back to top
19 C
Kolkata
Tuesday, 13 January, 2026

Buy now

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

১৯৪৭ থেকে ২০২৫ – ভারতীয় সিনেমার যাত্রাপথ: রূপ, গল্প আর মন ছুঁয়ে যাওয়া স্মৃতি

 ১৯৪৭-১৯৬০: স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রে জাতীয়তাবাদ আর মানবিকতা

স্বাধীনতার পরে ভারতীয় সিনেমা যেন এক নতুন দিশা পেল। দেশভাগের যন্ত্রণা, নতুন জাতির আশার আলো—সবই সিনেমায় উঠে আসছিল।

কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি:

  • নীচা নগর (১৯৪৬) – ভারতীয় রিয়ালিজমের প্রথম পদক্ষেপ
  • মাদার ইন্ডিয়া (১৯৫৭)– মা আর মাটির প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগের প্রতীক
  • দো বিঘা জমিন (১৯৫৩)– গ্রামীন দুর্দশা আর শহরের নিষ্ঠুরত
Do Bigha Zameen Poster| ফটো: বাসু কর

এই সময়ে সলিল চৌধুরী, বিমল রায়, গুরু দত্তদের মতো পরিচালক আর সুরকাররা ভারতীয় সিনেমার ভিত্তি গড়ে তোলেন।
হিন্দি সিনেমা
নিচা নগর উইকিপিডিয়া
নীচা নগর আইএমডিবি
নীচা নগর প্রাইম ভিডিও
মাদার ইন্ডিয়া উইকিপিডিয়া
মাদার ইন্ডিয়া আইএমডিবি
মাদার ইন্ডিয়া প্রাইম ভিডিও
দো বিঘা জমিন উইকিপিডিয়া
দো বিঘা জমিন আইএমডিবি

১৯৬০-১৯৮০: রোম্যান্স, রঙিন পর্দা আর উত্তম-সুচিত্রার জয়জয়কার

এই সময়টা ছিল সিনেমার ‘সোনালী যুগ’। দর্শক সিনেমা দেখতে যেতেন নায়ক-নায়িকার প্রেমে পড়তে। সিনেমা মানেই তখন সংগীত, স্টাইল, আর নাটকীয়তা।

উল্লেখযোগ্য নাম:

Harano Sur Poster| ফটো: বাসু কর
  • হিন্দিতে: মুঘল-ই-আজম (১৯৬০),আরাধনা (১৯৬৯)
  • বাংলায়: হারানো সুর (১৯৫৭),সপ্তপদী (১৯৬১),অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি (১৯৬৭)

এই সময়ে উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, রাজেশ খান্না, হেমা মালিনী, মধুবালা—সবাই সিনেমার ‘আইকন’ হয়ে ওঠেন। গান, সংলাপ আর মেলোড্রামা ছাড়াও সামাজিক বার্তা দেওয়া হত নিঃশব্দে।
মুঘল-ই-আজম উইকিপিডিয়া
আরাধনা উইকিপিডিয়া
হারানো সুর উইকিপিডিয়া
সপ্তপদী উইকিপিডিয়া
অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি উইকিপিডিয়া

১৯৮০-২০০০: অ্যাকশন, কমার্শিয়াল সিনেমা আর ‘মাস’ কালচার

এ সময়ে সিনেমা পালটে গেল। বাস্তবতাকে খানিক দূরে রেখে এলো অ্যাকশন হিরো আর ডায়লগবাজি। সিনেমা হল বড়লোকি নয়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জায়গা হয়ে উঠল।

সালমান-শাহরুখ-আমির যুগের শুরু:

Hum Aapke Hain Kaun Poster| ফটো: বাসু কর
  • কেয়ামত সে কেয়ামত তক (১৯৮৮)
  • দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (১৯৯৫)
  • হাম আপকে হ্যায় কৌন (১৯৯৪)

এই সময়ে বাংলা সিনেমায়ও চমক ছিল—প্রসেনজিৎ, রচনার যুগ, যেখানে বাণিজ্যিক সাফল্যই ছিল মূল লক্ষ্য।
কিয়ামত সে কিয়ামত তাক উইকিপিডিয়া
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে উইকিপিডিয়া
হাম আপকে হ্যায় কৌন উইকিপিডিয়া

২০০০-২০১৫: গল্প বলার নতুন রূপ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমার উত্থান

এই যুগে পরিচালকরা সাহস পেলেন। ছোট ছোট গল্প, নতুন মুখ, বাস্তব চরিত্র নিয়ে সিনেমা তৈরি হল।

