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার পাশাপাশি তার থেকে দূরে থাকার সাহসটাও দরকার।
৩. কলকাতা ও শহুরে জীবনে বছরের শেষের অনুভূতি
বছরের শেষ রাতে Park Street-এর রেস্তোরাঁগুলোতে বুকিং পাওয়া কঠিন।
উদাহরণস্বরূপ:
- Flurys, Park Street
Address: 18, Park Street, Kolkata – 700016
Phone: 033-2229-7640
এই ভিড়ের মধ্যেই কেউ একজন চুপচাপ কফির কাপে চুমুক দেয়, আর ভাবেন—এই বছরটা আমাকে কী দিল?
৪. ২০২৬-এর জন্য বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা
এই বছর আর “পারফেক্ট” হওয়ার চাপ নেই। বরং “প্রগ্রেস” হওয়াটাই লক্ষ্য। কম কিন্তু নিয়মিত—এই মন্ত্রটাই ২০২৬-এর।
৫. স্লো লিভিং ও সচেতন জীবনযাত্রা
হঠাৎ থেমে দাঁড়ানো, হাঁটতে হাঁটতে আকাশ দেখা, নিজের শহরটাকে নতুন করে চেনা—এই ছোট জিনিসগুলোই আগামী বছরের বড় প্রাপ্তি হতে পারে।
৬. ব্যক্তিগত উন্নতির নতুন সংজ্ঞা
সাফল্য মানে শুধু পদোন্নতি নয়। মানসিক শান্তি, সুস্থ সম্পর্ক, নিজের সঙ্গে সৎ থাকা—এসবই এখন উন্নতির অংশ।
উপসংহার:
২০২৫-কে বিদায় জানানো মানে তাকে ভুলে যাওয়া নয়। বরং তাকে সঙ্গে নিয়েই এগোনো। ২০২৬ আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে খোলা পাতার মতো—কী লিখব, কী বাদ দেব, সেটা আমাদের সিদ্ধান্ত। একটু ধীরে, একটু সচেতনভাবে যদি এগোই, তাহলে এই নতুন বছরটা সত্যিই নতুন হতে পারে।
References:
- World Health Organization (WHO)
Mental Health in a Changing World
(২০২৫ সালে মানসিক স্বাস্থ্য, কাজের চাপ ও ডিজিটাল লাইফস্টাইল সংক্রান্ত বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ) - United Nations – Sustainable Development Goals (SDGs)
Progress Report & Future Outlook
(২০২৫–২০২৬ সময়পর্বে টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য) - Pew Research Center
Technology, Work Culture & Human Behavior
(AI, work-life balance, digital fatigue ও সামাজিক আচরণ বিশ্লেষণ) - The Economic Times – Year in Review 2025
(ভারতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রবণতা) - The Telegraph India – Kolkata Life & Culture
(কলকাতার সামাজিক জীবন, Park Street culture, year-end city mood) - Kolkata Municipal Corporation (KMC)
City Infrastructure & Public Spaces
(শহরের পাবলিক স্পেস, ঐতিহাসিক স্থান ও নাগরিক জীবনের প্রেক্ষাপট) - Google Business Profiles & Official Websites
a) Flurys, Park Street
b) Victoria Memorial Hall
(লোকাল স্পট, ঠিকানা ও যোগাযোগ তথ্য যাচাইয়ের জন্য) - Indian Council of Social Science Research (ICSSR)
Urban Life & Social Change Studies
(শহুরে জীবন, সামাজিক পরিবর্তন ও মানুষের আচরণ)



