একবিংশ শতাব্দীতে ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের যোগ, কর্মজীবন এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহন করার ধরণকে বদলে দিয়েছে। আমাদের দেশের উচ্ছভিলাশী “ডিজিটাল ইন্ডিয়া” নামক উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হল জাতীয় প্রশাসন, সামাজিক পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক পরিষেবার () সঙ্গে ইন্টারনেট প্রযুক্তির মেলবন্ধন করা। এই সার্বিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে মুষ্টিমেয় নাগরিকের মনে প্রশ্ন জাগে, ডিজিটাল যুগে নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত?
ডিজিটাল যুগে নাগরিক অধিকারের সাংবিধানিক ভিত্তি
আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থার শিরোমণি হল ভারতীয় সংবিধান, যা দেশের সকল নাগরিকদের বেশ কিছু মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই অধিকারগুলি ডিজিটাল যুগেও প্রযোজ্য।
বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা (ধারা নং ১৯(১)(ক)): ভারতীয় সংবিধানের এই ধারা অনুযায়ী, সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মতো ডিজিটাল ফরম্যাটে সকল নাগরিক স্বেচ্ছায় যেকোনোরকমের তথ্যপ্রকাশ এবং তথ্যগ্রহনের অধিকার লাভ করেন। তবে এই অধিকার পরম অধিকার নয় এবং ১৯(২) অনুচ্ছেদের অধীনে জনশৃঙ্খলা, সার্বভৌমত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদির জন্য “যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ” সাপেক্ষে।
জীবনও ব্যাক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (ধারা নং ২১): এই ধারা নাগরিকদের গোপনীয়তা, মর্যাদা এবং স্বায়ত্তশাসনের মৌলিক অধিকার প্রদান করে, যা অনলাইন প্রেক্ষাপটেও প্রযোজ্য।
আইনের চোখে সমতা(ধারা নং ১৪): এই ধারা আইনের অধীনে সমান আচরণ নিশ্চিত করে, যা সমাজে অংশগ্রহণের জন্য ডিজিটাল অ্যাক্সেস অপরিহার্য হয়ে উঠার সাথে সাথে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

ডিজিটাল বাক স্বাধীনতা
ডিজিটাল দুনিয়া বক্তৃতা এবং বিতর্কের ক্ষেত্র বিভিন্ন অর্থে প্রসারিত করেছে, কিন্তু এটি মতনিয়ন্ত্রন এবং শব্দ বিবাচনের প্রতি প্রশ্ন করেছে যার নবীনতম নিদর্শন পাওয়া যায় শ্রেয়া সিনহাল বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (২০১৫) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, যেখানে আদালত তথা প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৬এ কে অসাংবিধানিকভাবে অস্পষ্ট এবং অনলাইন বক্তৃতা দমনের জন্য বাতিল করে দেয়।
এই রায়টি পুনরায় নিশ্চিত করে যে অনলাইন বক্তৃতা ১৯(১)(ক) ধারার আওতায় রয়েছে এবং ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে বক্তৃতা দণ্ডিত করার জন্য রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার উপর সীমা আরোপ করেছে।
সাম্প্রতিক উদাহরণ হল কুণাল কামরা বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলা, যেখানে মধ্যস্থতাকারী নিয়মের সংশোধনীকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল যা অনলাইন বিষয়বস্তুর নির্বিচারে অপসারণের দিকে পরিচালিত করতে পারে। আদালতগুলি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা সাংবিধানিক স্বাধীনতার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।

ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা
ডিজিটাল সমাজে নাগরিক স্বাধীনতার আরেকটি ভিত্তি হল গোপনীয়তা। যদিও সংবিধানে স্পষ্টভাবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়নি, সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি কে.এস. পুট্টস্বামী (K.S. Puttaswamy) বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (২০১৭) মামলার ২১ নং ধারার অধীনে এটিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায় নিশ্চিত করেছে যে ডিজিটাল ডেটার গোপনীয়তা, স্বায়ত্তশাসন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগসহ জীবন এবং স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত।
ভারত ইতিমধ্যে “ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন, ২০২৩” প্রণয়ন করেছে, যা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি যুগান্তকারী আইন। এই আইন ব্যক্তিদের তাদের তথ্যের উপর অধিকার প্রদান করে এবং এই ধরনের তথ্য পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

সাংবিধানিক অধিকার এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সেতুবন্ধন
ডিজিটাল অধিকারগুলি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার বাইরেও বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যের অনুপ্রবেশ, স্বচ্ছতা এবং সুযোগের সমতা।
- তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইন সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত তথ্যে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি করে। যা ডিজিটাল শাসনের যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক হাতিয়ার।
- উদীয়মান বিচারিক ব্যাখ্যা যেমন ডিজিটাল অন্তরভুক্তিতে ধারা ২১ এর একটি অপরিহারজ উপাদান হিসেবে স্বিক্রিতি দেওয়া যা প্রকাশ করে যে প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ নিজেই মর্যাদা এবং অংশগ্রহনের জন্য মৌলিক হতে পারে। Raise Your Concern About this Content
বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা
- বিধান বনাম অধিকার: ক্ষতিকারক অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা করা এখনও চ্যালেঞ্জিং। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে আইনগুলি সেন্সরশিপের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।
- তথ্য সুরক্ষা অনুশীলন: দেশে একটি ডেটা সুরক্ষা আইন বহাল থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নির্ধারণ করবে যে তথ্যসুরক্ষা আসলে কতটা শক্তিশালী হবে।
- রাষ্ট্রীয় নজর দারি: ভারত সরকার প্রস্তাবিত সঞ্চার সাথী স্মার্টফোন অ্যাপ অর্ডারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মতো সাম্প্রতিক বিতর্কগুলি সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় অভিযান এবং নজরদারি সম্পর্কে জনসাধারণের আশঙ্কাকে তুলে ধরেছে।
References
(27 Dec, 2025). (n.d.). Drishti IAS.
Ellis-Petersen, H. (2025, December 3). India revokes order to preload smartphones with state-owned security app. The Guardian.
Jha, M. (2025, August 13). Supreme Court defines digital inclusion as fundamental right. https://spectrumbooks.in/news-views/english/indian-polity/supreme-court-defines-digital-inclusion-as-fundamental-right?utm
Kamble, R. (2025). Digital literary and personal freedom with legal issues. International Journal of Law Justice and Jurisprudence, 5(2), 234–239. https://doi.org/10.22271/2790-0673.2025.v5.i2c.237
Mulla, A. a. S. (2025, October 24). Digital Rights and the Indian Constitution: Law, Privacy, and Equality in the Information Era – Life and Law. Life and Law. https://lifeandlaw.in/digital-rights/?utm
Sflc.In. (2019, June 17). Any regulation of online speech in India must safeguard the rights to free speech and privacy. Scroll.in. https://scroll.in/article/921709/any-regulation-of-online-speech-in-india-must-safeguard-the-rights-to-free-speech-and-privacy?utm
Wikipedia contributors. (2025, November 16). Shreya Singhal v. Union of India. Wikipedia. https://en.wikipedia.org/wiki/Shreya_Singhal_v._Union_of_India?utm
Wikipedia contributors. (2025a, September 5). Kunal Kamra v. Union of India. Wikipedia. https://en.wikipedia.org/wiki/Kunal_Kamra_v._Union_of_India?utm