উল্লেখযোগ্য বাংলা ছবি:

  • হারবার্ট, অটোগ্রাফ, ভূতের ভবিশ্যত
    হিন্দি:
  • তারে জমিন পার, রং দে বাসন্তী, বরফি, রানী
Rang De Basanti Poster| ফটো: বাসু কর

OTT তখনও ছিল না, কিন্তু ইউটিউব আর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্বাধীন ছবি দেখার অভ্যাস তৈরি হচ্ছিল।
হারবার্ট (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
অটোগ্রাফ (চলচ্চিত্র) উইকিপিডিয়া
ভূতের ভবিষ্যৎ উইকিপিডিয়া
তারে জমিন পার উইকিপিডিয়া
রঙ দে বাসন্তী উইকিপিডিয়া
বরফি ! উইকিপিডিয়া
রানী উইকিপিডিয়া

২০১5-২০২৫: ডিজিটাল যুগ, ভাঙা গড়ার গল্প, আর OTT-র রাজত্ব

আজকের দিনে সিনেমা মানেই শুধু বড় পর্দা নয়। স্মার্টফোনে, ল্যাপটপে, OTT-তে সিনেমা দেখা যায়—যখন খুশি, যেমন খুশি।

উল্লেখযোগ্য বিষয়:

  • কোভিডের সময় সিনেমা হল বন্ধ থাকলেও সিনেমা থেমে যায়নি।
  • পাতাল লোক, সেক্রেড গেমস, গুল্লাক, রকেট বয়েজ প্রমাণ করে গল্পই আসল রত্ন।
  • বাংলা সিনেমাতেও নতুন দিশা এসেছে—ভিঞ্চি দা, দস্তোজী, অর্ধাঙ্গিনী, বল্লভপুরের রূপকথা

নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা যেমন অনিক দত্ত, অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখার্জি আমাদের দেখিয়েছেন, ভালো গল্প কখনোই পুরোনো হয় না।
পাতাল লোক উইকিপিডিয়া
সেক্রেড গেমস উইকিপিডিয়া
গুল্লাক উইকিপিডিয়া
রকেট বয়েজ উইকিপিডিয়া
ভিঞ্চি দা উইকিপিডিয়া
দস্তোজি উইকিপিডিয়া
অর্ধাঙ্গিনী উইকিপিডিয়া
ভল্লবপুরের রূপকথা উইকিপিডিয়া

সিনেমা মানেই আবেগ, স্মৃতি আর আমাদের নিজের একটা জায়গা

৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমা আমাদের কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে, ভাবিয়েছে। যেটা বদলায়নি, সেটা হল দর্শকের ভালোবাসা। সিনেমা মানেই প্রথম ডেট, কলেজ কাটিয়ে বন্ধুর সঙ্গে ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’, মায়ের চোখে জল, বাবার নস্টালজিয়া।

শেষ কথা:
চলচ্চিত্র শুধু গল্প নয়, এ আমাদের সময়ের কণ্ঠস্বর। ১৯৪৭ থেকে আজ ২০২৫—সিনেমা আমাদের সমাজ, মন ও অনুভবের বিবর্তনের এক জাদুকরী আয়না। এই আয়নার দিকে তাকিয়ে আমরা নিজেদের চেনা যায়, সময়কে স্পর্শ করা যায়।

উজ্জয়িনী হালদার
উজ্জয়িনী হালদার
ইলেকট্রনিকসের শিক্ষার্থী উজ্জয়িনী এক প্রগতিশীল কন্টেন্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গল্প বলার চাতুর্যের একটি অনন্য সমন্বয় গড়ে তুলেছেন। পড়াশুনোর পাশাপাশি স্বাধীন লেখিকা উজ্জয়িনী ডেটা ভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে আকর্ষণীয় ডিজিটাল গল্প তৈরি করেন। জটিল ধারণাগুলোকে সহজে বোঝানোর জন্য চিত্তাকর্ষক কন্টেন্ট তৈরিতে পারদর্শী উজ্জয়িনীর লেখনীতে বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা ও সৃজনশীলতা সমন্বয় পাওয়া যায়। সাধারণ পাঠকদের জন্য কঠিন প্রযুক্তিগত বিষয় অনুবাদ করা কিংবা একাধিক প্রকল্প পরিচালনা, সকল কাজেই তিনি কৌতূহলী ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করে চলেছেন।

প্রাসঙ্গিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সাথে থাকুন

110FansLike
105FollowersFollow
190SubscribersSubscribe
- বাংলা ক্যালেন্ডার -
- বিজ্ঞাপন -spot_img

সাম্প্রতিক